• মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭  |   ৩৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নোয়াখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলন

  আরিফ সবুজ, স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী

০৪ এপ্রিল ২০২১, ১৯:৫৬
ছবি : দৈনিক অধিকার

প্রতি বছরের মতো এবারও তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে নোয়াখালীতে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে নোয়াখালীর তরমুজ যাচ্ছে সারাদেশসহ দেশের বাহিরে। এ বছর জেলার মোট ৯টি উপজেলার সকল উপজেলায় কমবেশি তরমুজের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর ও সুবর্ণচর উপজেলায় তরমুজ চাষের হার লক্ষ্যনীয়। এ দুই উপজেলায় এবার বৈরিমুক্ত আবহাওয়া বিরাজ করায় বীজ ও গাছের কোনো ক্ষতি হয়নি। বিধায় তরমুজের ফলনও হয়েছে অন্যান্য সময়ের চেয়ে প্রায় তিন থেকে চার গুণ বেশি।

সুবর্ণচর উপজেলার চরকাজী মোখলেস, চরবৈশাখী এবং চর নোমান ও সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের পূর্ব শূল্যকিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ শুধু তরমুজ। যতদূর চোখ যায় ততদূর দেখা যায় তরমুজের সমারোহ। ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে রাস্তার উপর এনে ট্রাকে জড় করছে কৃষকেরা। সেখান থেকে পাইকাররা গুণে নিচ্ছেন এলাকার বাইরের বাজার এবং অন্যান্য জেলায় বিক্রি করার জন্য। কৃষকের চোখে-মুখে তাই চিকচিক করছে হাসি। খুশিতে তারা সারাদিন পরিশ্রম করেও কোনো ক্লান্তি অনুভব করছেন না।

শুধু কৃষক একাই নয়, তার পরিবার-পরিজন সকলেই খুশিতে আত্মহারা। কারণ গত দু’বছরের লোকসান পুষিয়ে এ বছর তারা তরমুজ বিক্রি করে ভালো লাভ করছেন।

তরমুজচাষি ইব্রাহীম খলিল জানান, এ বছর প্রায় দেড় হাজার শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় দশ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন প্রায় পঁচিশ লাখ টাকার তরমুজ। আরও বিক্রি করতে পারবেন প্রায় ৬-৭ লাখ টাকার। খরচের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারছেন বলে খুশিতে আত্মহারা তিনি।

অন্য তরমুজচাষি আবদুল কাদের এবং রবিউল হোসেন বলেন, তারা চাষি ইব্রাহীম থেকে কম পরিমাণ তরমুজ চাষ করলেও এ বছরের তরমুজ বিক্রি করে খরচের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি টাকা লাভ করেছেন। তবে তারা জানান, সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশার কারণে পাইকাররা পরিবহন খরচ বেশি দিচ্ছে বলে তাদেরকে এ অজুহাতে মূল্য কম দিচ্ছে। নয়তো তারা এরচে অধিক লাভবান হতেন।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশরেফুল হাসান চন্দন বলেন, সদর উপজেলায় এবার প্রায় পাঁচশ বিশ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে চাষিরা ২/৩ ধাপে তরমুজ বিক্রি করেছে। আরও ১৫/২০ দিন বৃষ্টি না হলে চাষিরা আরও ২/৩ ধাপে তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন। ফলে গত দুইবার তরমুজ চাষে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবার তারা ক্ষতি পুষিয়ে লাভ করতে পারবেন। তবে গত দুইবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক চাষি এ বছর তরমুজের চাষ না করে বোরো ধান, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি চাষে মনোনিবেশ করেছেন। ধান এবং এ সকল পণ্যের বাজার বেশি হওয়ায় তাদেরও লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন জানান, উপজেলায় প্রায় তেরোশ’ নব্বই থেকে চৌদ্দশ’ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন চাষিরা। হেক্টর প্রতি তাদের খরচ হয়েছে নব্বই থেকে এক লক্ষ টাকা। আর বিক্রি হচ্ছে দুইলক্ষ থেকে দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা। হেক্টর প্রতি গড় লাভ প্রায় এক লক্ষ থেকে এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা। হেক্টর প্রতি উৎপাদন প্রায় ২৫-৩০ মেট্রিক টন।

তরমুজের বাম্পার ফলন নিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল হক জানান, জেলার মোট নয়টি উপজেলার ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর তরমুজের চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ২৮ থেকে ৩০ টন। সরকারের পক্ষ থেকে চাষিদের সার, বীজ সরবরাহ এবং মাঠপর্যায়ে কর্মীদের যথাযথ দায়িত্ব পালন, বৈরিমুক্ত আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এ বছর জেলায় তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনেকটাই জৈব সার প্রয়োগ করায় এবং তরমুজ ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহার না হওয়ায় এ বছরের তরমুজ সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যসম্মত বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি এ বছরের তরমুজ উৎপাদন এবং রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড