• মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭  |   ৩৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ছবি আঁকা যার নেশা

  শাকিল রেজা, মেহেরপুর

০৪ এপ্রিল ২০২১, ১৮:৩৩
চারুশিল্পী
চারুশিল্পী তারিন সুলতানা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

মায়ের নকশি কাঁথা তৈরি করা দেখে ছবি আঁকার আগ্রহ জন্মায় মেয়ের। মায়ের হাত ধরেই ছবি আঁকার হাতেখড়ি ঘটে তার। প্রতিদিন স্কুল থেকে এসে ছবি আঁকা শিখতেন মায়ের কাছে। সেই থেকে শুরু। এরপর বয়ে গেছে অনেক বেলা। সেই ছোট মেয়েটি এখন বড় হয়ে গিয়েছে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছবি আঁকা নেশায় পরিণত হয়েছে তার।

২৪ বছর বয়সী সেই তারিন সুলতানা এখন পরিচিত চারুশিল্পী হিসেবে। মেহেরপুরের মানুষ তাকে চারু তারিন নামেই চেনে।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও ছবি আঁকার কারণে কখনও মেহেরপুর আবার কখনও কুষ্টিয়াতে থাকেন তারিন। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট সে। বর্তমানে গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী সে।

তারিন মায়ের কাছে শেখা সুঁই-সুতোর কাজ শিখেছিল। সেই কাজের পাশাপাশি রং তুলি আর পেন্সিল দিয়ে ছবি আঁকেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ অন্তরে ধারণ করেন বলেই তিনি বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকতে ভালোবাসেন। আর সেই ভালোবাসা থেকে মুজিব শতবর্ষে সুঁই-সুতো দিয়ে এঁকেছেন জাতির পিতার নানা আঙ্গিকের শত ছবি। তারিনের ইচ্ছা বঙ্গবন্ধুর এক হাজার ছবি আঁকা। নিজে আঁকার পাশাপাশি ছবি আঁকা শেখাচ্ছেন অন্যদেরও। বর্তমানে তার কাছে ছবি আঁকা শিখছে ৫০জন মেয়ে।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে মুজিববর্ষের শুরু থেকেই তিনি তার ছবি আঁকা শুরু করেন। প্রথম অবস্থায় রং-তুলি দিয়ে আঁকলেও এখন সুঁই-সুতা দিয়ে আঁকছেন। বঙ্গবন্ধুর এই ছবিগুলো বিতরণ করবেন মুজিবপ্রেমীদের মধ্যে। ইতোমধ্যে তার আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি তিনি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি খুলনা, মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ শতাধিক মুজিবপ্রেমীর হাতে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে বিতরণ করেছেন। তার আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি এপার বাংলা-ওপার বাংলায় বিনামূল্যে ৩৭টি বইয়ের প্রচ্ছদ হিসেবেও ছাপা হয়েছে।

তারিনের সাথে তার কাজের প্রতি আগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই আশেপাশের কেউ আমাকে দেখতে পারতো না। সবাই আমাকে এড়িয়ে চলতো, আমার বন্ধুরা আমাকে খেলতে নিতো না। তারা খেলত আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতাম। কিন্তু কখনো তাদের কাছে সঙ্গে খেলে সময় কাটানোর সুযোগ হতো না। সব সময় মন খারাপ করে বসে থাকতাম।

তারপর থেকেই আমি জেদ করে ভেবেছিলাম আমিও এমন কিছু একটা করবো যাতে করে সবাই আমাকে নিয়ে গর্ব করে। সেই থেকে শুরু হয় আমার পথচলা। তারপর থেকে আমি মায়ের কাছ থেকে ছবি আঁকা শিখি। আমি ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতে ভালবাসি। ছবি আঁকা আমার পেশা নয়, আমার নেশা হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, একসময় আমি ছবি আঁকতাম মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য। সবসময় চেষ্টা করতাম যাতে ছবিটা সুন্দর হয়। পেন্সিলে আঁকা ছবি প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার মনোবাসনা নিয়ে অনেকেই আসতেন আমার কাছে।

তারিন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে মুজিববর্ষের শুরু থেকে আমি বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকা শুরু করি। বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর গৌরবোজ্জ্বল চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই আমার এই প্রচেষ্টা। এক হাজার ছবি এঁকে প্রদর্শনী করার ইচ্ছে আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন একটা স্বাধীন বাংলাদেশের, একটা স্বনির্ভর বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তাই আমার ইচ্ছে প্রদর্শনীর উদ্বোধনী করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তাহলে আমার স্বপ্নপূরণ হবে।

তারিনের মা জাহানারা বেগম বলেন, মেয়ে নানা প্রতিভার অধিকারী হলেও সে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ তার কাছে সেরা। আমরা তাকে নিয়ে গর্ববোধ করি।

তারিনের প্রতিবেশীরা জানান, তারিনের এই প্রতিভা দেখে আমরা আপ্লুত হই। একটা মানুষ সামনে বসিয়ে রেখে হুবহু তার মতই ছবি আঁকা করা সত্যিই অনেক প্রতিভার ব্যাপার। আমরা তার এই প্রতিভাকে সাধুবাদ জানাই। দোয়া করি সে যেন অনেক বড় শিল্পী হতে পারে।

তারিনের বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসার এই বিরল দৃষ্টান্তের বেশ প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান বলেন, তারিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। সেই সাথে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড