• শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অনাবৃষ্টিতে দিশেহারা চাষিরা

  মো. আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি

০৪ এপ্রিল ২০২১, ১৫:৫২
চাষি
ছবি : দৈনিক অধিকার

ঝালকাঠিতে অনাবৃষ্টিতে পানি সংকটের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাঙ্গী-তরমুজসহ রবি মৌসুমের বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য চাষিরা। প্রচণ্ড রোদ আর অনাবৃষ্টি এবং খাল-বিলের পানি কমে যাওয়ায় ফসলের ক্ষেত ফেটে খাঁ খাঁ করছে। এতে বাঙ্গী-তরমুজসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের গাছ শুকিয়ে পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। এসব কারণে আশানুরূপ ফলন পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার বাঙ্গী চাষ করা হয়েছে সদর উপজেলায় ১০ হেক্টর, নলছিটি উপজেলায় ১৫ হেক্টর, রাজাপুরে ২০ হেক্টর ও কাঁঠালিয়ায় ৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়া সদর উপজেলায় ৩ হেক্টর, নলছিটি উপজেলায় ৯ হেক্টর, রাজাপুরে ১০ হেক্টর ও কাঠালিয়ায় ১ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করা হয়েছে।

এছাড়াও চলতি মৌসুমে ৮ হাজার ৩শ ৪৫ হেক্টর জমিতে করলা, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, ঢেঁড়স, বরবটি, পুইশাক, লতিরাজ কচুসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও লতাকৃষির চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র মতে, এ উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে ৫ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে রবিশস্যের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুক্তাগড় ও মঠবাড়ি ইউনিয়নে আবাদ বেশি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার একেশ্বারা ও বামনকাঠি এ দুই গ্রামে প্রায় ২৫ বিঘা জমির রবিশস্য পানির অভাবে রোদের তাপে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকার কৃষকরা কয়েক লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বামনকাঠি ও একেশ্বারা গ্রামের শাখাওয়াত ফরাজি, আজিজ হাওলাদার, খলিল হাওলাদার, দেলোয়ার হাওলাদার ও এনামুল হোসেনসহ একাধিক কৃষক জানান, কৃষি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, শক্তি ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে বিভিন্ন পরিমাণে ঋণ নিয়ে তারা এ বছর ১০ বিঘা জমিতে বাঙ্গী, ৪ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী, ৪ বিঘা জমিতে তিল, ২ বিঘা জমিতে মুগ ডাল, ১ বিঘা জমিতে ছোলা, ১৫ কাঠা জমিতে ঢেঁড়স, ৫ কাঠা জমিতে মরিচের চাষসহ অন্যান্য রবিশস্য চাষ করেছে।

কৃষকরা প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ঠিক সময়ে বৃষ্টি হলে ও ভালো ফলন হলে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ফসল উৎপাদন হতো। কিন্তু এ বছর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাজাপুরে কোন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফসলের গাছ বৃদ্ধি পায়নি। ফুল ও ফল রোদের তাপে ঝরে পড়ে গিয়েছে। ফলন যা হয়েছে তাও পুষ্টিকর হয়নি। কাছাকাছি খাল না থাকায় সেচের ব্যবস্থাও করা সম্ভব হয়নি। শেষ সময়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে মূলত উঁচু এলাকা নির্বাচন করা হয় রবিশস্যের জন্য। কিন্তু এবার বৃষ্টি না হওয়ায় এবং আশপাশের নালা শুকিয়ে যাওয়ায় কাছাকাছি পানি না পাওয়ায় পরিমাণ মত পানি সেচ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদন হয়নি। যে ফলন হয়েছে তাতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পাওয়া যেতে পারে। এ বছর ওই এলাকার কৃষকদের লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে বলেও জানায় তারা। লোকসান পুষিয়ে উঠতে ওই এলাকার কৃষকরা সরকারের কাছে বিশেষ প্রণোদনা পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী কৃষক সাখাওয়াত ফরাজী বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের আওতায় কোন প্রদর্শনী ক্ষেত করলে সে বিষয়ে মোটামুটি খোজ খবর নেন কৃষি কর্মকর্তারা। কিন্তু ব্যক্তিগত উদ্যোগে কৃষি চাষ করলে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কখনও যোগাযোগ করেন না। গত বছর আমার প্রায় ১৩ বিঘা জমির রবিশস্য জোয়ারের পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু কৃষি কর্মকর্তারা একবারও খোঁজ নেয়নি। এবারও আমার প্রায় ১৪ বিঘা জমির রবিশস্য রোদের তাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত কোন খোজ খবর নেয়নি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর বলেন, কৃষকদেরকে ফসলের শত্রু পোকা নিধন ও প্রয়োজনীয় সেচের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই এলাকায় কাছাকাছি খাল না থাকায় তুলনামূলক ফসল উৎপাদন কম হতে পারে। উপজেলায় সার্বিক দিক থেকে এ বছর আবাদ বেশী হয়েছে এবং গত কয়েক বছরের তুলনা ফলনও ভালো হয়েছে। এ বছর জোয়ারের পানিও দেরিতে এসেছে। পর্যাপ্ত সেচের অভাবে দু’এক জায়গায় সমস্যা হতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্তরা স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের সাথে যোগাযোগ করলে যাচাই বাছাই করে তাদেরকে প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে বলে জানান তারা। তারা আরও জানান, উপজেলায় এ বছর মোট ৫ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে রবিশস্য চাষ করা হয়েছে। সার্বিকভাবে ফলনও ভালো হয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড