• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাবার ড্যামে বদলে গেছে বাগমারার চিত্র

  রাজু আহমেদ, রাজশাহী

০৪ এপ্রিল ২০২১, ১৫:৪৯
রাবার ড্যামে বদলে গেছে বাগমারার চিত্র
রাবার ড্যাম (ছবি : প্রতীকী)

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ফকিরানী নদী। বর্ষা যেতে না যেতেই ছোট্র নদীটি শুকিয়ে যায়। দুই ধারে বিস্তীর্ণ উর্বর জমি থাকলেও সেগুলো শুধু পানির অভাবে অকেজোই পড়ে থাকে। বোরোর মওসুম না আসা পর্যন্ত নদী পাড়ের কৃষকদের এক রকম হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয়। আর জেলেরা যে যার মতন অন্য পেশায় চলে যায়।

যদিও উপজেলাটির বিশাল এলাকায় এখন দিনের পরিবর্তন ঘটেছে। নদী তীরের কৃষকরা বর্তমানে সারা বছর কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন। আর জেলেরা বর্ষ চলে গেলেও এখনো ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মাছ ধরা নিয়ে। এর সবই সম্ভব হয়েছে একটি রাবার ড্যামের কারণে। যার সুফল পাচ্ছে হাজার হাজার কৃষক ও জেলে পরিবার।

সরেজমিনে নদীতীরবর্তী এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় কৃষক ও জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এলাকাটির আমুল এই পরিবর্তনের কথা। জানা গেছে, বিশাল বাগমারা উপজেলার ভিতর দিয়ে এঁকে-বেঁকে যে নদী প্রবাহিত হয়েছে তাকে এলাকার লোকজন ফকিরানী নদী বলেই চেনে। এটি নওগাঁর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আত্রাইয়ের শাখা নদী।

নওগাঁর প্রসাদপুর-জোতবাজার হয়ে এটি ফকিরনী নদী নাম ধারণ করে বাগমারার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাগমারার শ্রীপুর এলাকায় গিয়ে বারনই নদী নাম ধারণ করে নলডাংগা নাটোর হয়ে যমুনার সাথে মিশেছে। ফকিরানী ও বারনই নদী মিলে বাগমারায় এই নদী প্রবাহিত হয়েছে প্রায় ৫০ কি:মি: এলাকা জুড়ে।

বাগমারা উপজেলার বিএমডিএর উপ সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, নদী সংলগ্ন বিশাল এই এলাকার হাজার হাজার কৃষকের বর্ষা চলে যাওয়ার পর হাতে তেমন কোনো কাজ থাকে না। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় এক মাত্র পানির অভাবে তারা নদী সংলগ্ন এলাকায় চাষাবাদের কোনো কাজ করতে পারে না।

তিনি জানিয়েছেন, বিগত দুই বছর পূর্বে নাটোরের নলডাংগা এলাকায় বিএমডিএর উদ্যোগে রাবার ড্যাম নির্মাণ করার ফলে নলডাংগা, বাগমারা ও মান্দা এলাকার হাজার হাজার কৃষকের ভাগ্য খুলে গেছে। তারা এখন নদীর চর এলাকায় আলু, বেগুন, পিয়াজ, মরিচ, সরিষাসহ প্রায় ১৪/১৫ প্রকার রবি শস্য উৎপাদন করতে পারছে।

তার মতে, তিন উপজেলার প্রায় পঁচিশ হাজার হেক্টর জমিতে রাবার ড্যামের সৃষ্ট পানি দিয়ে এসব রবি শস্য আবাদ হচ্ছে। শুধু রবি শস্যই নয়। এসব এলাকার জেলেরা এখন সারা বছর নদীতে পানি পেয়ে মাছ শিকার করে সহজেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন।

কাচারীকোয়ালীপাড়ার কৃষক আমিনুল হক, ইয়াছিন আলী ও কুদ্দুস জানান, আগে বর্ষা চলে গেলে এই সময় নদী পুরোটাই শুকিয়ে যায়। তখন নদীতে কৃষক বিছন (বোরো চারার বীজ তলা) করত। এখন রাবার ড্যামের ফলে নদীতে পানি থাকায় এই পানি দিয়ে নদী পাড়ের কৃষকরা অতি সহজেই বিভিন্ন রবি শস্য উৎপাদন করতে পারছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, সরকারের রাবার ড্যাম প্রকল্প চালু হওয়ায় কৃষক মৎস্যজীবীসহ নিম্নআয়ের লোকজন সহজেই উপকৃত হতে পারছে। এর ফলে কৃষি ও মৎস্য খাতে বাড়তি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

বিএমডিএর এই কর্মকর্তার মতে, রাবার ড্যাম প্রকল্প আরও সম্প্রসারণ করে পাওয়ার পাম্প দিয়ে নদী সংলগ্ন খালের ভিতর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করা হলে অন্তত ৫ কি:মি: এলাকার উর্বর জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিএমডিএর মাধ্যমে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

বাগমারা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, বিএমডিএর রাবার ড্যাম প্রকল্প কৃষক মৎস্যজীবীসহ নিম্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হলেও কিছু কিছু এলাকার স্লুইসগেইট পুরাতন ও অকেজো হওয়ায় রাবার ড্যামে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই সব স্লুইস গেইট দিয়ে অতি সহজেই বিল এলাকায় পানি ঢুকে বিলের আবাদী জমি তলিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন : হারিয়ে যাচ্ছে ‘গাড়িয়াল ভাই’ ও গরু-মহিষের গাড়ি

তিনি বাগমারা এলাকার অকেজো স্লুইস গেট গুলো সংস্কার করে নতুন গেইট নির্মাণ করে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন। তার মতে, রাবার ড্যাম প্রকল্প সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই প্রকল্পকে পরিকল্পনার মাধ্যমে আরও সম্প্রসারণ করা হলে শুষ্ক মওসুমে আরও অনেক অনাবাদী জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

ওডি/কেএইচআর

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড