• মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চাঁদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ

  শিহাবুদ্দীন সেলিম

০৩ এপ্রিল ২০২১, ১০:০৯
df
ছবি : দৈনিক অধিকার

জোটে যদি একটি পয়সা খাদ্য কিনিও খুধার লাগি, জোটে যদি দুটি পয়সা অর্ধেকে ফুল কিনে নিও হে অনুরাগী। হ্যাঁ এক সময়ে এদেশে ফুল কেনার মানুষ খুঁজে পাওয়া না গেলেও আজ তা ফুল প্রেমির হাত গড়িয়ে বাণিজ্যিক পন্যের দোর গোড়ায় পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে।

বলছি সূর্যমুখীর কথা। এর সৌন্দর্য নজরকাড়ে ফুল প্রেমিক জনসাধারণের, তাঁর সাথে সৌন্দর্য বাড়ে কৃষি মাঠের। মাঠ জুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহে চোখ জুড়ায় দর্শনার্থীদেরও। আর এ দৃশ্যের দেখা মিলছে চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় । এর মধ্যে কচুয়া উপজেলার ডুমুরিয়া, কালঁচো, সাচার, পালাখাল, রহিমানগরহ বিভিন্ন এলাকায় হচ্ছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ।

কম সময় আর স্বল্প খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় চাষীরাও বেশ খুশি। তবে শুধু কচুয়াতেই নয়, সূর্যমূখী ফুলের চাষ হয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক বড় মসজিদ সংলগ্ন উত্তর পাশের মাঠে, হাটিলা ইউনিয়ন, ৫নং সদর ইউনিয়ন, কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়ন ও চাঁদপুর সদরের কুমারডগী গ্রামেও।

সূর্যমুখীর নজরকাড়া সৌন্দর্য পুলকিত করে যে কাউকেই। সেই সাথে তৈল হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, সয়াবিন তৈলের চেয়েও সূর্যমুখীর তৈল বেশি পুষ্টিগুনসম্পন্ন। আর্থিক ভাবে লাভজনক হওয়ায় এ ফসলের চাহিদা বেড়েই চলেছে। চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। কচুয়া উপজেলায় ৩০ জন চাষী এ ফুল চাষ করেছেন।

চাষিরা বলেন, সূর্যমূখী চাষে এক বিঘা জমিতে খরচ হয় ৮-১০ হাজার টাকা। সামান্য রাসায়নিক সার আর দুইবার সেচ দিতে হয়। নভেম্বরে বীজ বপনের পর ৮০ থেকে ৯৫ দিনের মধ্যে তোলা যায়। প্রতি এক বিঘা জমি থেকে উৎপাদিত বীজ থেকে আয় হবে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। সূর্যমুখী গাছ জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। অন্য ফসলের তুলনায় খরচ কম, সে কারণে লাভ বেশি হওয়ার কারণে এই ফুলের চাষে অধিক মনোযোগী হয়ে উঠেছেন এখানকার চাষিরা। আগামীতে আরও চাষের আগ্রহ প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।

ফুল চাষিরা জানান, জেলার সর্বত্র সূর্যমুখী চাষ বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ফুলেই পাওয়া যায় বীজ। আর সেই দৃষ্টিকাড়া ফুলের মধ্যে কেউবা সেলফি, কেউবা স্বজন নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছবি তুলতে ভিড় করছে সব বয়সের নারী পুরুষ। সরকারি কর্মকর্তারাও পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানে ছুটে যাচ্ছেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুর রহমান জানান, জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৭ একর ভূমিতে এবছর সূর্যমূখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এ বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র সৌন্দর্য্যবর্ধনের জন্য এ ফুল চাষ করা হয়নি। মূলত তৈল বীজের জন্য এর চাষ করা হয়েছে। এ কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান সূর্যমূখী তৈল বিশ্বের ১নম্বর ভোজ্য তৈল হিসেবে বিবেচিত। তাই তৈল বীজ হিসেবে সূর্যমূখী ফুলের চাষ করা হয়েছে।

কচুয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, নোয়াখালী, ফেনী লক্ষীপুর, চট্রগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প এবং রাজস্ব প্রণোদনা আওতায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে কচুয়া উপজেলায় ৩০ জন কৃষকদের বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের বীজ দেওয়া হয়েছে। তৈল জাতীয় অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী বীজে তৈলের পরিমান ৪০-৪৫ শতাংশ রয়েছে। সূর্যমুখীর তৈল অন্যান্য সাধারণ তৈলের চাইতে পুষ্টিমান ভালো। কোলেস্টরেলমুক্ত সূর্যমুখীর তৈলে রয়েছে অধিক পুষ্টিগুণ। ফলে দিন দিন চাহিদা বাড়ছে সুর্যমুখীর।

কৃষকরা জানান, প্রকৃতিপ্রেমী শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ এই ফসলগুলো নষ্ট করবেন না। আপনারা যদি সুর্যমুখী আবাদ করতে চান প্রত্যেক উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে যোগা-যোগ করলে আপনাদের আগামীদিনে সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সূর্যমুখী চাঁদপুর জেলায় আগামীদিনের সম্ভবনাময়ী অর্থকরী তৈল ফসল। এটি নষ্ট করে কৃষককে অনাগ্রহ না করতে বিশেষ অনুরোধ করেন কৃষকগণ।

এই বছর চাঁদপুরে পরীক্ষা মূলকভাবে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ শুরু করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর । সূর্যমুখীর তৈলকে জনপ্রিয় করতেই এ উদ্যোগ তাদের। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন আগ্রহী চাষীরা। পরামর্শ ও বীজ নিয়ে অনেকেই এখন সূর্যমুখীর আবাদ শুরু করেছেন। চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে চাষীরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সূর্যমুখীর আবাদ শুরু করেছেন। সূর্যমুখী বীজ একটি লাভ জনক শস্য। সূর্যমুখী তৈলের নানাবিধ স্বাস্থ্যগত গুনাগুন রয়েছে। সূর্যমুখী তৈলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমাগত । ফলে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ জনপ্রিয় করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করা হচ্ছে। চাষীদের প্রশিক্ষণ, বীজসহ নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে।

ভবিষ্যতে চাঁদপুরে সূর্যমুখী ফুলের চাষ ব্যাপক বিস্তার লাভ করবে বলে অাশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

ওডি/

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড