• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অপারেশনে অবহেলায় প্রাণ গেল বেরোবি শিক্ষার্থীর

  আল মামুন জীবন, ঠাকুরগাঁও

০৪ মার্চ ২০২১, ১৫:৫৫
বেরোবি
বেরোবির পরিসংখ্যান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মেসবাহুল হক লালন। ছবি : দৈনিক অধিকার

হাত ভাঙার অপারেশনে চিকিৎসকের অবহেলা ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে মেসবাহুল হক লালন (১৯) নামে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৩ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের ডেলটা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক গা ঢাকা দিয়েছে।

নিহত লালন সদর উপজেলার রায়পুর গ্রামের জলাই মন্ডলের ছেলে ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) পরিসংখ্যান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

লালনের বড় ভাই বিপ্লব বলেন, দেড় মাস আগে ফুটবল খেলার সময় ডান হাতের হাড় ভেঙে যায় লালনের। স্থানীয় কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করে সুস্থ হলেও মাঝে মাঝে হালকা ব্যথা অনুভব করলে বুধবার সকালে হাড় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জিল্লুর রহমান সিদ্দীরকে দেখায় সে। পরে তিনি অপারেশন করতে হবে বলে জানান। এরপর ভর্তি হতে বলেন শহরের ডেলটা ক্লিনিকে। একপর্যায়ে বিকালে সেখানে ভর্তি হয় লালন। এরই মধ্যে রাতেই হারাতে হলো ভাইকে।

লালনের দুলাভাই মজিবর রহমান জানান, বুধবার রাত ১০টার পরে লালনকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার আগে অনেক কথা হয়েছে। বারবার লালনকে বলেছিলাম, কোনো সমস্যা আছে নাকি? লালন বলেছে, দুলাভাই আমার অন্য কোনো সমস্যা নেই, হাতের অপারেশন, ভয়ের কিছু নেই। অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পরে সে সবার সাথে কথা বলছিল যা বাহির থেকে দেখা যাচ্ছিল।

তিনি বলেন, পরপর কয়েকটা ইনজেকশন দেওয়ার পরে আস্তে আস্তে জ্ঞান হারায় লালন। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলে ‘লালনের হালকা সমস্যা দিনাজপুর নিতে হবে।’ একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্সে দ্রুত তুলে দিয়ে সটকে পড়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক। ওই সময় হালকা শ্বাস-প্রশ্বাস চললেও পথে তার মৃত্যু হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, লালনের অবস্থা খারাপ দেখার পরে নিজে বাঁচতে আমাদের সেখান সরিয়ে দেয় তারা।

এ ব্যাপারে লালনের বাবা জলই মন্ডল দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘ডাক্তার বলেছিল, হালকা অপারেশন, সে জন্য ছেলেকে নিয়ে গেছিলাম। আগে জানলে কসাই খানায় নিয়ে যেতাম না ছেলেকে। সুস্থ ছেলেকে হাতের অপারেশনে হারাতে হবে ভাবতে পারিনি। ইচ্ছে করছে মামলা করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে উচিত শিক্ষা দেই। আমার মতো আর যেন কোনো বাবার কোল খালি না করে তারা। কিন্তু মামলা করলে সোনার ছেলেকে কাটা ছেড়া করবে, সে কারণে মামলা করছি না। অনেক স্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেছিলাম, স্বপ্ন আমার খালি হয়ে গেল।’

এ বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও অপারেশনের ডাক্তার জিল্লুর রহমান কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।

বিষয়টিতে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন : সফট লোন গ্রহণের নোটিশ পেল কুবি শিক্ষার্থীরা

এ দিকে, ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মাহাফুজার রহমান সরকার মুঠোফোনে জানান, ওই ছাত্রের পরিবার লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

উল্লেখ, জেলায় দু-একটি ক্লিনিক ছাড়া সবগুলোর নিবন্ধন নেই। বিভিন্ন সময়ে ক্লিনিক ও চিকিৎসকের অবহেলার রোগীর মৃত্যু হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। ঘটনার পর কয়েকদিন ক্লিনিক বন্ধ থাকে। পরে ফের ক্লিনিক চালু হয়ে যায়।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড