• সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯ চৈত্র ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চলনবিলের ক্ষীরা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে

  সোহেল রানা, সিরাজগঞ্জ

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪:০২
উঠেছে
তাড়াশ উপজেলার দিঘরিয়া, রানীর হাট ও কোহিতসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রায় দশটি মৌসুমি ক্ষীরার হাট গড়ে উঠেছে (ছবি : দৈনিক অধিকার)

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলনবিলের উৎপাদিত ক্ষীরা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জ তাড়াশ উপজেলার দিঘরিয়া ও চরবন্ধনগাছা হাট থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা শতশত টন ক্ষীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আড়তগুলোতে পাইকার ও বিক্রেতার পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে। এ অঞ্চলের উৎপাদিত ক্ষীরা ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বগুড়া, পাবনা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ জনপ্রিয়।

জানা যায়, চলনবিলের অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ক্ষীরা চাষ করা হয়েছে। প্রকৃতি অনুকূলে এবার ক্ষীরার ফলন ভাল হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ক্ষীরা চাষ করতে প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয় আর একবিঘা থেকে উৎপাদিত ক্ষীরা বিক্রি করছে ২৫-৩০ হাজার টাকা। এছাড়াও পোকা-মাকড়ের আক্রমণের বালাই কম এবং পরিশ্রম কম হওয়ায় ক্ষীরা চাষের প্রতি কৃষকরা ঝুঁকছে। ক্ষীরার আবাদ বেশি হওয়ায় বেচাকেনার জন্য তাড়াশ উপজেলার দিঘরিয়া, রানীর হাট ও কোহিতসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রায় দশটি মৌসুমি ক্ষীরার হাট গড়ে উঠেছে। হাটে প্রতি মণ ক্ষীরা ৭৫০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

দিঘরিয়া হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, নাটোরের সিংড়া ও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কৃষকদের উৎপাদিত ক্ষীরা বেচাকেনার জন্য দিঘরিয়া আড়তটি প্রায় ২০ বছর আগে চালু হয়। সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়া জেলার ক্ষীরা চাষিরা এই হাটে ক্ষীরা বিক্রি করেন। ভোর থেকে সন্ধ্যা কৃষকেরা ছোট ছোট যানবাহন করে সরাসরি ক্ষেত থেকে ক্ষীরা তুলে হাটে নিয়ে আসেন। পাইকরা পছন্দমতো দাম-দর করে প্রতিদিন শতশত ট্রাক ক্ষীরা ক্রয় বিক্রয় হয়। এবছর হাটে প্রচুর ক্ষীরা আমদানি হওয়ায় ওজনের পরিবর্তে বস্তা চুক্তিতে বিক্রি করা হয়। প্রকারভেদে প্রতি ছোট বস্তা ক্ষীরা বিক্রি হচ্ছে ২৬০থেকে ৩২০ টাকা এবং প্রতি বড় বস্তা বিক্রি হয় ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এপ্রিল পর্যন্ত হাটগুলোতে ক্ষীরা কেনাবেচা হয়।

দিঘরিয়া হাটের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, তাড়াশ অঞ্চলের উৎপাদিত খিরার মান ভালো এবং দামও কম। ক্ষীরার মান ভালো হওয়ায় কদরও বেশি। রাজধানী ঢাকাসহ পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ঢাকার কারওয়ান বাজার ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষীরা যায় এখান থেকে।

উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের দিঘরীয়া গ্রামের কৃষক আহমেদ আলী জানান, এবছর একবিঘা জমিতে ক্ষীরার আবাদ করতে খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। খরচ বাদে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।

আরও পড়ুন : সাত লাশ নিয়ে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরলেন ১৪৮ জন

একই এলাকার নজরুল ইসলাম বলেন, আগে অনেকেই জমি লিজ নিয়ে ক্ষীরা চাষ করতো। কিন্তু বর্তমানে লাভ বেশি হওয়ায় জমির মালিকরাও ক্ষীরা চাষ করছে। বর্তমানে এলাকায় ক্ষীরা চাষের জন্য জমি লিজ পাওয়া যায় না।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা জানান, চলনবিলে ক্ষীরা চাষে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় ক্ষীরা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ বাদে ৪০-৪৫ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ক্ষীরা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণসহ বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড