• মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আগাম শিম চাষে সুবর্ণচরে চাষীদের সাফল্য

  নোয়াখালী প্রতিনিধি

২২ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:০৭
ছবি : দৈনিক অধিকার

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর নোমান গ্রামের কৃষানী ফাতেমা বেগমের দুই বিঘা জমিতে শিম চাষে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এখন প্রতিদিন গড়ে শিম উঠছে ২ মণ। ২ হাজার টাকা মণে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকার শিম। এ হিসাবে মাসে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা আয় হওয়ার কথা।

আমেনা বেগমের মতো সুবর্ণচর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকেরা আগাম শিম চাষে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়ায় শিমের ভালো ফলন এবং বাজারে বেশি দাম পাওয়ায় চাষিরাও বেশ খুশি।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক, মোহাম্মদপুর ও চর ওয়াপদা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মাঠে এখন শিমের চাষ হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৩০-৩৫ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে এসব এলাকায় মূলত শীতকালে শিমের চাষ হতো। তখন বাড়ির আঙিনায় ও পতিত জমিতে পরিবারের চাহিদা মেটাতে শিমের চাষ হতো।

অন্যান্য ফসলের চেয়ে শিম চাষ করে বেশি লাভ হওয়ায় এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে সুবর্ণচর উপজেলার চার-পাঁচ বছর আগে শিমের চাষ শুরু হয়। এখন কৃষকের বাড়ির আঙিনা পেরিয়ে বিস্তীর্ণ মাঠেও চাষ হচ্ছে শিম। শিমের চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের মাঠগুলোতে বোরো ধানের পাশাপাশি চাষ হয়েছে শিমের। ভালো দাম থাকায় শিম নিয়ে যেন উৎসবে মেতেছেন কৃষকেরা। কৃষক পরিবারের নারী ও পুরুষ সবাই শিম তোলা, শিমগাছের যত্ন নেওয়ায় ব্যস্ত।

উপলোর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর তোরাব আলী গ্রামের কৃষক রেজাউল, আলমগীর, এনামুল হক, আসলামসহ সাত-আটজন বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই তাঁরা শিম তুলতে শুরু করেছেন। শিমের পাশাপাশি তাঁরা আগাম বেগুন ও শসার চাষ করেছেন। তাঁরা বলেন, যেকোনো সবজি যদি মৌসুমের শুরুতেই বাজারে তোলা যায়, তবে তার দাম যেমন বেশি পাওয়া যায়, তেমনি চাহিদাও বেশি থাকে।

সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার মতে, চলতি বছর উপজেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শিমের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে আগাম শিমের চাষ হয়েছে ১০০ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় এনজিও কর্মী ও কৃষিবিদ শিবব্রত ভৌমিক জানান, সাধারণত আগাম সবজি চাষে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি থাকে। তবে কৃষকেরা এখন সচেতন হওয়ায় যেকোনো সমস্যায় তারা সরাসরি স্থানীয় কৃষি কার্যালয়ের পরামর্শ নেন। এছাড়াও মাঠপর্যায়ে যেকোনো সহায়তা নিয়ে আমরা কৃষকের পাশাপাশি থাকায় কৃষকদের ফলন লাভে সুবিধা হচ্ছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড