• বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৪ মাঘ ১৪২৭  |   ১৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

লঞ্চযাত্রীদের ঘিরে টিকে আছে ঘাটের বাহারি ফলের দোকান

  শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

১০ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:২৮
ফল
ছবি : দৈনিক অধিকার

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাংলাবাজার ঘাট। ঢাকাগামী ও ঢাকাফেরত দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের পদচারণায় দিনরাত মুখোর থাকে এই ঘাট। ঘাটে ৩ টি লঞ্চ, ১টি স্পিডবোট ও ৪ টি ফেরি ঘাট রয়েছে। তবে লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটেই যাত্রীদের পদচারনা বেশি। যাত্রীদের ভীড়, কোলাহলে সরব থাকে এই ঘাটের টার্মিনালগুলো। বিশেষ করে যাত্রীদেরকে ঘিরেই ঘাটের ব্যবসায়ীদের উপার্জন। খাবার হোটেল থেকে শুরু করে ভ্রাম্যমান হকারদের আয়ের অন্যতম জায়গা এই ঘাট এলাকা। এদিকে লঞ্চ টার্মিনালের একপাশজুড়ে সাজানো গোছানো ফলের দোকান এক অন্যরকম সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছে। এই ফলের দোকানগুলো মূলত লঞ্চের যাত্রীদেরকে ঘিরেই টিকে রয়েছে। বর্তমানে বাংলাবাজার ঘাটে স্থায়ী ৬১ টি ফলের দোকান রয়েছে। এছাড়াও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাও রয়েছে অনেক। তবে কাঁঠালবাড়ী থেকে ঘাট বাংলাবাজারে স্থানান্তরের পর ফলের দোকানের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে কমেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

লঞ্চঘাটের নির্দিষ্টস্থানে প্রতিটি লঞ্চ না ভিড়ার কারণে যাত্রীরা বিভিন্ন স্থান দিয়ে ঘাট পার হচ্ছে। এতে করে বিক্রি কমেছে তাদের। তাছাড়া বর্তমান ঘাটে দোকানের সংখ্যাও পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ।

ঘাটের ফল বিক্রেতাদের সাথে আলাপ করলে জানা যায়, কাঁঠালবাড়ীতে যখন ঘাট ছিল তখন পন্টুনে যাত্রী নেমে নির্দিষ্ট টার্মিনাল দিয়ে আসা-যাওয়া করতো। যাত্রীদের চলাচলের পথেই ছিল ফলের দোকানগুলো। বর্তমানে ঘাট সরিয়ে বাংলাবাজারে স্থানান্তরের পর লঞ্চের একাধিক ঘাটেই লঞ্চ এসে ভিড়ে। যাত্রীরা লঞ্চ থেকে নেমে বিভিন্ন দিক দিয়ে টার্মিনাল পার হয়। একারণে ফলের দোকানগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় বিক্রি কমেছে। একই সাথে ঘাট স্থানান্তরের পর মৌসুমি ফল বিক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। নতুন ঘাটে আসার পর ঘাটকেন্দ্রিক এলাকার লোকজনের নতুন নতুন দোকান বেড়েছে। বর্তমানে বাংলাবাজার ঘাটে ফলের দোকানের সংখ্যা রয়েছে ৬১ টি। পূর্বের ঘাটে ছিল মাত্র ৩১ টি।

সরেজমিনে বাংলাবাজার লঞ্চঘাটের টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, লঞ্চের দুটি টার্মিনালসহ আশেপাশের দোকানগুলোতে ফল সাজিয়ে বসে আছে বিক্রেতারা। তবে ক্রেতার সংখ্যা খুব একটা নেই। ঘাটে নেমে যাত্রীরা ভিন্ন ভিন্ন টার্মিনাল দিয়েই আবার গন্তব্যের গাড়ির স্ট্যান্ডে যায়। এক টার্মিনালে নেমে ফল কিনতে অন্য টার্মিনালে মূলত আসা হয় না যাত্রীদের। তাছাড়া স্থায়ী দোকানের পাশাপাশি অস্থায়ী দোকানের সংখ্যা বাড়ায় সব মিলিয়ে বিক্রির পরিমাণ কম বলে জানা গেছে।

মো. রেজাউল নামের ফল ব্যবসায়ী জানান,'কাঁঠালবাড়ী ঘাটে বিক্রি বেশি ছিল। গত এক মাস ধরে নতুন ঘাটে দোকান দিয়েছি। কিন্তু বিক্রি খুবই কম। এই মৌসুমে ফল বেশি বিক্রি হয়। অথচ এখানে আশানুরূপ দেখছি না।'

অপর দোকানদার মিরাজ হোসেন বলেন,' আমরা কাওড়াকান্দিতে ঘাট থাকাকালীন ফলের ব্যবসায় করি। সেখানে বিক্রি সবচেয়ে বেশি হতো। কাঁঠালবাড়ীতে আসার পর মোটামুটি ভালোই বিক্রি হতো দৈনিক। কিন্তু বাংলাবাজারে ঘাট আসার পর বিক্রি কমে গেছে। এ এলাকায় নতুন দোকান বেড়েছে ৩০ টি। তাছাড়া ভ্রাম্যমাণ হকারদের সংখ্যাও বেড়েছে। ফলে বিক্রি কমেছে।'

আব্দুল আলীম নামের অপর দোকানদার বলেন,'এখানে দৈনিক গড়ে ৮/১০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। পূর্বের ঘাটের তুলনায় খুবই কম।'

ফলের দোকান সূত্রে জানা গেছে, ফলের মধ্যে কমলা কেজি ১শত টাকা, আপেল ১শত ৩০ থেকে ১ শত ৪০ টাকা, আঙ্গুর ২শত ৮০ টাকা, মাল্টা ১ শত ৫০ টাকা, ডালিম ২ শত ৫০ টাকা, খেঁজুর ১ শত ৫০ টাকা, চায়না কমলা ১শত টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

ওডি/

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড