• শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১ মাঘ ১৪২৭  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চাচার জমি দখল করে ভাতিজার বিপণিবিতান নির্মাণের অভিযোগ  

  ভোলা প্রতিনিধি

০৯ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:৩১
অভিযোগ
ছবি : দৈনিক অধিকার

ভোলার চরফ্যাশন পৌরসভায় আদালতের অস্থায়ী স্থিতিতাদেশ (নিষেধাজ্ঞা) উপেক্ষা করে চাচার কয়েক কোটি টাকার জমি দখল করার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজার ওপর। দখলের পর সেখানে থাকা চাচাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে পাকা বিপণিবিতান নির্মাণ করছে ভাতিজা।

এই ঘটনায় পুলিশ কাজ বন্ধের পরিবর্তে নির্মাণে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডে চরফ্যাশন বাজারের মধ্যে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাতিজা মো. মেহেদী হাসান রাজিব চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে জিন্নাগড় মৌজায় (ভোলা-চরফ্যাশন সড়কের পাশে) পাকা ভবন নির্মাণ করছে। যা চরফ্যাশন বাজারের মধ্যখানে অবস্থিত। এখানে জমির মূল্য ১৪-১৫ লাখ টাকা শতাংশ। নির্মাণাধীন ভবনে জমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৪ শতাংশ। দখলকৃত জমি মেপে দেখা যায়, ৩ হাজার ১১ (৮৬*৭৫ফুট) বর্গফুট। পুরো জমি জুড়ে এ ভবনটি নির্মাণ হচ্ছে। ওই স্থানে মেহেদীর চাচাদের পুরাতন পাঁচটি আধাপাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। সেই ঘরগুলো ভেঙে একস্থানে ইট জমা করে রেখেছে। সেই ইট ভেঙে খোয়া করে জমা করা হচ্ছে। একই সাথে ভবনে বালি ফেলা, ফ্লোর ও পিলার নির্মাণ হচ্ছে। গত ৪ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাপত্রে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় অবস্থিত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম বাদি আমিরুল ইসলাম (মেহেদীর চাচা), বিবাদী মো. মেহেদী হাসান রাজিবকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, মহজর পক্ষ ও তরপছানি পক্ষকে পরবর্তী নির্দেশ অথবা নিষেধাজ্ঞার শুনানী না হওয়া পর্যন্ত নালিশ-বিরোধীও সম্পত্তিতে স্থিতিবস্থার আদেশ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হল।

দুই পক্ষের কাগজপত্র দেখে জানা যায়, ক্রয়সূত্রে মরহুম মৌলভী আবুল হোসেম মাষ্টার জিন্নাগড় মৌজার (এসএ খতিয়ান নং-৪৮০, দাগ নং ১২৮০, ১২৮৩) ২একর ৫১ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরে ওই জমির মালিক হন স্ত্রী, বাবা-মা, ৬ পুত্র ও ১১ মেয়ে। এর কিছু দিন পরে ছয় ভাইয়ের একভাই মারা যায়। পাঁচ ভাই মোট জমি পায় প্রায় ৭৫শতাংশ। কিন্তু ছোট ভাই মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান রাজিব একাই ৭৩ শতাংশ দাবি করছে। এ নিয়েই মামলা চলমান। আদালতের স্থিতিতাদেশ মানছে না।

ভাতিজা মেহেদী হাসান রাজিব বলেন, সে এবং তাঁর বাবা ওয়ারিশদের নিকট কিছু জমি কিনে নেওয়ার পরে ৭৩ শতাংশের মালিক হয়েছে। সে বাড়তি কোনো জমির দখলে নেই। আদালত যে জমির ওপর স্থিতিতাদেশ (নিষেধাজ্ঞা) দিয়েছেন, নির্মাণাধীন ভবন সে জমির ওপর নয়।

পরিবারের ৪ নম্বর ভাই মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ওয়ারিশদের জমির ওপর তাঁদের ভাইদের হক। ভাতিজার কোনো হক নেই। এ কারণে ভাইয়েরা ওয়ারিশদের জমি ক্রয়ের জন্য আদালতে টাকা জমা দিয়েছেন। ওই জমির পরিমাণ প্রায় ৬০শতাংশ। আদালতে মীমাংসা না দিতেই এবং অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরেও মেহেদী হাসান চাচাদের দখলে থাকা ঘর ভেঙে দখল নিয়ে ভবন নির্মাণ করেছে। ওয়ারিশরা জমি পাবে সকল দাগে। কিন্তু মেহেদী হাসান, সড়কের পাশে, বাজারের মধ্যের জমি দখল করেছে।

আমিনুল ইসলাম ও তাঁর ভাইয়েরা জানান, আদালতের মীমাংসা না আসার আগেই মেহেদী সরিকদের নিকট থেকে কেনা জমির ১০শতাংশ জমি উপজেলার আওয়ামী লীগের একনেতার কাছে বিক্রি করেছে। এ কারণে সকলে মেহেদীর অন্যায়কে পুলিশ সমর্থন করছে।

চরফ্যাশন পৌর সভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আক্তার হোসেন সামু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই ভাতিজা মেহেদী হাসান রাজিব এ বিপণিবিতান নির্মাণ করছে। পৌরসভার মেয়রসহ তাঁদের বিবাদমান সমস্যাটি মীমাংসা করতে বসেছিলেন। কিন্তু এই রাজীবের কারণে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরে তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন মিয়া বলেন, ওই জমিতে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আছে সত্য, কিন্তু ওসির প্রতি কোনো নির্দেশ নেই। বিষয়টি তিনি পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন। এখানে তিনি কাউকেই সহায়তা করেননি। বরং অভিযোগ পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানান।

ওডি/

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড