• মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সন্তান হত্যার দায় স্বীকার করলেন মা

  বাগেরহাট প্রতিনিধি

২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৯:৪১
মোরেলগঞ্জে
নিহত শিশু সানজিদা আক্তার সোহানা ও হত্যাকারি মা শান্তা আক্তার পিংকি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ঘুমন্ত মা-বাবার মাঝ থেকে ১৮দিন বয়সী শিশু সানজিদা আক্তার সোহানা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে শিশুটির মা শান্তা আক্তার পিংকি (২২)। এর আগে শুক্রবার রাতে (২৮ নভেম্বর) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শান্তা আক্তার নিজেই তার সন্তানকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেন। পরে ওইদিন রাতেই পুলিশ শান্তা আক্তার পিংকিকে বাগেরহাট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করলে আদালতের বিচারক মো. খোকন হেসেনের কাছেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোরেলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ঠাকুর দাশ মন্ডল বলেন, ‘শুক্রবার পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শান্তা আক্তার তার মেয়েকে নিজেই বিছানা থেকে নিয়ে পুকুরে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। ‘জিনের আছর’ ভর করার কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। ওই শিশুটির পিতা সুজন খানকে বিয়ে করার আগেই শান্তা আক্তার পিংকির ২০১৭ সালে ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় জেলায় আখাউরায় উজ্জ্বল ভূঁইয়া নামের এক কাঠমিস্ত্রির সাথে তার বিয়ে হয়েছিলো। সেই সংসারেও নাসরাত নামের দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে তার। ওই স্বামীর ঘরে থাকা অবস্থায় মোবাইলে সুজন খানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে শান্তা আক্তার পিংকি পালিয়ে সুজন খানের সাথে চলে আসে। আগের ঘরের স্বামী ও সন্তানের কথা গোপন রেখেই সে সুজন খানকে বিয়ে করেছিলো।

তিনি আরও বলেন, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) রাতে শিশুটির বাবা সুজন খান ও শান্তা আক্তার পিংকিকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে পিংকি নিজের নবজাতকে পুকুরে ফেলে হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে রাতেই তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতে বিচারকের সামনে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর বিচারক তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। শনিবার (২৮ নভেম্বর) ৩ দিনের রিমান্ড শেষে সুজন খানকে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত শিশুটির বাবাকেও জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, রবিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে মোরেলগঞ্জ উপজেলার গাবতলা গ্রামে বাবা সুজন খান ও মা শান্তা আক্তারের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল ১৮ দিন বয়সী সোহানা। মধ্য রাতে ঘুম ভেঙে তারা দেখেন যে শিশুটি হারিয়ে গেছে। সোমবার (১৬ নভেম্বর) ভোর থেকে পুলিশের একাধিক টিম শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করলেও কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছিল না। সোমবার (১৬ নভেম্বর) রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা করেন শিশুটির দাদা আলী হোসেন খান। বুধবার (১৮ নভেম্বর) ভোরে ফজরের নামাজের পর নিজ ঘরের সামনের পুকুরে নাতির মরদেহ ভাসতে দেখেন আলী হোসেন। ওই দিনই শিশুটির বাবাকে আটক করে পুলিশ।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড