• বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শিশুকে গরম সেঁকা দেওয়ায় মামী কারাগারে

  বরিশাল প্রতিনিধি

২৬ নভেম্বর ২০২০, ১৯:৫৮
গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

বরিশালের গৌরনদীতে পাঁচ বছরের শিশুকন্যার শরীরে স্টিলের গরম চামচের সেঁকা দেয়ার অভিযোগে আপন মামী শাহনাজ বেগমকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল চীফ জুডিশিয়াল আদালত এ আদেশ দেন।

অপরদিকে ২২ ধারায় জবানবন্দী নেওয়ার জন্য নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল হক। এর আগে বুধবার রাতে উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া গ্রাম থেকে তাকে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামী শাহনাজকে গ্রেফতার করা হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় নির্যাতনের শিকার শিশু লামিয়াকে। তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাজেদুল হক কাওসার বলেন, বুধবার রাতে পুলিশ শিশুটিকে তার কাছে নিয়ে আসে। তিনি শিশুটির তলপেটের নিচে সেঁকা আঘাত দেখেছেন। তবে তা প্রায় শুকিয়ে গেছে। রাতেই ব্যবস্থাপত্র দিয়ে শিশুটিকে পুলিশী হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া শাহনাজ বেগম গৌরনদীর উত্তর বিজয়পুর এলাকার রমজান সরদারের স্ত্রী। নির্যাতনের শিকার লামিয়া তার বাড়িতে আশ্রিতা হিসাবে থাকতো। লামিয়ার বাবা শফিকুল ইসলাম অভিযুক্ত শাহনাজের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন আইনে বুধবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন।

শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, প্রায় ৭ বছর আগে তার সঙ্গে আখি বেগমের বিয়ে হয়। এর প্রায় দুই বছর পর লামিয়ার জন্ম হয়। বছর খানেক পর বিভিন্ন কারণে সম্পর্কের অবনতি হলে স্ত্রী আখি বেগম শিশু সন্তান লামিয়াকে তার ভাই রমজান সরদারের বাড়িতে রাখা শুরু করেন। রমজান সরদার ও শাহনাজ দম্পতি নিঃসন্তান হওয়ায় তারা লামিয়াকে আদর যত্ন করতেন। এ দম্পতি আরাফাত নামক এক শিশুকে দত্তক নেন। এরপর থেকেই কারণে-অকারণে লামিয়াকে শাহনাজ বেগম মারধর করে আসছেন। গত ২১ নভেম্বর বিকেলে লামিয়া আরাফাতকে নিয়ে পাশের বাড়ির শিশুদের সঙ্গে খেলতে যায়।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে লামিয়াকে ধরে বাসায় এনে মারধর করেন শাহনাজ বেগম। একপর্যায়ে গ্যাসের চুলায় স্টিলের চামচ গরম করে লামিয়ার নাভির নিচে সেঁকা দেয়া হয়। লামিয়ার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে তাদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। প্রতিবেশীদের সন্দেহ এড়াতে ওই রাতেই শাহনাজ বেগম লামিয়াকে নিয়ে তার বাবার বাড়ি কলাবাড়িয়া গ্রামে চলে যান।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, শফিকুল ইসলাম গৌরনদী থানায় অভিযোগ দেয়ার পর শাহনাজ বেগমের বাবার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে লামিয়াকে উদ্ধার ও শাহনাজ বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। শিশু লামিয়াকে চিকিৎসা দিয়ে বৃহস্পতিবার ২২ ধারায় জবানবন্দি নেয়ার জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। শাহানাজ বেগমকে আদালত কারাগারে প্রেরণ করেছেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড