• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মুন্সীগঞ্জে আলুতে লাভবান মধ্যসত্বভোগী

  মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১০
মুন্সীগঞ্জ
কোল্ড স্টোরের শ্রমিকরা পচা আলু বাছাই করে, ভালো আলু বিক্রির জন্য আলাদা করছে

তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হওয়া গোল আলুর দাম নতুন করে আরও বেড়েছে। কোনো কোনো বাজারে গোল আলুর কেজি ৩৫ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাসের ব্যবধানে ২০ শতাংশের ওপরে এবং বছরের ব্যবধানে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে গোল আলুর দাম। এ দিকে পরপর গত পাঁচ বছর আলু চাষে লাভের মুখ দেখেননি মুন্সীগঞ্জের আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। সেই অবস্থা শেষ সময়ে এসে ঘুচেছে। তবে প্রান্তিক কৃষকের দাবি আলুতে তারা লাভবান নয়, লাভবান হয়েছে মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরা।

এদিকে মৌসুমের শুরুতে আলুর দাম কম থাকলেও এখন আলুর দাম বেশ ভালো। তাই আলু বিক্রি করে খুশি আলু ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গোল আলু এমন একটি পণ্য যা সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার ডাল জাতীয় পণ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এমনকি সব ধরনের মাছ, মাংস ও সবজি রান্নার ক্ষেত্রেও গোল আলু ব্যবহার হয়। ফলে সারা বছর গোল আলুর চাহিদা থাকে। কিন্তু বছরব্যাপী চাষ হয় না।

মৌসুমের শুরুর তুলনায় বর্তমানে আলুর দাম খুব ভাল। তাই হিমাগার থেকে আলু বের করে বিক্রির ধুম পড়ে গেছে। এবার বন্যা, আলুর চাষ ও উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে দাম চড়া বলে চাষি ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, এ জেলায় ডায়মন্ড, কার্ডিনাল ও এস্টারিকস জাতসহ দশ প্রজাতির আলুর চাষ হয়। ২০১৭ সালে মুন্সীগঞ্জে আলুর চাষ হয়েছিল ৩৯ হাজার ৩শ হেক্টর, ২০১৮ সালে ৩৮ হাজার ৮শ হেক্টর এবং গত বছর ৩৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। তবে গত তিনবারের তুলনা এই বছর আলু চাষ কম। এ বছর ৩৭ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এ বছর আলু উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ২ হাজার ২৭ মেট্রিক টন। মৌসুমের শুরুতে আলুর বাজারে মন্দাভাব ছিল।

মুন্সীগঞ্জ বড় বাজার, মুন্সিরহাট, মুক্তারপুর, রিকাবীবাজার, হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকার বৌ-বাজার, সিরাজদিখান ও টঙ্গিবাড়ী বাজারসহ কম পক্ষে ১০টি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, এস্টারিকস উচ্চ ফলনশীল জাতের আলু খুচরা বাজারে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা ৫০ কেজি বস্তা হিসাবে দাড়ায় ১৭শ টাকা।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার নূর কোল্ট ষ্টোরেজ, শরীফ কোল্ড ষ্টোরেজ, সোবাহান কোল্ড ষ্টোরেজ, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ান কোল্ড ষ্টোরেজ, এলাইড কোল্ড ষ্টোরেজ, নিপ্পণ কোল্ড স্টোর ও মুন্সিগঞ্জ আইস ফ্যাক্টরি এন্ড কোল্ড ষ্টোরেজ গুলোতে গিয়ে দেখা যায়, আলু নিয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। আলু বস্তা ভর্তি করে ট্রাক, ছোট গাড়িতে ও পানির ট্রলারে উঠানো হচ্ছে। আলু ব্যবসায়ীরা তাদের আলু স্থানীয় বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রির জন্য দরদাম করছেন। কোল্ড স্টোরের শ্রমিকরা পচা আলু বাছাই করে, ভালো আলু বিক্রির জন্য বস্তা ভর্তি করছেন, কেউ কেউ বস্তার ওজন দিচ্ছেন।

আলু ব্যবসায়ী ফারুক খাঁন বলেন, কিছুদিন আগেও বস্তা প্রতি দাম ছিলো ১২শ’ টাকা। বর্তমানে পাইকারি বাজারে বস্তা প্রতি দাম ১৫শ’ টাকার ওপরে রয়েছে। দাম বাড়তি থাকার কারণ হিসেবে এ ব্যবসায়ী বলেন, করোনাকালিন সময় অনেকেই সাহায্য-সহযোগিতা করার সময় আলু কিনে দিয়েছেন। সে কারণে বর্তমানে বাজারে আলু কম থাকায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

লাভলু বেপারি নামের এক আলু ব্যবসায়ী বলেন, ২০ বছর যাবত আলুর ব্যবসা করছি। কখনই আলুর এতদাম ছিলো না। গত ৪ বছর যাবত প্রতিবছর ১ লাখ বস্তা আলু কিনে বিক্রি করি। কোনোমতে চালান উঠে আসতো কিন্তু এ বছর আলুতে বেশ লাভ হয়েছে। আশাকরি বিগত বছরের লোকসানগুলো এ বছর উঠে আসবে।

তবে প্রান্তি কৃষক শাহজাহান বলেন, আলুর দাম বাড়লেই কী। আমরা যারা কৃষক রয়েছি তারাতো সেই আগের দামেই আলু বিক্রি করেছি। প্রতি ৫০ কেজি বস্তা মাত্র ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। এখন লাভবান হচ্ছে মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরা। তারা আমাদের থেকে আলু কম দামে কিনে হিমাগারে মজুদ করেছেন। এখন বস্তা প্রতি হাজার টাকা লাভ করছেন।

শিলই এলাকার মো.গিয়াস উদ্দিন সরকার। এবার আলুর বাজারের অবস্থা কেমন জিজ্ঞেস করতেই মুচকি হাসি দিয়ে গিয়াস উদ্দিন বললেন, গেলো চার বছর আলু চাষ করে অনেক লোকসান গুনছি। এ বছর জমিতেই আলু বিক্রি করে দিয়েছি। মোটামুটি লাভ হয়েছে কিন্তু মজুদ করতে পারলে গত চার বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়া যেতো।

শুধু শাহজাহান নয় মোবারক, দিলু, কুদ্দুস, রফিকুল, শোবহান সহ ১০ থেকে ১২ জন প্রান্তিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানাযায়, মৌসুমের শুরুতে আলুর দাম কম ছিলো সে সময় উৎপাদিত আলুর থেকে তাদের চালান তুলে আনা খুব কষ্ট হয়ে পড়ে। কোনোরকম আলু বিক্রি করেছি। তারা আরো বলেন, আলুতে কোনো প্রান্তিক কৃষক লাভবান হয় না। কারণ তাদের কাছে অর্থ থাকে না হিমাগারে আলু মজুদ করার । তাই পাইকারি দরে জমিতেই আলু বিক্রি করে দেন এসব কৃষক।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, বন্যার কারণে অন্যান্য সবজির অনেক ক্ষতি হয়েছে। আর অন্যসব সবজি কম থাকায় আলুর ওপর প্রভাব পড়েছে তাই দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তবে মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরা আলুতে লাভবান হওয়ার বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, কোল্ডস্টোরেজগুলোতে ব্যবসায়ী থেকে কৃষকরাই আলু বেশি মজুদ করেছেন। তবে যাদের অর্থ প্রয়োজন ছিলো তারা প্রথমই আলু বিক্রি করে ফেলেন। এতে তারা হয়তো লাভ তেমনটা করতে পারেনি। সামগ্রীকভাবে বলা যায়, কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষ লাভবান হয়েছেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড