• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কবরস্থানে স্বজনের মরদেহ পারাপার হয় গলা পানিতে

  শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:১৭
বাঁশখালী
শুষ্ক মৌসুমেও পাহাড়ি এ ছড়ায় নিয়মিত পানির স্রোত অব্যাহত থাকে

সেতু নেই তাই পাহাড়ি ছড়ায় গলা পানিতে শত বছরের বাপ-দাদার গোরস্থানে স্বজনদের মরদেহ পার করতে হয়। এরকম ঘটনা অহরহ ঘটেছে বাঁশখালী উপজেলার পুইঁছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পুঁইছড়ি ৪ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ পাড়া বড় গোরস্থান (গোরস্থানী মুড়া) এলাকায়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, "পূর্ব পুইঁছড়ির দক্ষিণ পাড়া বড় গোরস্থান প্রকাশ গোরস্থানী মুড়া বাপ-দাদার শত বৎসরের পুরনো কবরস্থান। প্রায় ৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৫ হাজার পরিবারের একমাত্র বিকল্প কবরস্থান এটি। এ কবরস্থানটি গণকবর স্থান নামেও পরিচিত। লোকালয় থেকে কবরস্থানের মাঝপথে বয়ে গেছে পাহাড়ি ছড়া। এ ছড়ায় সব মৌসুমেই বহমান থাকে পাহাড়ি পানির স্রোত। বর্ষায় গলাপানিতে স্বজনদের মরদেহ পার করে নিতে হয় ওই কবরস্থানে। এ নিয়ে স্বজনদের রয়েছে নানা হৃদয় বিদারক ঘটনার বর্ণনা।"

ওই এলাকার আব্দুর রহিম দৈনিক অধিকারকে বলেন, "গেল বর্ষা মৌসুমে আমার বাবা মোবারক সাওদাগর এর মরদেহ ছড়ার উপর দিয়ে পার করতে গিয়ে যে পরিস্থিতির শিকার হয়েছি তা খুবই হৃদয় বিদারক। পাহাড়ি ঢলের স্রোতে বাবার লাশ মাথার উপর উঁচু করে গলাপানি পার হয়ে কবরস্থানে নিয়ে গেছি। একজন মানুষের মৃতদেহ এভাবে সংশয়ে পার করার ইতিহাস সভ্যতার চরম উৎকর্ষতায় খুবই খারাপ একটি অবস্থানের পরিচয় বহন করে। আমার বাবার মতো আর কারো লাশ যেন এভাবে পার করতে না হয়, তাই শিগ্রই ছড়ার উপর ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।"

পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মু. হাবীবুর রহমান দৈনিক অধিকারকে জানিয়েছেন, ''পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পুঁইছড়ি পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় এ গ্রামটি খুবই অবহেলিত। দীর্ঘদিন এলাকাবাসী এখানে ছড়ার উপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

এর ফলে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এখানে দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমেও পাহাড়ি এ ছড়ায় নিয়মিত পানির স্রোত অব্যাহত থাকে। যে কারণে বর্ষা ও শুষ্ক উভয় মৌসুমেই স্বজনের মরদেহ নেয়া এবং জনসাধারণ চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছে।"

সমাজ সেবক, পুঁইছড়ি গুরামিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও রোটারি ইন্টারন্যাশনাল (জেলা-৩২৮২, বাংলাদেশ) এর ডেপুটি গভর্নর মুবিনুল হক মুবিন দৈনিক অধিকারকে বলেন, "শত বছরের পুরনো 'গোরস্থানী মুড়া' কবরস্থানে আজ ২৫০ জন লোক স্বেচ্ছায় জঙ্গল পরিষ্কার করছেন এবং ছড়া পার হয়ে গলাপানিতে কবরস্থানে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার যে পরিবেশ তা আমি একজন মানবকর্মি, সমাজকর্মি হিসেবে দেখতে এসেছি। সভ্যতার চরম উৎকর্ষতায় এখনও এ গ্রামের বৃহদাংশে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি, শতভাগ রাস্তা কাঁচা অবহেলিত এ জনপদে। আমি এলাকাবাসীদের দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে এসেছি।লাশ পারাপারের সুবিধার্থে অতিশিগ্রই ছড়ার উপর ব্রিজ নির্মাণ, শতভাগ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করণ, কাঁচারাস্তা সংস্কারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।"

পুঁইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ফৌজুল কবির ফজু দৈনিক অধিকারকে জানান, "মরদেহ কবরস্থানে নেয়ার সময় পূর্ব-পুঁইছড়ি পাহাড়ি ছড়া পার হতে গিয়ে বিপাকে পড়েন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। বিশেষ করে বর্ষাকালে মরদেহ কবরস্থানে নেয়ার মতো পরিস্থিতি থাকেনা। তাই বাধ্য হয়ে খালের পানিতে নিহতের স্বজনরা সাঁতার কেটে লাশ পার করেন।"

মেম্বার ফৌজুল কবির আরো জানান, ''বিগত ২০১৮ সালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বরাবর ওই ছড়ায় ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাব রাখি, তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। আমি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে আবারও অবহিত করবো।''

বাঁশখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম মিয়াজি দৈনিক অধিকারকে জানান, "দক্ষিণ পুঁইছড়ি পাড়া বড় গোরস্থানের সাথে সংযোগ ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার পুঁইছড়ি ছড়ার উপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য গত বছর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এখনো অনুমোদন হয়নি, অনুমোদন হলে টেন্ডার করে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।"

এদিকে ছড়ার গলা পানিতে মরদেহ পারাপারের বেশ কয়েকটি এ হৃদয় বিদারক ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অবিলম্বে এ ছড়ায় ব্রিজ নির্মাণ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড