• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শূন্যপদে নিয়োগের নামে প্রতারণা; ২১ বছরে বহিস্কার ২৬ শিক্ষক

  সিলেট প্রতিনিধি

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১৭
প্রধান শিক্ষক
বাবু কৃপাময় চন্দ্র চন্দ (ছবি: সংগৃহীত)

সিলেটের সালাম মকবুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু কৃপাময় চন্দ্র চন্দের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয় এমপিও ভুক্তির পূর্ব থেকে শুন্যপদে নিয়োগের নামে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের সময় আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের উতকোচ।

কিছুদিন শিক্ষকতার পর ঐ শিক্ষক যখন তার এমপিওভুক্তির দাবী জানান তখনই তার নামে শুরু হয় কুৎসা রটনা। এক পর্যায়ের অনিয়মের অভিযোগ তুলে করা হয় বহিস্কার নতুবা পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এভাবে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ২১ বছরে ২৬ জন শিক্ষককে বহিস্কার কিংবা পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানা যায়। যার সর্বশেষ সংযোজন শিক্ষিকা আফসানা বেগম।

২০১০ সালের ১২ জুন আফসানা বেগমকে বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শূন্যপদ দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২০১৩ সালে শিক্ষিকা শামসুন মুনীরাকে সমাজবিজ্ঞান পদে শুন্যপদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর শিক্ষক আবুল হোসেনকে শুন্যপদ দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। তখন বলা হয় বিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান পদে ৩ টি পদ রয়েছে। ঐ বছর সিনিয়র ২ জন শিক্ষিকাকে বাদ দিয়ে জুনিয়র আবুল হোসেনকে এমপিও ভুক্ত করা হয়। অপর সিনিয়র ২ জন শিক্ষিকাকে ধাপে ধাপে এমপিও ভুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়। তারা প্রধান শিক্ষকের আশ্বাসে শিক্ষকতা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে শিক্ষিকা শাসসুন মুনীরা এমপিও ভুক্ত করার নামে তার সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বুঝতে পেরে তিনি প্রধান শিক্ষকের সাথে দেনদরবার করে পদত্যাগ করেন। অপর শিক্ষক আফসানা বেগমকে এমপিও ভুক্ত করার নামে প্রধান শিক্ষক জেলা শিক্ষা অফিস বরাবর তার ফাইল প্রেরণ করেন। জেলা শিক্ষা অফিস থেকে তার ফাইল ফেরত আসলে তিনি জানতে পারেন বিদ্যালয়ে একটি মাত্র সমাজবিজ্ঞান পদ রয়েছে। যে পদে উতকোচের মাধ্যমে ২০১৪ সালে শিক্ষক আবুল হোসেনকে এমপিও ভুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতারণা করার দায়ে শিক্ষক আফসানা বেগম মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালক বরাবর অভিযোগ দিলে প্রধান শিক্ষক বাবু কৃপাময় চন্দ্র চন্দ তা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। তিনি অভিযোগের জবাব না দিয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে বিষয়টি আপোষ মীমাংসা করার জন্য আফসানা বেগমের কাছে প্রেরণ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, শিক্ষক আফসানা বেগমের এমপিও ভুক্তির জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। তাকে আমি স্নেহ করি। উপযুক্ত সম্মান দিয়ে তাকে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছি। বিদ্যালয়ের ২৬ জন শিক্ষক বহিস্কার বা পদত্যাগে বাধ্য করার বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তা সভাপতি ভালো জানেন বলে এ বিষয় এড়িয়ে যান।

সিলেটের সালাম মকবুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু কৃপাময় চন্দ্র চন্দের বিরুদ্ধে নিজ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফছানা বেগম প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির অভিযোগ এনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালক বরাবর এ অভিযোগ দাখিল করেন ও অনুলিপি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বরাবর প্রেরণ করেন। অভিযোগের আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে জবাব প্রদানের জন্য নোটিশ জারী করেন।

নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলাধীন সালাম মকবুল উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ১২/০৬/২০১০ তারিখে বিধি মোতাবেক সমাজ বিজ্ঞান পদে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আফছানা বেগমকে এমপিও ভুক্তির পদক্ষেপ গ্রহণ না করে গত ০১/১১/২০১৪ তারিখে সমাজ বিজ্ঞান পদে নিয়োগপ্রাপ্ত আবুল হোসেনকে তৎকালীন সময়ে এমপিও ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক স্তর এমপিও ভুক্ত হলে উল্লিখিত শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত করা হবে মর্মে আশ্বাস দেওয়া হয়।

বর্ণিত অবস্থার প্রেক্ষিতে সমাজ বিজ্ঞান পদে নিয়োগপ্রাপ্ত জেষ্ঠতম শিক্ষক আফছানা বেগমের এমপিও ভুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ না করে আবুল হোসেনকে কেনো এমপিও ভুক্ত করা হলো এ বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য বলা হলো।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড