• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

১৮ দিনের শিশু সন্তানকে দেখতে পারলো না পিতা

  ঝালকাঠি প্রতিনিধি

১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৩৪
ঝালকাঠি

স্ত্রীকে মাতৃত্বজনিত অসুস্থাবস্থায় রেখে গত ৫আগস্ট ঢাকায় বড় ভাইয়ে সাথে একটি গার্মেন্টসে চাকরিতে যোগ দেন তারেক। বড় ভাই আরিফ সেখানেই কর্মকর্তা পদে চাকরিরত থাকায় সপরিবারে বসবাস করতো। তার স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তানটি নিজ বাড়িতেই ২০ আগস্ট ভুমিষ্ট হয়। গত ২০ আগস্ট জন্ম নেয়া কন্যা শিশুর নাম রাখেন উম্মে ফাতিমা। বড় ভাই আরিফের স্ত্রী তামান্না আক্তার মাতৃত্বজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকার উত্তরার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ৬সেপ্টেম্বর সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্র জন্ম নেয়।

বিয়ের ১০বছর পরে জন্ম নেয়া নবজাতক সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা মেডিকেলে তাকে তাকে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। সেখানে চিকিতসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে (৮সেপ্টেম্বর) রাতে শিশুটি মারা যায়। বুধবার সকালে তামান্না আক্তারকে চিকিৎসায় রেখে নবজাতক পুত্রকে নিয়ে ঝালকাঠির বাউকাঠি গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে এম্বুলেন্সে রওনা হন পিতা আরিফ, আরিফের মা কহিনুর, বোন সিএমএইচের নার্স শিউলি বেগম, নবজাতকের মামা নজরুল ও তারেক। তারেকের আশা ছিলো বাড়িতে পৌঁছে তার সন্তান উম্মে ফাতিমাকে দেখে কোলে নিবেন আর প্রাণভরে আদর করবেন। আরিফের ইচ্ছা ছিলো বিয়ের ১০ বছর পরে জন্ম নেয়া পুত্র সন্তানটি বেঁচে না থাকলেও বাড়িতে নিয়ে দাফন করবে। যাতে পুত্র সন্তানটির কবর হলেও দেখতে পারবে।

কিন্তু যমদূত এসে বসেছিলো বরিশাল উজিরপুর উপজেলার আটিপাড়া রাস্তায় মাথায়। সেখানে এম্বুলেন্সের সাথে একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ দুমড়েমুচড়ে যায় এম্বুলেন্সটি। বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়া একটি কাভার্ড ভ্যান এসে এম্বুলেন্সটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের ৫জন ও এম্বুলেন্স চালক নিহত হন। মর্মান্তিক এমন দুর্ঘটনার বর্ণনা দেন নিহত আরিফের জ্ঞাতি নানা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আব্দুল মান্নান।

তিনি আরো জানান, বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষে ভোর ৪টায় বাড়িতে নেয়া হয়। ঝালকাঠির বাউকাঠি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে কহিনুর, আরিফ, তারেক ও নবজাতক শিশু সন্তানকে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। বোন শিউলি বেগমকে সেনাবাহিনীর বিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে শ্বশুর বাড়িতে হস্তান্তর করা হবে। সদর উপজেলার নৈয়ারী গ্রামে নজরুলকে তার নিজ বাড়িতে ও এম্বুলেন্স চালক আলমগীর হোসেনকে কুমিল্লার নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড