• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নওগাঁয় জাল সনদে নিকাহ রেজিস্টার

  নওগাঁ প্রতিনিধি

১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:৪২
নওগাঁ
ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৮৩সালে দাখিল ও ১৯৮৫ সালে আলিম পাশ

নওগাঁর রাণীনগরে শিক্ষকের সনদপত্র টেম্পারিং (মিশ্রিতকরণ) করে জন্মের একবছর আগে দাখিল ও এক বছর পরে আলিম পাশের সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই সনদপত্র জালিয়াতি করে দীর্ঘদিন অবৈধ ভাবে বড়গাছা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টারের কাজ করছেন রাণীনগর উপজেলার গহেলাপুর গ্রামের নাজিম উদ্দীনের ছেলে বেলাল হোসেন। এ বিষয়ে কাজী শাজাহান আলী বাদী হয়ে গত ২২-০২-২০০৫ তারিখে রাণীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৬, মামলাটি চলমান রয়েছে।

মামলা সূত্রে এবং সরেজমিনে জানা যায়, রাণীনগর আল-আমিন দাখিল মাদ্রাসা থেকে পাশের সনদ অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১লা জানুয়ারি ১৯৮৪। নিকাহ রেজিস্টার বা কাজী হতে হলে সরকারি বিধি মোতাবেক নূন্যতম বয়স ২১বছর হতে হয়। এজন্য উপজেলার মালি গ্রামের মৃত ময়েন উদ্দীনের ছেলে রাণীনগর আল-আমিন দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক বেলাল উদ্দীন বগুড়ার কাহালু উপজেলার মাগুড়া এম.ইউ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৮৩সালে দাখিল ও ১৯৮৫ সালে আলিম পাশ (ক্রমিক নম্বর-১৪৬৬৪, রেজি নম্বর-১২৩২৬, শিক্ষাবর্ষ-১৯৮৩-১৯৮৪) অর্থাৎ জন্মের আগেই দাখিল ও জন্মের এক বছর পর আলিম পাশ করার জালিয়াতি সার্টিফিকেট দাখিল করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে নিকাহ রেজিস্টার-কাজীর লাইসেন্স নিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জিয়া উদ্দিন মাহমুদ স্বাক্ষরিত পত্রে তৎকালীন নওগাঁ জেলা রেজিস্টার জহির উদ্দীনকে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেয়। সে মোতাবেক বেলাল হোসাইনকে ২ডিসেম্বর ২০০৭তারিখে মূল সার্টিফিকেটসহ স্ব-শরীরে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিলে মূল সার্টিফিকেট নিয়ে হাজির না হয়ে কৌশলে একইদিন পদত্যাগপত্র দিয়ে নিকাহ রেজিস্টারের (কাজী) পদ থেকে অব্যাহতি পত্র দাখিল করেন তিনি। এসব ঘটনা গোপন করে পরবর্তীতে আবার নিয়োগ নিলে উচ্চ আদালতের আদেশে সেই নিয়োগ স্থগিত হয়ে যায়।

আল আমিন দাখিল মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক বেলাল উদ্দিন বলেন, বেলাল পড়াশোনায় খুবই দুর্বল ছিলো। সে দাখিল পরীক্ষায় ফেল করে। এরপর সে কোথায় পড়ালেখা করেছে তা আমার জানা নেই। পরবর্তী সময়ে জানতে পারি যে সে কোন মাধ্যম দিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আমার সনদপত্রগুলো সংগ্রহ করে। এই বিষয়টি আমি সেই সময়ের মাদ্রাসা সুপারসহ একাধিক ব্যক্তিকে বিষয়টি জানালে তারা সেই বিষয়ে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তা আমার জানা নেই। কারণ ২০০৫সালে আমি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে আসি। তাই পরবর্তী বিষয়গুলো আমার জানা নেই। আল আমিন দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার হারুনুর রশিদ বলেন, বেলাল হোসেন ২০০০সালে আমার মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে ফেল করে। এরপর সে কোথায় লেখাপড়া করেছে তা আমার জানা নেই।

আরও পড়ুন : ইলিশা ফেরিঘাট এলাকায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

কাজী বেলাল হোসেন বলেন আমার সকল সনদপত্র সঠিক আছে। সকল সনদপত্রসহ কাগজপত্রাদি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া আছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড