• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কুড়িগ্রামে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে আগাম রবিশস্য পরিচর্চায় ব্যস্ত চাষিরা

  হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম

১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:১০
কুড়িগ্রাম
রবি শস্য পরিচর্চায় ব্যস্ত হয়ে পরেছে সবজিচাষিরা

কুড়িগ্রামে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে আগাম রবি শস্য পরিচর্চায় ব্যস্ত হয়ে পরেছে সবজিচাষীরা। তৃতীয় দফা বন্যার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে আবার নতুন করে সবুজ ফসল ফলাতে মাঠে নেমেছে তারা। জেলার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলায় রফতানি করা সবজিচাষীরা এবার বন্যায় ফসল হারিয়ে ফেলায় তার প্রভাব পরেছে বাজারগুলোতে। বাইরে থেকে আমদানি করা সবজির উচ্চমূল্যে নাভিশ্বাস অবস্থা সাধারণ মানুষের। এই অবস্থায় দেশীয় পরিচর্চায় বেড়ে ওঠা সবজির লকলক কাণ্ড আর সবুজ লতাপাতা দেখে মানুষের মুখে হাসি ফুঁটেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর তিনদফা বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। দীর্ঘস্থায়ী বন্যার ফলে মাঠে রোপনকৃত ধান, পাট, ভুট্টা, কাউন, চিনা, তিল ও মরিচসহ ১৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষি বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে ২৭ হাজার ৭৬১ জন কৃষককে পর্যায়ক্রমে সবজিবীজ বিতরণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় খরিপ-২ এর আওতায় মাঠে ফসল আবাদ হয়েছে ৪৯০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে মুলা ১২০ হেক্টর, লাউ ৭০ হেক্টর, পাটশাক ১৬০ হেক্টর ও লালশাক ১৪০ হেক্টর। এছাড়াও আগাম বন্যায় ক্ষতি কাটাতে শীতের আগেই আগাম বেগুনসহ অন্যান্য শাকসবজি লাগাচ্ছেন অনেক চাষিই।

সরজমিন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠে চলছে আগাম রবিশস্য ফসলের সবুজ সমারোহ। সবজিখ্যাত কিছু কিছু এলাকার মাঠ জুড়ে রয়েছে বেগুন, লাউ ও বিভিন্ন শাকের কোমল লতাপাতা বেড়ে ওঠার হাতছানি। কোথাও কোথাও লাল সবুজের সমারোহে ভরে উঠেছে মাঠ। কেউ জংলা ঠিক করছেন। কেউ ব্যস্ত পরিচর্চায়। অনেকে লাউ তুলছেন হাঁটে তুলবেন বলে। এছাড়াও শীতকালীন বাঁধাকপি ও ফুলকপির চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন বেশ কয়েকজন চাষি। নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে এবং অধিক লাভের আশায় কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা।

জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের বেগুন চাষি খলিল, আশরাফুল ও মইনুদ্দিন জানান, বাজারে বেগুনের চাহিদা বিবেচনা করে তারা প্রায় দেড় একর জায়গা জুড়ে বেগুন চাষ করছেন। তারা জানালেন, প্রতি বিঘায় বেগুন রোপণ করতে খরচ লাগে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বেগুন ক্ষেতে রোগ মুক্ত ও আবহাওয়া অনুকুলসহ বেগুনের ভাল দাম থাকলে ৮০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা বিক্রি করা যাবে। যাবতীয় খরচ মিটিয়ে বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হয়। আর যে সব চাষির অন্যের জমি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকয় কন্ট্রাক নিয়ে বেগুনসহ অন্যান্য সবজি চাষাবাদ করেছেন। তারও যাবতীয় খরচ মিটিয়ে বিঘা প্রতি ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।

আরও পড়ুন : জমিতে ফুটবল যাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ২৭হাজার ৭৬১জন কৃষকদের মাঝে সবজি বীজ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড