• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কুড়িগ্রামে নদী ভাঙনে গৃহহীন আরো শতাধিক পরিবার

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

১৩ আগস্ট ২০২০, ১৪:০৩
কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে আবারো বন্যা

কুড়িগ্রামে আবারো বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলায় ১০ ও ব্রহ্মপুত্রে ৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। ধরলার পানি বিপদসীমার মাত্র ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে অর্ধশত চরের নিচু এলাকা আবারও প্লাবিত হয়েছে। নিমজ্জিত হয়েছে রোপা আমনসহ কিছু বাড়িঘর। ধরলার ভাঙনে সদর উপজেলার সারডোব এলাকায় বিকল্প বাঁধের ৪ মিটার অংশ বিলীন হয়ে গেছে। প্রবল ভাঙন ও পানির তোড়ে টিকতে না পেরে ঘর বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে স্থানীয়রা। গৃহহীন মানুষ চলে যাচ্ছেন বাঁধ ও উঁচু রাস্তায়। গত ৪ দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙনের শিকার হয়ে আরো শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব গ্রামে গিয়ে দেখা যায় তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে এই পাড়ে। লোকজন ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছিলেন। ভাঙন কবলিতদের চোখে মুখে দিশেহারা অবস্থা। দীর্ঘদিনের বসতভিটা গিলে খাচ্ছে রাক্ষুসি ধরলা নদী। জমিজমাও খেয়ে ফেলেছে। এখন কোথায় যাবে তারা। এনিয়ে আশংকা আর হতাশায় শূন্য চোখে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পরপর দীর্ঘশ্বাস আর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে পরিবেশ।

দুটি নৌকায় গৃহস্থালি মালামাল তুলছেন নুর হোসেন ও তার পরিবার। গতকাল ঘরবাড়ি সরিয়েছিলেন। আজ বাকী জিনিষপত্র নিয়ে যাচ্ছেন। কোথায় ঠাঁই নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, রাস্তাত যায়া উঠছি। সে জায়গাতেও মানুষ বাঁধা দেয়। এমন অবস্থা হয়েছে নুরুন্নবী, আলম মিয়া, এমদাদুল, নজীর হোসেন, নজরুল, ছলিম উদ্দীন ও বিধবা কছিমন বেওয়ার। সবাই এখন গৃহহীন। নিজেদের এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আতংকিত।

এরই মধ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বিকল্প বাঁধটির ৪০০ মিটার অংশ বিলীন হয়ে গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবার পর ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে গ্রামবাসী। এখন প্রচন্ড স্রোতে ভাঙছে পুরো গ্রাম জুড়ে। অনেকেই ঘরবাড়ি সরানোর মতো অর্থ জোগাড় করতে পারছেনা। আবার মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই না থাকায় প্রায় সবাই বাঁধের রাস্তার উপর মালামাল স্তূপ করে রেখে একটি ছাপরা তুলে আছেন।

আরও পড়ুন : চুয়াডাঙ্গায় নতুন ৫১ জনের করোনা শনাক্ত

বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম জানান, সারডোবের ভাঙন প্রতিরোধে আপাতত বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। পানি নেমে গেলে ৮০০ মিটার অংশ স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষার কাজ করা হবে। তখন আর ভাঙনের সমস্যা থাকবেনা।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড