• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সংস্কারের অভাবে ভেঙে পড়লো শহর রক্ষা বাঁধ ও সড়ক, হুমকিতে জনবসতি

  মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

০৯ আগস্ট ২০২০, ১৬:২৫
মুন্সিগঞ্জ
ভেঙে পড়েছে মুন্সিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ

দীর্ঘদিন যাবত সংস্কারকাজের অভাবে অবশেষে ভেঙে পড়েছে মুন্সিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ ও মুক্তারপুর-রিকাবিবাজার সড়কটি। বেশ কয়েকদিন যাবত ধলেশ্বরী নদীর স্রোতের তীব্রতা ও যাত্রীবাহী বড় লঞ্চের ঢেউয়ে বাঁধের মালিরপাথর এলাকায় ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে। এতে বাঁধের পাশে থাকা বসতবাড়ি, শিক্ষা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়েছে সড়ক যোগাযোগ।

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মুক্তারপুর সেতু এলাকা থেকে রিকাবিবাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার বাঁধ ও তার পাশের সড়কটি বড় বড় খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধটির মালি পাথর এলাকা থেকে ফিরিঙ্গি বাজার এলাকা পর্যন্ত সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতাধিকেরও বেশি স্থান দিয়ে বাঁধ ও সড়কটি ধ্বসে নদীতে মিশে গেছে। এতে করে মুন্সিগঞ্জের ব্যবসায়িক কেন্দ্র রিকাবিবাজার ও কমলা ঘাট নৌবন্দরের সাথে এ পথ দিয়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে।

স্থানীয়রা জানান, এ বাঁধের পাশে শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ, নয়াগাঁও, মিরেশ্বর, বাগবাড়ী, মুক্তারপুর সেতু এলাকা, মালিরপাথর ও বিনোদপুর পর্যন্ত একাধিক স্থানে ফাটল সৃষ্টি, বাঁধের ব্লক সেটিং নষ্ট এবং গত বছর মালিরপাথর এলাকায় দু’দফা ভাঙনে মারাত্বক হুমকির মুখে পড়ে। ব্লক সেটিং খুলে গেলেও সংস্কার হয়নি। বালুবোঝাই বাল্কহেড বাঁধের সঙ্গে নোঙর করা। সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন স্থানে বালু নেওয়া। ইট-বালু ব্যবসায়ীরা বাঁধের ওপরে মালামাল নিয়ে ওঠা-নামার রাস্তা তৈরি করা, পাশের চালকলের তরল-বর্জ্য নদীতে ফেলার জন্য বাঁধ খুঁড়ে পাইপ বসানোসহ বিভিন্ন কারণে বাঁধ মারত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুমে বাঁধের মুক্তারপুর অংশে বড় ধরণের ফাটল দেখা দেয়। ধলেশ্বরীতে পানি বৃদ্ধিতে ভেঙে থাকা স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করে গত বৃহস্পতিবার থেকে বাঁধটি ভাঙনের কবলে পড়ে।

স্থানীদের অভিযোগ, বাঁধের নিন্মমানের কাজ, নির্মাণের পর বাঁধের সুষ্ঠু তদারকি না থাকা এবং স্বেচ্ছাচারীতার কারণে বাঁধ সহ রাস্তাটি ভেঙে পড়েছে।

ভাঙন কবলিত ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার রবিউল ইসলাম বলেন, যে ভাবে ভাঙছে তাতে দু একদিনের মধ্যে তাদের বাড়িও ভেঙে যেতে পারে। তিনি বলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাই। আতঙ্কে থাকি। কখন কি হয়ে যায়। শুধু রবিউল নয় ওই রাস্তার পাশে থাকা প্রতিটি পরিবার এমন শঙ্কা নিয়ে দিন পার করছে।

এদিকে ভাঙনের ফলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন ওই পথে চলাচলকারী ব্যবসায়ী ও পথ চারিরা।

এ সময় ১৫-২০ জন ব্যবসায়ী জানান, মুন্সিগঞ্জ বাজারসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে মুদি সদাই ক্রয় করতে আসতেন। রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় এ পথে যানবাহন বন্ধ আছে। তাই কেউ মালামালও নিতে আসছেনা। জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সমন্বিত শহর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের আওতায় ২৭ কিলোমিটার এই বাঁধের নির্মাণের কাজ ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে শুরু হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাঁধটির নির্মাণ ব্যয় সে সময় ৬৩ কোটি টাকা ধরা হয়। বাঁধটি পঞ্চসার ইউনিয়নের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকা থেকে শুরু হয়ে লঞ্চঘাট, ইসলামপুর, যোগনীঘাট, মুন্সিরহাট, কাটাখালি ও দেওয়ান বাজার ঘুরে মুক্তারপুর সেতুর কাছে এসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয় করে ফিরিঙ্গিবাজার থেকে হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকা পর্যন্ত মাত্র তিন কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ সমস্যা ও টাকার অভাবে বাকি ২৪ কিলোমিটারের কাজ আর শুরু হয়নি।

মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো.মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, মুক্তারপুর সেতু এলাকায় যেখানে ভাঙন ধরেছে, সেই বাঁধ ও রাস্তার কাজটি এলজিইডি করেছিলো। অন্য অংশ পানি উন্নয়ন বোর্ড করে ছিল। মুন্সিগঞ্জ শহরটি রক্ষার জন্য এ বাঁধ সংস্কার করা এখন খুব জরুরী। যে সব স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, ভাঙন ঠেকাতে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডির কর্মকর্তাদের সাথে বসবো। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েও যোগাযোগ করা হবে।

মুন্সিগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল হাসান বলেন, বাঁধ সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে একটি বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল । বরাদ্দ অনুমোদন হলে সংস্কার কাজটি সম্পন্ন করা হবে। তবে যে আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে, তাতে পুনরায় আবারও বরাদ্দ পাঠাতে হবে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী টি এম রাশিদুল কবীর জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে শহর রক্ষা বাঁধটি সংস্কার কাজ পিছিয়ে যায়। বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ব্লক তৈরি করা হয়েছে। ধলেশ্বরীর পানি কমলে সংস্কারের কাজ শুরু করবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড