• মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭  |   ১৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মুন্সীগঞ্জে করোনা ও বন্যায় ২৯ শতাংশ কম পশু কোরবানি

  মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

০৬ আগস্ট ২০২০, ১১:৩৪
মুন্সীগঞ্জ
অর্থসংকট থাকায় এবার অনেকেই কোরবানি করতে পারেননি

পবিত্র ইদুল আযহা মুসলমানদের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এই দিনটিতে সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তাদের প্রিয় পশু কোরবানি করেন। অত্যন্ত আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে উদযাপিত হয় দিনটি। কিন্তু এবার সে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। মানুষ আতঙ্কের মধ্যে এ ইদ উদযাপন করেন।

এবছর করোনা ও বন্যার কারণে মুন্সীগঞ্জ জেলায় প্রায় ২৯ শতাংশ কম পশু কোরবানি হয়েছে। অর্থসংকট থাকায় এবার অনেকেই কোরবানি করতে পারেননি। ফলে এবার জেলায় কোরবানি হয়েছে মাত্র ৪৪ হাজার ৮৭৩টি পশু। গতবার এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৩ হাজার পশু।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ৪৪ হাজার ৮৭৩টি পশুর মধ্যে ষাঁড় গরু রয়েছে ২৯ হাজার ৬২১টি, গাভী ৭ হাজার ৮৯৪টি, মহিষ ১২০টি, ছাগল ৬ হাজার ৮৬৮টি, ভেড়া ৩৪১টি ও অন্যান্য ৯টি পশু কোরবানি করা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্র জানায়, বন্যা ও করোনার প্রভাবে কোরবানির পশু বিক্রির সংখ্যা কমেছে এবার। গত ঈদুল আযহায় প্রায় ৬৩ হাজার পশু কোরবানি হয়েছিল। সাধারণত আগের বছরের তুলনায় প্রতিবছর আরও ৫ শতাংশ যোগ হয়। কারণ প্রতি বছর ৫ শতাংশ কোরবানি বাড়ে। অথচ করোনা ও বন্যার কারণে এবার উল্টো ২৯ শতাংশ কোরবানি কমেছে। করোনায় সবারই আয়-রোজগার কমেছে, তাই পশুর চাহিদাও কমেছে। করোনা ও বন্যায় অনেক খামারি কোরবানির ঈদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ঈদে জেলার কয়েকটি হাটে গরুর সংকট প্রসঙ্গে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানায়, জেলায় গবাদি পশু চাহিদার তুলনায় বাড়তি ছিল। করোনার কারণে মানুষ হয়তো কোরবানি কম দেবে, এই আশঙ্কায় বেপারিরা হাটে গরু একেবারেই কম তুলেছেন। তবে হাটে বড় গরুর অভাব না থাকলেও মাঝারি গরু কম ছিল। প্রথমে পশুর দাম কম হলেও পরে পশুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া কয়েকটি হাট বাদে জেলায় গরুর দামও ঠিক ছিল।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কুমুদ রঞ্জন মিত্র বলেন, করোনার কারণে এ বছর পশু কোরবানির সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। এছাড়া জেলা বন্যা কবলিত হওয়ায় পশু জবাইয়ের স্থান সংকট থাকায় কোরবানি দিতে পারেনি।

এদিকে পশুর হাটগুলোতে কোরবানির পশু সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, এ বছরের পেক্ষাপট ভিন্ন। মানুষের মুখে মুখে একটা বিষয় বার বার এসেছে, করোনার কারণে গরু কোরবানি কম হবে, মানুষের হাতে টাকা নেই। ফলে অনেক বেপারি হাটে গরু তুলতে ভয় পেয়েছেন। ফলে সাপ্লাই চেইনে সমস্যা হয়েছে। ছোট গরুর সংকট হলেও বড় গরু মোটামোটি ছিলো।

আরও পড়ুন : বন্যার পানি কমছে কিন্তু বাড়ছে দুর্ভোগ

অন্যদিকে, জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৮০৯ জন। এরমধ্যে মৃত রয়েছে ৬২ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ২৭ জন। পাশাপাশি বন্যায় মুন্সীগঞ্জ জেলার ছয়টি উপজেলাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

ইতোমধ্যে পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন ৪২ হাজার ৫৮৩টি পরিবার। বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছেন ৪৪টি ইউনিয়নের ৩১৯টি গ্রাম। এখন পর্যন্ত জেলায় ৮১টি আশ্রয়কেন্দ্রে মাত্র ৩৪৩টি বানভাসি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড