• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিশুদ্ধ পানির অভাবে বানভাসিরা

  সারাদেশ ডেস্ক

১৯ জুলাই ২০২০, ১৩:০৫
করোনা
ফাইল ফটো

করোনার মধ্যে অসহায় জনজীবন। আর এই অসহায় জনজীবনের সুযোগ নিয়েছে বন্যা। একদিকে করোনা অন্যদিকে বন্যা। এ যেন দুর্যোগের মাঝে এক মহাবিপদ। কষ্ট আর দুর্দশায় জীবন পার করছে বানভাসিরা। খাদ্যের পাশাপাশি এবার দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলের একটি ইউনিয়নের নাম বাঁচামারা। যমুনার পানিতে এই ইউনিয়নের বেশির ভাগ বাড়িঘরই তলিয়ে গেছে।

সরেজমিন ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কারো ঘরের চাল সমান পানি। কারো ঘরে গলা সমান। রাস্তা-ঘাট সব তলিয়ে গেছে। ডুবেছে হাট-বাজারও। বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে।

এদেরই একজন বাঁচামারা গ্রামের উসমান গণি। বাড়িতে পানি ঢুকেছে সপ্তাহ খানেক ধরে। বর্তমানে তার ঘরের ভেতর কোমর সমান পানি। পরিবার-পরিজন, গরু-ছাগল আর হাঁস-মুরগী নিয়ে এর মধ্যে বসবাস করা অসম্ভব। তাই নৌকার ভেতর মালামাল সব তুলে তিনি যাচ্ছেন পার্শ্ববর্তী চরকাটারি এলাকায়।

উসমান গণি জানান, ঘরের ভেতর পানি। কোথাও বের হওয়া যায় না। টিউবওয়েল ও টয়লেট তলিয়ে গেছে। পয়োনিষ্কাশন আর খাবার পানির তীব্র সংকট। রান্না-বান্নাও বন্ধ। তাই বাধ্য হয়ে একটু উঁচু জায়গায় আশ্রয়ের জন্য আপাতত বাড়ির মায়া ত্যাগ করছেন।

একই গ্রামের আ. রহিম জানান, ঘরে পানি ওঠার পর স্ত্রী আর ছোট সন্তানদের তিনি অন্যত্র রেখে এসেছেন। বাড়ি পাহারা দেয়ার জন্যই কষ্টে করে আছেন তিনি। চিড়া-মুড়ি খেয়েই কাটছে তার দিন।

তিনি বলেন, এই বিপদে সরকার পাশে না দাঁড়ালে তাদের বাঁচা সম্ভব নয়।

মানিকগঞ্জের বন্যা কবলিত হরিরামপুর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলার চরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকার চিত্রই এমন। ঘরের ভেতর উঁচু মাচা করে অনেকেই আছেন চরম কষ্টে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দুর্গতদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করলেও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি বেশির ভাগ এলাকায়।

দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, তার ইউনিয়নের ৯০ ভাগ বাড়ি ঘরেই এখন পানি। বন্যার শুরুতেই নদী ভাঙনেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক মানুষ। করোনার এই সময় বন্যা ও নদী ভাঙনে বিপর্যস্ত তারা। ইউনিয়ন পরিষদের পাশে উঁচু জায়গায় অনেকেই স্থান নিয়েছেন। কিন্তু সেখানেও জায়গা সংকুলান হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় ১৩০ মেট্রিক টন চাল এবং ১ হাজার ৩০০ প্যাকেট শুকনা খাবার সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২০ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৭০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড