• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রানীনগরে বৃদ্ধি পাচ্ছে পুষ্টিগুন সম্পন্ন কচু ও লতির চাষ

  কাজী কামাল হোসেন,নওগাঁ

১৩ জুলাই ২০২০, ১৫:২৩
নওগাঁ
মাঠ পরিদর্শন করছেন কৃষি কর্মকর্তা (ছবি : সংগৃহীত)

নওগাঁর রাণীনগরে চলতি মৌসুমে কচু চাষে সফলতা পেয়েছেন উপজেলার অনেক কৃষক। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-আইরনসহ পুষ্টিগুন সম্পন্ন সবজি হচ্ছে কচু। কচু মূলত গরীবের সবজি হিসেবে বেশি পরিচিত। মুখি কচু চাষে কোনো ঝুঁকি না থাকায় উপজেলায় বাণিজ্যিক ভাবে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে অধিক লাভজনক কচু ও কচুর লতি চাষ। মুখি কচু চাষে উৎপাদন খরচ খুব কম হওয়ায় লাভের পরিমাণ অনেক বেশি।

রানীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা, বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৮হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে কচুর চাষ হচ্ছে। মুখিকচু হিসেবে পরিচিত স্থানীয়ভাবে লতিরাজ জাতের কচু অনেকের কাছেই জনপ্রিয় সবজি হয়ে উঠেছে। ক্রমাগত চাহিদা বৃদ্ধি ও ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় উপেজলার বির্স্তীণ এলাকাসহ এ অঞ্চলের কচু চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে।

চলতি মৌসুমে উপজেলায় উপযুক্ত জমি, অনুকূল আবহাওয়া ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতায় কচুর চাষ ভালো হয়েছে। শ্রমিক খরচ কম ও চাষাবাদে স্বল্প ব্যয় হওয়ায় অনেক কৃষক কচু ও কচুর লতির চাষকে বাণিজ্যিক ভাবে গ্রহণ করেছেন। কম উৎপাদন খরচ ও ভালো মুনাফার কারণে উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মুখিকচু চাষ।

উপজেলায় সাদা ও লাল রঙ্গের কচুসহ বিভিন্ন জাতের কচুর চাষ করছেন কৃষক। প্রায় সব জাতের কচুই পানিমগ্ন এলাকায় ও লতিরাজ কচু কিছুটা উচু জমিতে ভালো হয়। ধান চাষের চেয়ে প্রায় ৫গুন বেশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা কচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কচু চাষে খুব অল্প পরিচর্যা করতে হয়। তাই এর চাষে ঝুঁকিও অনেক কম। এছাড়া ঝড়ে হেলে পড়া কিংবা শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতির কোন আশঙ্কা নেই। কচু গাছের বহুমুখি ব্যবহার হয়।

প্রথমতো কচুর পাতা সবজি হিসেবে খাওয়া যায়, কচুর শক্ত শরীর ও কচুর লতি পুষ্টিকর তরকারি হিসেবে এবং কচুর গাছ থেকে মূল বা চারা হিসেবেও বিক্রি করা যায়। তাই একজন কৃষক অনায়াসে এক বিঘা জমিতে কচুর আবাদ থেকে প্রতি মৌসুমে প্রায় ১লাখ টাকা লাভ করতে পারেন কোন ঝুঁকি ছাড়াই। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে কচুকন্দ ও কচুর লতি ৪০-৪৫টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এবং আগামীতে এই দাম আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যান্য সবজির চেয়ে কচুর স্বাদ ও পুষ্টিগুন বেশি থাকায় এর চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। এতে কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। গরু, ছাগল কচু খায় না এবং তা দেখাশোনার জন্য বাড়তি কোনো শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। মুখি কচু চাষে কোনো ঝুঁকি নেই। কৃষক জমিতে মুখি কচু রোপন করে তুলনা মূলক কম সময়ে অথ্যাৎ ৪৫দিনের মধ্যে বিক্রি করতে পারেন। কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব (গবর) সার করছেন।

জানুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে লতিরাজ জাতের কচু পাওয়া যায়। এই কচু চাষ মধ্য এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে মধ্য ডিসেম্বর ৮মাস পর্যন্ত চলে। প্রতি বিঘা জমি হতে ৮০ থেকে ১শত মণ পর্যন্ত কচু উৎপাদন হয়।

উপজেলার নগর ব্রিজ এলাকার কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ঝামেলা কম ও কম খরচে কচুতে আমি চলতি মৌসুমে অনেক লাভ করেছি যা অন্য কোন ফসল থেকে সম্ভব নয়। তাই আগামীতে আমি কৃষি অফিসের পরামর্শে দ্বিগুন জমিতে কচু চাষ করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে উপজেলার কৃষকরা অধিক লাভজনক কচু চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কচু পরিবেশ বান্ধব, বিষমুক্ত ও পুষ্টির শস্য। কৃষি বিভাগ আগ্রহী কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল কচুর চারা সরবরাহ করাসহ সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এছাড়াও কচু চাষে জমির উর্বরতা শক্তিও বৃদ্ধি পায়। কৃষকরা কচু চাষের পর ওই জমিতে অন্যান্য ফসলও চাষ করতে পারবেন। তবে দিন দিন বাজারে অধিক পুষ্টিগুন সম্পন্ন কচুর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়াই এর চাষের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি অফিস কচু চাষে আগ্রহী কৃষকদের অধিক ফলনশীল কচুর চারা সরবরাহ করা থেকে শুরু করে সার্বিক সহোযিগতা দিয়ে আসছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড