• শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কুড়িগ্রামে প্রভাবশালীদের কাছে অসহায় পৌরসভা

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

০৮ জুলাই ২০২০, ১৫:৫২
কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন

কুড়িগ্রামে নকশা বহির্ভূত ইমারত নির্মাণ কাজ বন্ধকরণ ও অবৈধ অংশ অপসারণের নোটিশ জারির পরও থেমে থাকেনি কাজ। সরকারি জায়গায় কলাম স্থাপনসহ সানসেট চলে গেছে অন্যের জায়গায়। বিল্ডিং-এর মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় নোটিশ দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে আছে পৌরসভা। ফলে ভোগান্তিতে পরেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

অভিযোগে জানা যায়, কুড়িগ্রাম পৌরসভাস্থ নাজিরা ডাক্তার পাড়ায় কিশলয় আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ৪তলা ভবন নির্মাণ করছেন একাধারে ঠিকাদার, ইটভাটা ও কোল্ড স্টোরেজের মালিক গোলাম মোস্তফা। করোনাকালিন সময়ে হঠাৎ এক মাসের মধ্যে তিনি বিল্ডিং-এর নীচটি ফাঁকা রেখে উপরে ছাদের কাজ শুরু করেন। সীমানার মধ্যে ভবন নির্মাণ করায় উপরের সানসেট চলে যায় অন্যের বাড়িতে। এনিয়ে প্রতিবেশী বাড়ির মালিক আজাদুন্নবী আনছারী ভবন নির্মাণ আইন ভঙ্গ করে বিধি মোতাবেক কাজ না করায় পৌরসভাসহ কুড়িগ্রাম সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পৌরসভা থেকে চলতি বছরের ১৪ জুন নকশা বহির্ভূত নির্মাণ কাজ অপসারণের জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়। প্রভাবশালী বাড়ির মালিক গোলাম মোস্তফা নোটিশ উপেক্ষা করে সমঝোতার কথা বলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পৌরসভা থেকে বারবার নোটিশ দেয়া হলেও তা মানছেন না তিনি। এদিকে নির্মাণ আইন ভঙ্গ করা হলেও অদৃশ্য ইশারায় হাত গুটিয়ে বসে আছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় রাজমিস্ত্রি আবু হোসেন জানান, আমরাও বিল্ডিং এর কাজ করি। এমন বেআইনি কাজ আমরা কোথাও দেখিনি।

আরেক প্রতিবেশী নুরে আলম সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মিলন জানান, এরা সরকারি জায়গায় কলাম স্থাপন করেছে। উপরের সম্পূর্ণ অংশ চলে গেছে অন্যের জায়গায়। পৌর কর্তৃপক্ষ ডিজাইন অনুমোদন কিভাবে করল বুঝতে পারছি না। অন্যের বেলায় সামান্য কিছু হলেই পৌরসভার লোকজন খুঁটি উপড়ে ফেলেন। এখানে দুর্বলের জন্য এক আইন আবার প্রভাবশালীর জন্য আরেক আইন। অবৈধ অপসারণ বন্ধে পৌরসভার কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান তারা।

ওই ওয়ার্ডের কমিশনার মোস্তফা কামাল জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশী ও অভিযোগকারী আজাদুন্নবী আনছারী জানান, ২০১৯ সালে কাজ শুরুর পর থেকে আমি পৌরসভায় অভিযোগ করে আসছি। উনি নকশায় প্রদর্শিত ফাঁকা অংশে বাউন্ডারী ওয়াল দিয়ে তার ভিতরেই ভবনের নির্মাণ কাজ করছেন। ফলে নির্মাণ সামগ্রীর মালসামানা আমার বাড়ির ভিতর আছড়ে পরছে। এতে শিশু সন্তানসহ পরিবার নিয়ে আতংকে আছি। এখানে মীমাংসার কিছু নেই। অবৈধ অংশ না ভাঙলে সারাজীবন ভবনটি শূন্যে আমার বাড়ির ভিতরে রয়ে যাবে। ফলে এই বিল্ডিং-এর সমস্ত কিছু আমার বাড়িতে পরবে।

এ ব্যাপারে পৌরসভার টাউন প্লানার গৌতম কুমার রায় জানান, উনি করোনাকালিন সময়ে নকশা বহির্ভূতভাবে ভবনের কাজ করছেন। প্রসেস মেনে কাজ বন্ধ রেখে অবৈধ অংশ অপসারণের জন্য পৌরসভা থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

নোটিশ জারীর পরও কিভাবে কাজ করছে এমন প্রশ্নের জবাবে কুড়িগ্রাম পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল আহমেদ জানান, একজন পৌরকমিশনারসহ আপোস মীমাংসার জন্য বসার কথা শুনেছি। সরকারি রাস্তায় কলাম স্থাপন এবং অন্যের বাড়িতে সানসেট চলে যাওয়ার পরও অবৈধ অংশ না ভেঙ্গে কিভাবে আপোস মীমাংসা হয় এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
nite
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
jachai

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড