• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সন্তানকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে নিয়ে পানিতে তলিয়ে যায় মা!

  রিয়াদ হোসাইন, মুন্সিগঞ্জ

০১ জুলাই ২০২০, ১৫:০৮
মুন্সিগঞ্জ
নিহত মা ও সন্তান

মায়ের কোল সন্তানের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। মা সারা জীবন তার কোলে আঁকড়ে ধরে রাখতে চান তার সন্তানকে। মৃত্যুর সময়ও লঞ্চের ভিতরে তার শিশু সন্তান যাতে তার কোল হতে হাড়িয়ে না যায় সে জন্য পরিহিত বোরকার শরীরের পিছনে বাধা ফিতা খুলে সন্তানকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে সেই ফিতা বেধে সন্তানকে নিয়ে পানিতে তলিয়ে যায় মা মারুফা।

হয়তো সে ভেবেছিলো পানিতে তলিয়ে মারা গেলে ছোট ২২ মাসের শিশু আবু তালহার লাশও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। পানির স্রোতে হারিয়ে যাবে ছোট তালহার লাশও। এমন ভেবেই হয়তো পরিহিত বোরকার ফিতা খুলে নিজ বুকে জড়িয়ে ধরে সেই বোরকার ফিতা দিয়ে বেধে রেখেছিলেন শিশু তালহাকে।

এমনটাই বলেছেন মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আপরকাঠি গ্রামের নিহত মারুফা বেগমের (২৮) স্বামী বিল্লাল দেওয়ান। স্ত্রী ও শিশু সন্তান তালহাকে হারিয়ে অপর সন্তান নাঈমা ইসলামকে (৬) সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজছে সে। নাঈমা রাতে কয়েকবার নিহত মাকে খুঁজেছে। গত মঙ্গলবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে কয়েকবার বাবাকে বলেছে মায়ের কবরের পাশে নিয়ে যেতে। সে মাকে ও ভাইকে দেখবে বলে বায়না ধরছে।

বিল্লাল দেওয়ান আরো জানান, তার স্ত্রী মারুফা বেগমের পিত্ত থলির নিচে পাথর হয়েছিল। তাই ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে সে তার শিশু ছেলে তালহাকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিল। সাথে তার ভায়রা মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কুকটিয়া গ্রামের আলম বেপারীও ছিলো।

সকাল সাড়ে আটটার দিকে কয়েকবার স্ত্রীর মোবাইলে ফোন দেয় সে। স্ত্রী ফোন না ধরায় ভায়রা আলম বেপারীর সাথে কথা হয় তার। সে সময় ভায়রা আলম বেপারী জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই লঞ্চঘাটে নামবে তারা। কিন্তু তারপর ৯ টার দিকে স্ত্রী, ভায়রার মোবাইলে ফোন দিয়ে ফোন বন্ধ পেয়ে উৎকণ্ঠায় থাকেন তিনি। পরে জানতে পারেন ঢাকার শ্যামবাজার এলাকায় লঞ্চ ডুবির কথা। তিনি আরো জানান, তখন তার আর বুঝতে বাকি ছিলোনা যে তার জীবনের সব শেষ হয়ে গেছে।

পরে দুপুরের দিকে প্রথমেই তার স্ত্রীর ও ছেলের লাশ উত্তোলন করেন উদ্ধারকারীরা। উদ্ধারকারীরা তাদের জানিয়েছেন তার স্ত্রীর বোরকার ফিতা দিয়ে সন্তান তালহাকে বেধে বুকের মধ্যে জড়িয়ে রেখেছিলেন৷ পরে গত সোমবার বিকাল ৪ টার দিকে নিহতদের লাশ বুঝিয়ে দিলে তাদের রাত ৮টার দিকে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। 

এর আগে গত সোমবার  রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে মনিংবার্ড নামের লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটে। ওই লঞ্চের যাত্রী ছিলেন নিহত উপরোক্ত তিন জন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড