• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কুড়িগ্রামে বিজিবি’র বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

২৮ জুন ২০২০, ১৫:৪৬
কুড়িগ্রাম
সংবাদ সম্মেলন

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিজিবি জওয়ানদের সাথে বাক বিতণ্ডার জের ধরে দুই কলেজ ছাত্রকে ইয়াবা দিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে মামলা দেয়া হয়েছে বলে পরিবার থেকে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার দুপুরে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে নির্দোষ সন্তানকে ফিরে পেতে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে সৈয়দ শামসুল হক মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার। পরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান নির্যাতিতর পিতা আলহাজ সৈয়দ জামান।

অভিযোগে বলা হয়, গত দেড় মাস আগে রৌমারী উপজেলার বালিয়ামারী খেয়াঘাটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র মশফিকুর রহমান মামুন ও হেমায়েত উল্যাহ হিমুর সাথে বিজিবি’র এফএস সদস্য জসিম ও মামুনের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এরই জের ধরে চলতি মাসের ২২জুন মামুন ও হিমুকে রৌমারীর সায়দাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদেরকে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। এরপর ১৯৭পিচ ইয়াবা দিয়ে দুই কলেজ ছাত্রের নামে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। যদিও ছেলেকে রৌমারীতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারা তাদেরকে রৌমারী ক্যাম্পে না দিয়ে অন্য উপজেলায় নিয়ে যায়। যাতে তাদের মনের ঝাল মেটাতে পারে। পরে আমরা মামলার কাগজ তুলে সাক্ষীদের সাথে কথা বলে জেনেছি সাক্ষী সাদ্দাম হোসেন ও রফিকুল ইসলাম জানেই না তাদের সাক্ষী করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তারা বলেছেন জোর করে তাদের স্বাক্ষর নিয়েছে বিজিবি জওয়ানরা। সংবাদ সম্মেলনে নির্দোষ পুত্র ও ভাতিজার নি:শর্ত মুক্তি চেয়েছেন নির্যাতিতদের পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে মামুনের পিতা সৈয়দ জামান অভিযোগ করেন, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডাকায় আমাকে বিজিবি থেকে শাসানো হচ্ছে। তারা বলছে সীমান্ত এলাকায় থেকে বিজিবির সাথে টক্কর দিতে গেলে এর পরিণাম ভয়াবহ হবে। এর আগে রৌমারীতে সকল স্তরের মানুষ আমার পুত্র ও ভাতিজার উপর অমানুষিক নির্মম নির্যাতন করে মামলা দিয়ে ফাঁসানোয় মানববন্ধন করা হয়। সে নিয়েও আমাকে ভয়-ভীতি ও হুমকি দেয়া হয়। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যে কোন মূহুর্তে তারা আমার ভয়ানক ক্ষতি করতে পারে। এজন্য সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি। অপরাধী ধরা পরুক এটা আমরা সবাই চাই। কিন্ত নিরপরাধ ব্যক্তি সাজা পাক এটা আমরা চাই না। 

এ ব্যাপারে বিজিবি’র এফএফ জসিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি গত ৫দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পরে আছি। অভিযুক্তদের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এমন ঘটনার অবতারণা করছে। আমি নির্দোষ। সর্বোচ্চ আদালতের বিচার আমি মেনে নেবো। দেড় মাস আগে দুই কলেজ ছাত্রকে চ্যালেঞ্জ করা হলে তারা বিজিবি’র সাথে ইংরেজিতে কথা বলেন। মন্ত্রী-এমপির লোক বলে শাসান। পরে লোকজন জড়ো হলে অভিযুক্ত মামুনের পিতা ছেলে বেয়াদব বলে ক্ষমা চেয়ে লিখিত আবেদন করলে আমরা সেখান থেকে চলে যাই। 

এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলার দায়িত্বে থাকা জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল এস এম আজাদ এসইউপি মোবাইলে জানান, মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নিরপরাধ ব্যক্তির যাতে ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। আমরা গত দশ মাসে ৮০ থেকে ৯০ জন আসামি ধরেছি। যাদের অধিকাংশরাই ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। আসামিদের ৯০ ভাগ আলগার চরের লোক। তারা প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে এই আলগার চরে অবৈধ গরু আটক করতে গেলে টহলরত বিজিবির উপর হামলা চালায় গ্রামবাসী। তারা বেশ কয়েকবার বিজিবি উপর হামলা চালিয়েছে যাতে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে। আমরা কঠোর হস্তে মাদক দমন করতে গিয়ে হামলা ও অপরাধের শামিল হচ্ছি। এখন বিজিবির উপর মাদক ব্যবসায়ীদের রাগ বা আক্রোশ রয়েছে। জসিম ওই দিন ঘটনাস্থলে ছিল না। সে অসুস্থ। তারপরও অপরাধীদের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছি। অবশ্যই নির্দোষ ব্যক্তি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত  না হয় সেটা আমরা যাচাই করে তারপর পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করি। 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড