• রোববার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

২০ বছর পর হারানো ছেলেকে খুঁজে পেলেন মা

  নজরুল ইসলাম শুভ, সোনারগাঁ

০২ জুন ২০২০, ০৮:৫৩
সোনারগাঁ
হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে খাওয়াচ্ছেন মা

এই পৃথিবীতে অনেক ঘটনাই আছে ছেলের জন্য মা জাতি কি না করতে পারে তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে সোনারগাঁয়ে। হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ২০ বছর পর খুঁজে পেয়ে মা তার জন্য প্রায় ১ টি বছর রয়ে গেল স্বামীর ভিটামাটি ছেরে সোনারগাঁয়ে ভাড়া বাসায়।

সে ২০১৯ইং সালের মার্চের কোন এক দিন মাসুদের মা হঠাৎ এক মহিলার মাধ্যমে জানতে পারেন সোনারগাঁয়ে পানাম এলাকায় একটি পাগল দেখেছি দেখতে হুবহু মাসুদের মতো। যেদিন শুনতে পান ঠিক তার পারে দিনেই পানাম এলাকায় এসে খুঁজতে থাকেন তার ছেলেকে। ভাগ্যক্রমে পেয়ে যান। মায়ের মুখে যেন ভুবন ভোলানো হাসি। চোখে আনন্দাশ্রু। ২০ বছর পর সন্তানকে খুঁজে পেয়ে মা অনেকটাই বাকরুদ্ধ। এই দৃশ্য দেখা গেল সোমবার (১ জুন)  নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে।

সন্তান ফিরে পেয়ে মা ফজিলাতুন নেসা (৭৫) জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি গ্রামে বসবাস করেন। তাঁর স্বামী মৃত ফটিক চান। ১৯৯৯ সালে তাঁর ছেলে মাসুদ মিয়া বাড়ি থেকে কাজের সন্ধানে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ ছেলের সন্ধানের জন্য কবিরাজ ও বিভিন্ন মানুষের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি দেশের সব কটি জেলা ঘুরেছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানেও গিয়েছিলেন। নিখোঁজ ছেলের খোঁজে জমিজমা ও বসতভিটার প্রায় সবই বিক্রি করেন তিনি। এক মহিলার মাধ্যমে     জানতে পারেন, সোনারগাঁয়ের পানাম নগরে তাঁর ছেলের মতো দেখতে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ২০ বছর ধরে বিভিন্ন সড়কে ঘোরাফেরা করছে। পরে পানাম নগরে এসে দেখেন, মানসিক প্রতিবন্ধী ওই যুবকের পিঠের ডান পাশে আঘাতের চিহ্ন, বাঁ কানটি বাঁকা, যা তাঁর ছেলেরও ছিল। অর্থাৎ যুবকের চেহারাসহ সবকিছুর সঙ্গেই তাঁর ছেলের মিল রয়েছে। তখনই তিনি আনন্দে কেঁদে ফেলেন। পরে ছেলের খাবারের ব্যবস্থাসহ তার সেবাযত্নকরার জন্য তিনি পানাম নগরের পাশে একটি বাড়ি ভাড়া নেন। সে বাড়িতে থেকে তিনি দিনে ও রাতে রান্না করে ছেলেকে খাওয়ান 

সোমবার দুপুরে পানাম নগরে গিয়ে দেখা যায়, পানাম নগরের একটি দোকানের পাশে বসে ছেলেকে ভাত মাছ ও শাকসবজি খাওয়াচ্ছেন ফজিলাতুন নেসা।

ফজিলাতুন নেসা বলেন, ‘আমার ছেলেটি কীভাবে মানসিক প্রতিবন্ধী হলো, তা জানতে পারছি না। সে আমাকে চেনে না। সুস্থ-কর্মঠ ছেলে কীভাবে প্রতিবন্ধী হলো জানি না। তবে আমি শেষ জীবনে এসে আমার বুকের ধনকে দেখতে পেলাম, এখন মরে গেলেও আর আফসোস নেই। ভালো কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে তার চিকিৎসা হলে হয়তো সে সুস্থ হবে। আমাকে মা বলে ডাকবে। কিন্তু চিকিৎসার এত ব্যয়ভার আমার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

সোনারগাঁ পৌরসভার মেয়র সাদেকুর রহমান বলেন, ‘এই মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেটি ২০ বছর ধরে পানাম নগর ও আশপাশের সড়কে ঘুরেফিরে রাতে পুরনো ভবনে ঘুমায়। স্থানীয় মানুষকে এত বছরে সে আপন করে নিয়েছে। বাক‌প্রতিবন্ধী ছেলেটিকে এত বছর পর তার পরিবার খুঁজে পেয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তার পরিবার চাইলে আমরা তাকে আর্থিক সহায়তা দেব

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড