• রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফরিদপুরে দেড় মাসে করোনা উপসর্গ নিয়ে ১৩ জনের মৃত্যু, সকলেরই রিপোর্ট নেগেটিভ!

  ফরিদপুর প্রতিনিধি

৩১ মে ২০২০, ১০:৫৬
ফরিদপুর
ছবি : সংগৃহীত

ফরিদপুরে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে গত ১৯ মে মারা যান প্রথম কোন ব্যক্তি। এরপর থেকে শনিবার পর্যন্ত সরকারই হিসেবে এ রোগে মারা গেছেন সবমিলিয়ে পাঁচজন। 

তবে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে গত দেড় মাসে ফরিদপুরে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ হতে এদের শারীরিক নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার পর সকলেরই করোনা নেগেটিভ এসেছে বলা হলেও জনমনে এনিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়ে গেছে। নিহতদের স্বজনদের অভিমত, সঠিকভাবে মৃতদের শরীরের নমুনা সংগ্রহ না করা কিংবা মৃত্যুর দীর্ঘক্ষণ পরে নমুনা সংগ্রহের পরে অনেকে করোনায় মারা গেলেও তাদের পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পরেনি। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ এজন্য মৃতদের পরিবারকেই দায়ী করছেন।

ফরিদপুরে গত বুধবার (২৭ মে) শহরের আলীপুর আলাউদ্দিন খাঁ সড়কে নিজ বাড়িতে মারা যাওয়া রাহাত ফকির নামে ৩২ বছরের যুবকের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে। ওই তরুণের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ওই তরুণ জ্বর, গলা ব্যথা ও পাতলা পায়খানাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। 

তার আগে ৪ মে পেটে ব্যথা ও জ্বর নিয়ে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে মারা যান সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বুকাইল গ্রামের মদন মোহন গাঙ্গুলীর পুত্র সজল গাঙ্গুলী (৩২)। একই দিনে সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের রিয়াজউদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গি গ্রামে মারা যান মোঃ বাচ্চু শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তি। তিনি পাঁচদিন যাবত বাচ্চু শেখ জ্বরে আক্রান্ত ছিলো। 

২৫ এপ্রিল শনিবার শ্বাসকষ্ট নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দুই নারী। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মারা যান সালথা উপজেলার আটঘর ইউপির সাড়কদিয়া গ্রামের সিরাজউদ্দিন মেখের মেয়ে শান্তা ইসলাম নামে এক তরুণী। এরপর দুপুর ১২টার দিকে মারা যান চরভদ্রাসন সদর ইউপির শহীদ হোসেনের স্ত্রী রেহানা খাতুন। তাদের মধ্যে একজন শুক্রবার সকালে ও একজন রাতে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার সকালে করোনা পরীক্ষার জন্য দুজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

২৬ এপ্রিল রোববার সদরপুরে জ্বর, কাশি ও মাথা ব্যাথাজনিত উপসর্গ নিয়ে  নিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। ওইদিন দুপুর ১টার দিকে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পথে মারা যায় ওই কিশোরী। গত আটদিন ধরে সে জ্বরে ভুগছিল। তার বাড়ি সদরপুরের সদর ইউনিয়নের পশ্চিম শ্যামপুর গ্রামে।

১৮ এপ্রিল শনিবার নগরকান্দা উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। কোদালিয়া শহীদ নগর ইউনিয়নের ভাজনকান্দা গ্রামের হেমায়েত মুন্সির ছেলে চঞ্চল মুন্সি (৩৫)। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় যাবত চঞ্চল মুন্সি জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথায় ভুগছিলেন বলে পরিবার থেকে বলা হয়েছে। 

১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার নগরকান্দার চরযশোরদী ইউনিয়নের বানেশ্বরদী গ্রামের হায়দার শিকদারের স্ত্রী হাসি বেগম (৩৮) করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। হাসি বেগম গত কয়েকদিন যাবত সর্দি, কাশি, জ্বর ও ডায়রিয়ায় ভুগছিলেন। তার স্বামী হায়দার শিকদার (৫০) এবং ছেলে আবুল বাশার মিয়াও (২০) অসুস্থ ছিলেন।

১৫ এপ্রিল বুধবার ভাঙ্গায় চান্দ্রা ইউনিয়নের ছরিলদিয়া গ্রামের হারুন মাতুব্বরের ছেলে শাহীন মাতুব্বর (১৭) ঘুমের মধ্যে মারা যায়। তার জ্বর ছিলো বলে জানা গেছে। পরেরদিন বুধবার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে দাফন করা হয়। তার আগে নমুনা সংগ্রহ করে একটি মেডিকেল টিম। 

১১ এপ্রিল শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শ্বাসকষ্ট নিয়ে সদরপুর উপজেলার আকটেরচর ইউনিয়নের আকট কালিখোলা গ্রামের করিম মোল্লার ছেলে মো. কাদের মোল্লা (৫৩) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তার শরীরের উপাত্ত সংগ্রহ করে পরেরদিন ঢাকায় পাঠানো হয়।

একই দিনে ফরিদপুরের মধুখালী রাস্তার পাশে সারাদিন পড়ে থেকে হৃদয়বিদারক মৃত্যু হয় ঝিনাইদহের খাজুরা এলাকার সামাদ মণ্ডল (৪৮) নামে এক দিনমুজরের। পাশের জেলা হতে দিনমজুর করতে এসেছিলেন তিনি। পরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাস্তার ধারে সারাটি দিন কাতরানোর পরেও করোনা সন্দেহে তার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি কেউ। খবর পেয়ে প্রশাসনের লোকেরা দীর্ঘসময় পর তাকে উদ্ধার করে গভীর রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তবে তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

৬ এপ্রিল সোমবার সকাল ৯টার দিকে ফমেক হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের চর মুরারদিয়া গ্রামের আবু শেখ মারা যান। তিনি কিডনি রোগী ছিলেন। গত ৪ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে ভর্তির পর রবিবার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট হলে  তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিলো। একইদিনে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদি ইউনিয়নের রায়পাড়া গ্রামের আইজদ্দিন মাতুব্বরের ছেলে সালাম মাতুব্বর (৭০) সোমবার ভোররাতে মারা যান। তিনি লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তার জ্বর কিংবা শ্বাসকষ্ট ছিলো। 

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে যারা মারা গেছেন তাদের অনেকের মৃত্যুর খবরটিও আমাদের নিকট দেরিতে দেয়া হয়। এজন্য হয়তো মৃত ব্যক্তির নমুনা নিতে কিছু সময় দেরি হয় কোথাও। এটি ঠিক যে, মৃত ব্যক্তির শরীরের নমুনার চেয়ে জীবিত ব্যক্তির নমুনার পরীক্ষা অধিকতর ভাল ফল আসে। তিনি সকলের প্রতি অনুরোধ জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে যারা বাড়িতে চিকিৎসা নেন তারা যেনো রোগীর অবস্থা মুমুর্ষ হওয়ার আগেই স্বাস্থ্য বিভাগকে রোগীর সম্বন্ধে অবগত করেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড