• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আম্ফানে ভেসে গেছে ৪৬৩৫ চিংড়ি খামার

  বাগেরহাট প্রতিনিধি

২২ মে ২০২০, ১০:৫১
চিংড়ি খামার
জোয়ারে ভেসে গেছে চিংড়ি খামার (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সুপার সাইক্লোন আম্ফানের স্বাভাবিক জোয়ারের থেকে ৭ থেকে ৮ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাসে বাগেরহাট জেলায় ৪ হাজার ৬৩৫ চিংড়ি খামারের মাছ ভেসে গেছে। একই সঙ্গে ভেসে গেছে জেলার ৪ হাজার ৬শত ৩৫টি মৎস্য ঘের। সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে মোংলা, রামপাল, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও উপজেলায়। 

এতে জেলার কয়েক হাজার চিংড়ি চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সরকারিভাবে ক্ষতি ধরা হয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। তবে বেসরকারি হিসেবে এক্ষতির পরিমাণ আরোও বেশি বলে জানিয়েছেন চিংড়ি চাষীরা।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের  নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ উদ জামান মুঠোফোনে জানান, সুপার সাইক্লোন আম্ফানের স্বাভাবিক জোয়ারের থেকে ৭ থেকে ৮ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাসে বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলায় ২শ মিটার রিংবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ডুকে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্থ বাধ নির্মাণে কাজ শুরু করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে বুক পেতে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তীব্রতা কমিয়ে দিয়ে লোকালয়ের মানুষদের এবারও রক্ষা করা সুন্দরনের বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতির হয়নি। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের প্রাথমিক হিসেবে ৮টি বন অফিসের টিনের চালা উড়ে গেছে ও সম্পূর্ন ভেঙ্গে গেছে ৫টি জেটি। বনের জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতির হিসেব এখনো পাওয়া যায়নি। 

জেলায় কিছু কাচা ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। সামান্য ক্ষতি হয়েছে আউস ধানসহ গ্রীষ্মকালীন সবজির। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার ১ হাজার ৩১টি আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা প্রায় ২লাখ মানুষ তাদের নিজ-নিজ বাড়ীতে ফিরে গেছেন।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মুঠোফোনে জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে বন তলিয়ে যাওয়ায় সুন্দরবনের কটকা, দুবলা, চরাপুটিয়া ও কোকিলমুনি বন অফিসের কম্পাউন্ডে দল বেঁধে আশ্রয় নেয়া কয়েক শত হরিণ বনে ফিরে গেছে। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে সুন্দরবনে প্রথমে আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন আম্ফান। প্রাথমিক ভাবে ৮টি বন অফিসের টিনের চালা উড়ে গেছে ও সম্পূর্ন ভেঙ্গে গেছে ৫টি জেটি। কোন বন্য প্রানী মারা যাবার খবর বা বনের গাছপালার ক্ষয়ক্ষতির হিসেব এখনো পাওয়া যায়নি।

বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক  রঘুনাথ করের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ঘূর্নিঝড়ে আগেই জেলার বোরে ধান কৃষকেরা ঘরে তুলে ফেরতে সক্ষম হয়েছিল। তবে ঝড়ে আউস ও গ্রীষ্মকালীন সবজির সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তা নিরুপনের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড