• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গরিবের চাল চেয়ারম্যান-মেম্বারের পেটে!

  নগরকান্দা প্রতিনিধি, ফরিদপুর

১৮ মে ২০২০, ২১:২২
আরিফুর রহমান
চরযশোরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান পথিক তালুকদার

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান পথিক তালুকদার ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের  মেম্বার হায়দার আলী সরদারের বিরুদ্ধে খাদ্যবান্ধ্যব কর্মসূচী ও ভিজিএফের হতদরিদ্রদের নামে বরাদ্দ দেওয়া সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

করোনায় লকডাউনে অর্ধাহার ও অনাহারে থাকা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিন্মবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ওএমএসের ১০ টাকা কেজি দরের চালের জন্য নির্ধারিত কার্ডের  টিপসহি জাল করে  চাল উত্তোলন করে নেয় তারা। মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে আবার একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার ব্যবহার করে এবং ভুয়া নামের তালিকা প্রস্তুত করে  তিন দফা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল উত্তোলন করে তা আত্মসাত করে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত ২০ মার্চ চেয়ারম্যান পথিক তালুকদারে নির্দেশে মেম্বার হায়দার আলী চাল দেয়ার নামে  ৬ নং ওয়ার্ডের অন্তত  ১০০টি পরিবারের কাছ থেকে তাদের ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নেয়।

কিন্তু প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে কোন প্রকার  চাল অথবা সহায়তা দেয়া হয়নি। বরং চেয়ারম্যানের যোগসাজশে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ৮৮ টি সুবিধাভোগীর চাল উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়।কিন্তু সীমিত কিছু মানুষকে ত্রান দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট করেই  চাল শেষ বলে কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় দরিদ্র ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের আগেও তারা অনেকবার  ইউনিয়ন পরিষদে চাল দেয়ার কথা শুনেছে। কিন্তু কখনো চাল পাননি। কারো কারো নামে যে আগে থেকেই ওএমএসের কার্ড আছে, সেটাও তারা জানতেন না।

তাদের অভিযোগ, করোনার কারনে বিভিন্ন জায়গায় সরকারি চাল দেয়ার কথা তারা মেম্বারকে জানালে মেম্বার বলেছেন আমাদের ওয়ার্ডের জন্য কোন ত্রানের চাল আসেনি।তাহলে আমি দিবো কিভাবে।

এদিকে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে ইউনিয়নের আশফরদী, পৈলানপুটি, ধর্মদী ও বানেশ্বরদী গ্রামে করোনা ভাইরাসকালীন খাদ্য কর্মসূচীর চাল পাওয়া পরিবারের  সংখ্যা শতকরা ২০ শতাংশ পাওয়া গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে এসব গ্রামের দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মসংস্থান বন্ধ হওয়ায় অনেক পরিবারের লোকজন অনাহারে অর্ধাহারে রয়েছে।

তাদেরই একজন ইয়াদ আলী খাঁ জানান, গত ছয় মাস আগে ভিজিএফের  চাল বিতরণের তালিকায় তার নাম লিপিবদ্ধ করা হলেও এখনো চাল দেওয়া হয়নি।  

ভুক্তভোগি সেলিনা বেগম, রিনা বেগম, জবেদা বেগম জানান, গত ৩ মাসে আমাদের ৩০ কেজি করে তিনবারে মোট ২৭০ কেজি চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান আর মেম্বার  আমাদের প্রতি কার্ডেই তিন মাসের চাল উত্তোলন দেখালেও আমাদের চাল দেননি। শুধু আমরাই না মেম্বার ও চেয়ারম্যানের নিজস্ব দুএকজন ছাড়া গ্রামে কেউই চাল পায়নি। মেম্বার আমাদের বলে চেয়ারম্যান তাকে যতটুকু দিয়েছে সে ততটুকোই বিতরন করেছে।আবার চাল আসলে তখন দিবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের পাশের এক চা দোকানি জানান, মাঝেমধ্যে এশার আযানের পরে পরিষদ থেকে নসিমনে চাল নিয়ে যেতে দেখি। তবে এই চাল কোথায় নেওয়া হয় সেটা জানিনা। একবার ড্রাইভারের কাছে জানতে চাইলাম সে শুধু বললো চেয়ারম্যান চাল তার বাড়িতে গোডাউনে রাখবে। পরিষদে নাকি ইদুরে বস্তা ফুটো করে খেয়ে ফেলে তাই বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিতে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হায়দার আলীর মুঠোফোন একাধিকবার ফোন দেয়া হলে একপর্যায়ে কল রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ায় তিনি কথা বলার অস্বীকৃতি জানিয়ে ফোন কেটে দেন। ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তার মন্তব্য কি সেটা জানা সম্ভব হয়নি।

ত্রাণের অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে চরযশোরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান পথিক তালুকদার বলেন, মেম্বার যেসব অসহায়দের নামের তালিকা করেছে তারা সকলেই চাল পাবে।

এই চাল থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না। তবে ধারাবাহিকভাবে তাদেও নাম আসবে।তখন সবাই পাবে। করোনায় তিন দফা চাল দেয়ার পরেও অসহায়রা বঞ্চিত হলো কেন এ বিষয়ে জানতে চাওয় হলে তিনি বলে, তিন দফা চাল দেয়া হয়েছে এটা অসত্য। আর আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়।

ইউপি সদস্যেদের ত্রাণের চাল আত্নসাতের বিষয়ে কোন অভিযোগ পেয়েছেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদ রাসেল বলেন, এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক সত্যতা মিললে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড