• শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্তের সাথে বাড়ছে আতঙ্ক

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

০৯ এপ্রিল ২০২০, ১১:৫৩
নারায়ণগঞ্জ
তিনটি মৃতদেহ

মরণঘাতি করোনার তাণ্ডবে আতঙ্কে দিন কাটছে নারায়ণগঞ্জবাসীর। করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েই চলেছে এই জেলায়। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) অপরদিকে পুরো শহরকে লক ডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ঘরের মধ্যে পরে থাকছে লাশ। বাড়ির বাহিরে লাশ রেখে স্বজনরা দূরে অবস্থান করছে। করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যাক্তিকে ভয়ে ছুঁয়ে দেখছে না কেউ। লাশ বাড়ির বাহিরে ফেলে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। লাশের পাশে প্রতিবেশীরাও আসছেনা। সব দিক দিয়ে করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে আছে নারায়ণগঞ্জ জেলা।
 
দেশের প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় নারায়ণগঞ্জে। আবার এই জেলাতেই করোনায় প্রথম মৃত্যু হয় এক নারীর। এর পরেই একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথম নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা, সদর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকাকে লক ডাউন করা হয়। এরপর পুরো রূপগঞ্জকে লকডাউন করা হয়। মঙ্গলবার আইপিইআরের পক্ষ থেকে পুরো জেলাকে লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। একদিকে নতুন নতুন আক্রান্ত আবার অন্য দিকে লাশের মিছিলে আতঙ্কগ্রস্ত পুরো জেলার মানুষ। কোন দিকে যাচ্ছে করোনার গতি তা বুঝে উঠতে পারছেনা মানুষ। অপরদিকে এখনো পুরোপুরি এই জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের মাঝে কোন সচেতনতার অভাব রয়েছে। আতঙ্ককে নিয়েই মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তা ঘাটে আড্ডায় মত্ত থাকতে দেখা গেছে।

করোনা আতঙ্কে বর্তমানে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায়। গত কয়েক দিনে করোনা ভাইরাসে কিংবা করোনার নানা উপসর্গ নিয়ে অথবা স্বাভাবিকভাবে মানুষের মৃত্যু হলে সেই লাশের পাশে আসছে না কেউ।  করোনার করুন মৃত্যুতে ভয় আতঙ্ক মানুষকে নিষ্ঠুরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মৃত্যুও অতি উৎসাহী মানুষের কারণে অনেকটা জোড় করেই করোনা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

গত ৬ এপ্রিল প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয় নারায়ণগঞ্জের সংগীতাঙ্গনের বেজ গিটারিস্ট রাকিব ওরফে হিরু। তার মৃত্যুর পর লাশটি চাদর দিয়ে মুড়িয়ে বাড়ির সামনে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছিল সারারাত। গত ৭ এপ্রিল দুপুরে শহরের ৩নং মাছ ঘাটে মরে পরেছিলেন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ‘পাগল’। একই দিন বিকেলে নিজ বাড়ির একটি রুমে মরে পড়ে ছিলেন সস্তাপুর এলাকার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। তার মৃত্যুর পর পরিবারের লোকজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়লেও প্রতিবেশী কেউ আসেনি লাশের পাশে। জাহাঙ্গীর করোনা আক্রান্ত রোগী ছিলেন না বলে জানিয়েছে চিকিৎসক। 

দুপুরের দিকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে জ্বর-সর্দি নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নগরীর মিশনপাড়া সিদ্দিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তির। করোনার পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে মৃত্যুর কারণ।
 
নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে বেড়ে চলছে গত ৫ এপ্রিলও জেলা করোনা আক্রান্ত রোগী ছিল মাত্র ১১ জন ছিল। ৬ এপ্রিল রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩ জনে। একদিনে নতুন আরও ১৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে  ৩৮ জনে। অপরদিকে সন্দেহভাজন আরও বেশ কয়েকজনের নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলায় সরকারিভাবে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হলেও বেসরকারি হিসেবে ৯ জনেরও বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা গেছে। 

উল্লেখ্য,গত ৮ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম দুই রোগীর ধরা পড়ে নারায়ণগঞ্জের। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি তারা বাড়িতেও ফিরেছেন। ৩০ মার্চ কুর্মিটোলা হাসপাতালে বন্দরের এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর পরীক্ষায় করোনা রোগী ধরা পরে। 

সরকারি হিসেবে দ্বিতীয় মৃত্যু হয় কাশিপুরের বড় আমবাগান এলাকার আবু সাইদ মাদবরের। এরপর শহরের জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোড এলাকার ৬৭ বছর বয়সী একজন এবং শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকার ৬৫ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে, ৬ এপ্রিল ভোরে উত্তরায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ৫২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাড়ি ১৮ নং ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা এলাকায়।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড