• বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফেনীতে সূর্যমুখী চাষে খুলছে সম্ভাবনার দুয়ার

  এস এম ইউসুফ আলী, ফেনী

২২ মার্চ ২০২০, ১৮:৫৪
সূর্যমুখী ফুলের চাষ
সূর্যমুখী ফুলের চাষ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ফেনীতে এই প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছেন কৃষকরা। জেলার ছয়টি উপজেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা হাইসান-৩৫ ও বারি সূর্যমুখী-২ জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন।

জেলার বিভিন্ন সূর্যমুখী প্রদর্শনী প্লটে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা হলুদ সূর্যমুখী ফুলের সমাহারে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের জমি। এটি যেন ফসলী জমি নয়, এ এক দৃষ্টিনন্দন বাগান। 

এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অবলোকনে শুধু প্রকৃতিপ্রেমীই নয় বরং যে কারও হৃদয় স্পর্শ করবে। তবে সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়। মূলত ভোজ্য তেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ ফুল চাষ করা হচ্ছে। তেল জাতীয় অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখীর চাষ অনেক সহজলভ্য ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা এতে উৎসাহিত হয়ে উঠবেন বলে কৃষি অধিদপ্তর মনে করছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ফেনীতে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের। প্রদর্শনীর আওতায় ফেনী সদর ও অন্য উপজেলায় ৫০টি জমিতে সরকার কৃষকদেরকে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪শ টাকার বীজ, সার ও নগদ সহায়তা দিয়েছে। এখন চলছে প্রদর্শনীর আশপাশে খোলা জমিতে মাঠ দিবস। 

এসব মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষকদের ডেকে এনে এ ফসল চাষের পদ্ধতি, সুবিধা, প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হচ্ছে। জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে কীভাবে এ ফসল বাজারজাত করা হবে। ফেনী সদর উপজেলায় চলতি মৌসুমে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে ২ হেক্টর জমিতে ১২টি প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে।

এজন্য সরকার প্রদর্শনীর আওতায় জমিতে ব্যয় করতে ৯০ হাজার ২৫৬ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এসব প্রণোদনার অর্থ দিয়ে কৃষকদের মাঝে উন্নত মানের বীজ, সার ও নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোর একশ জনেরও বেশি কৃষক সুবিধাভোগী হিসেবে অংশ নিয়েছেন। 

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার শারমীন আক্তার জানান, ‘সূর্যমুখী চাষে ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যেই কৃষকরা বীজ ঘরে তুলতে পারবেন। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো প্রকার ক্ষতি না হয় তাহলে প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ সূর্যমুখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে। এক মণ বীজ থেকে ১৮ কেজি তেল পাওয়া যাবে। প্রতি কেজি তেল বাজারে ৩০০ টাকা দামে বিক্রি করা যায়। সূর্যমুখীর তেল ছাড়াও খৈল দিয়ে মাছের খাবার এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এর কোনো অংশই ফেলা যায় না। এছাড়া সূর্যমুখী চাষের পরও কৃষক যথা সময়ে আউশ ধানের চাষ করতে পারবেন। এসব তেল প্রক্রিয়াজাত এবং বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।

কৃষকরা জানান, গত পৌষ মাসের প্রথম দিকে সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেছেন তারা। একটি পরিণত সূর্যমুখী ফুলের গাছ ৯০ থেকে ১১০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে। পরিণত হয়ে ইতোমধ্যেই সূর্যমুখী গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। তারা আরও জানান, ফেনীর সোনাগাজীতে সূর্যমুখী ফুল থেকে তেল তৈরির কারখানা আছে। তাদের সাথে আমাদের চুক্তি হয়েছে। আমাদের উৎপাদিত সূর্যমুখী ফুলের বীজ তারা কিনবে। কৃষকদের কাছ থেকেই কোম্পানি সরাসরি বীজ কিনবে। কৃষি অফিস মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

মোটবী ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ জহির উদ্দিন জানান, চলতি বছরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ, সার এবং আন্ত-পরিচর্যার জন্য উপকরণ ও অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। 

মোটবী ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের সূর্যমুখী ফুলের চাষী নুরুল আনোয়ার ভূঁঞা জানান, আগে তিনি তার জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করতেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এ বছর উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে প্রথমবারের মতো তিনি তার জমিতে হাইসান-৩৫ জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। তিনি উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রদর্শনী প্লটের পাশের জমিতেও চাষ করেছেন। তার প্রদর্শনী প্লট দেখে গ্রামের অন্য কৃষকদেরও আগ্রহ বাড়ছে। তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে তাদের বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রতিটি গাছেই ফুল ধরেছে। আশা করি সূর্যমুখী চাষে সফলতা আসবে। 

আরও পড়ুন : বগুড়ায় বিএনপির মাস্ক বিতরণ

ফেনী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. মোশারফ হোসেন খান জানান, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা তেল উৎপাদনে বিদেশ নির্ভরতায় রয়েছি। তাই সরকার দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে তেলের চাহিদা পূরণ করতে সূর্যমুখী আবাদে কৃষকদের উৎসাহ ও প্রণোদনা দিচ্ছে। কৃষি বিভাগের মাধ্যমেই এ ফসল বাজারজাত করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড