• বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফরিদপুরে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ জনজীবন

  ফরিদপুর প্রতিনিধি

১৭ মার্চ ২০২০, ১১:৪৬
মশা
ময়লা পানিতে মশা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

শীত যেতেই শুরু হয়েছে ফরিদপুর শহরজুড়ে তীব্র মশার উপদ্রব। দিনে-রাতে, ঘরে-বাইরে মশার উপদ্রবে ইতোমধ্যে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শহরবাসী। 

গত বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। আর এতে জেলায় প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। যদিও ফরিদপুর পৌর মেয়র দাবি করছেন, মশা নিধনে তারা যথেষ্ট তৎপর রয়েছেন। 

ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, এই পৌর এলাকায় ওয়ার্ড ছিল নয়টি কিন্তু এখন বেড়ে ২৯টি ওয়ার্ড হয়েছে। যার আয়তন ১৭ দশমিক ৩৪ বর্গ কিলোমিটার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ৫৪ বর্গ কিলোমিটার। আর এই বিশাল এলাকার জন্য রয়েছে পাঁচটি ফগার মেশিন যার তিনটিই বিকল। 

সরেজমিনে ফরিদপুর শহরের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সড়কের পাশে ড্রেন ও ডোবাসহ নানাস্থানে জমে থাকা পানিতে মশার ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে। রাস্তার পাশে খোলা স্থানে দুই থেকে তিন দিনের জমে থাকা তুলনামূলক স্বচ্ছ পানিতেও মশার বংশ বিস্তার ঘটছে। এসব স্থানে তৈরি হচ্ছে মশার লার্ভা।

ওষুধ ব্যবসায়ী নিশান মাহমুদ বলেন, সম্প্রতি শহরে ড্রেন সংস্কারের কাজ হচ্ছে। এতে ড্রেনের ময়লা আবর্জনাযুক্ত উন্মুক্ত পানিতে গিজগিজ করছে মশা। এসব মশার উপদ্রবে তারা খুবই অতিষ্ঠ। ড্রেনের ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানি পরিষ্কার করা হয়নি। সেখানে মশা বংশবিস্তার করছে। 

স্থানীয় সংবাদকর্মী তরিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর গরম মৌসুম শুরুর আগেই প্রচণ্ড মশার উপদ্রব বেড়েছে। বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, ব্যবসা কেন্দ্র, শহর-গ্রাম সবখানেই একই দশা। মশা নিধনে যে ওষুধ স্প্রে করা হয় তা কতটুকু কার্যকর তা নিয়েও সন্দেহ আছে। 

তিনি বলেন, গত বছর যেভাবে ডেঙ্গুর উপদ্রব হয়েছিল তাতে এবার যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

মাহমুদ নামে শহরের পশ্চিম খাবাসপুরের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা পৌর কর, বিল সবই দেই। কিন্তু মশা থেকে রেহাই মিলছে না। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, ড্রেনে জমে থাকা ময়লা পানিতে বংশবিস্তার করা মশার আবাস স্থলে ডেঙ্গু লার্ভার মাত্রা পরিমাপের কোনো তৎপরতাও দেখা যায় না। শহিদুল ইসলাম নামে ঝিলটুলীর এক বাসিন্দা বলেন, সন্ধ্যা হলেই বাসাবাড়ির দরজা জানালা আটকে ঘরে থাকি। কয়েল জ্বালাই, মশার ওষুধ স্প্রে করি। তারপরেও মশা মরে না। 

আরও পড়ুন : নরসিংদীতে নদী খননে অনিয়মের অভিযোগ

মশা নিধনে কাজ চলছে এমন মন্তব্য করে ফরিদপুর পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু মশার উপদ্রবের কথা স্বীকার করলেও মশা নিধনে পৌর কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, পাঁচটি ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধক ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মশা নিধনে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বাড়ির আঙিনা ও মশা তৈরি হতে পারে এমন সব স্থান পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ড্রেনের খোলা মুখে মশক নিধক ওষুধ গুলিয়ে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে। এতেও মশার কীট মরে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড