• রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসার এখন স্মৃতি

  আরিফ সবুজ, নোয়াখালী

০৮ মার্চ ২০২০, ১৯:১৯
কেঁচো সার
কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী নারী উদ্যোক্তা শিরিন আক্তার (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ছোট্ট একটি চা দোকানের আয়ে দুই ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার পরিচালনায় রীতিমতো হিমশিম খেতে হতো শিরিন-বাবুল দম্পতির। নুন আনতে পান্তা ফুরানো এই পরিবারে স্বামীর পাশাপাশি সংসারের জন্য কিছু করার প্রবল ইচ্ছে ছিল শিরিন আক্তারের। এরই ধারাবাহিকতায় নানা সময়ের বিভিন্ন প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ, ঠিক তখনই তিন বছর আগে স্থানীয় একটি এনজিওর সহায়তায় কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন শিরিন আক্তার। এরপরই বদলাতে থাকে শিরিনের ভাগ্য।

দৈনিক অধিকারে একান্ত সাক্ষাৎকারে রবিবার (৮ মার্চ) নিজের সফলতার কথা জানান শিরিন আক্তার।

কেঁচো সার উৎপাদন করে ভাগ্য পরিবর্তনকারী নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর বজলুল করিম গ্রামের শিরিন আক্তার জানান, একসময় শুধু পরিবারের যাবতীয় কাজ করে স্বামীর উপার্জনের ওপর নির্ভর থাকতেন তিনি। পরে কোনো এক সময় তার মনে হয় স্বামীর পাশাপাশি পরিবারের জন্য তারও কিছু করা দরকার। এ বিষয়ে এলাকার অনেক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে অনেকেই তাকে বিষয়টিতে নিরুৎসাহিত করেন। তবে এসব দৃষ্টিগোচর করেই মাথায় নানা পরিকল্পনা আঁকতে থাকেন শিরিন আক্তার। পরবর্তীকালে খবর পান একটি এনজিও এলাকার অনেক নারীকে নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করছে।

একপর্যায়ে শিরিন ওই এনজিওটির কাছ থেকে দুই দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ওই সময় তিনি কেঁচো সার উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আর স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপে এনজিওটি তাকে একটি কেঁচো সার তৈরির বৈজ্ঞানিক রিং ও এক হাজার কেঁচো দিয়ে সহযোগিতা করেন। এরপর কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক পরামর্শ নিয়ে মাত্র তিন বছরে শিরিন আক্তার এখন লক্ষাধিক কেঁচোসহ দশটি কেঁচো সার তৈরির বৈজ্ঞানিক রিংয়ের মালিক। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসার এখন স্মৃতি, নেই পরিবারে অভাবের ছাপ। ফলে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে এখন সুখের সংসার শিরিন আক্তারের।

নিজের আয় সম্পর্কে জানতে চাইলে শিরিন আক্তার বলেন, ‘কোনো মাসে ১০ হাজার আবার কোনো সময় তারও বেশি বা কম আয় হয়। তবে গড়ে মাসিক আয় ৭ থেকে ৮ হাজার।’

এই সার উৎপাদনে খরচের ব্যাপারে তিনি জানান, নিজস্ব গরু থাকায় তেমন খরচ নেই। তবে মাঝেমধ্যে গোবর কিনতে হয়। এ সময় ভবিষ্যতে এই কাজকে আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিরিনের স্বামী তামজিদুর রহমান বাবুল জানান, ‘শিরিনের আত্মচেষ্টা আজকে শিরিনকে সফল করেছে। প্রতিটি পরিবারের উচিৎ স্বামীর পাশাপাশি স্ত্রীদের এগিয়ে আসা। শিরিনের দেখা-দেখি এলাকার অনেকে এখন কেঁচো সার উৎপাদনের প্রতি ঝুঁকেছেন।’

এ সময় সমাজে নারীদের ছোট করে না দেখে তাদের এগিয়ে আসার সুযোগ করে দিতে তিনি সকল স্বামীদের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপকূলের ‘বাতিঘর’ খ্যাত ওই এনজিওর (সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা) কৃষি কর্মকর্তা শিবব্রত ভৌমিক দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘তিন বছর আগে আমরা কেঁচো সার উৎপাদন নিয়ে এলাকার অনেকের সঙ্গে শিরিন আক্তারকেও প্রশিক্ষণ প্রদান করি। একই সঙ্গে এক হাজার কেঁচোসহ একটি বৈজ্ঞানিক রিং প্রদান করি। সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় শিরিন আজকে সফল।’

তিনি বলেন, শিরিনের মতো সুবর্ণচরের হাজারো নারীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা। এ সময় সমাজ পরিবর্তনে পুরুষদের পাশাপাশি শিরিনের মতো নারীদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন : স্বামীর চিকিৎসা চলে মমেনার চা বিক্রির টাকায়

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নারী দিবসে (৮ মার্চ) নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে জেলার বিভিন্ন নারীদের সম্মাননা প্রদানকালে শিরিন আক্তারকেও একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়।

ওডি/আইএইচএন

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড