• শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শঙ্খচরে উৎপাদিত বিষমুক্ত বেগুন যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

  মো. কামরুল ইসলাম মোস্তফা, চন্দনাইশ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

০৮ মার্চ ২০২০, ১২:৩২
চট্টগ্রাম
বিষমুক্ত বেগুন নিয়ে বাজারে এসেছে চাষিরা

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা শঙ্খ নদী তীরবর্তী চরে সারা বছরজুড়েই বিভিন্ন শাক-সবজি উৎপাদন হয়। এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা না থাকায় শঙ্খ নদীর তীরবর্তী লোকজন শাক-সবজি চাষের ওপর নির্ভরশীল। যাদের নিজস্ব জমি নেই তারাও অন্যের জমি লিজ নিয়ে শাক-সবজি চাষ করেন। এতে শত শত পরিবার সচ্ছলভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে।

শঙ্খ চরে চলতি রবি মৌসুমে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। শ্রমিকের মজুরিসহ অন্যান্য খরচ বেশি হলেও বেগুনের ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। চাষিরা কীটনাশকের পরিবর্তে ‘সেক্স ফেরোমন ফাঁদ’ ব্যবহার করে জৈবিক পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করায় বিষমুক্ত বেগুন হিসেবে শঙ্খ চরে উৎপাদিত বেগুনের আলাদা পরিচিতি রয়েছে ভোক্তা পর্যায়ে। 

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ পাইকারি সবজি বাজার দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন বাজারে প্রতিদিন সকালে চাষিদের থেকে বেগুন কিনে ট্রাক বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন পাইকাররা। তবে ক্ষেত থেকে বেগুন তুলে বাজারজাত করার সময় চাষিদের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। বাজারজাতকরণে সাহায্যের পাশাপাশি সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে হিমাগার নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন চাষিরা।

চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে ৮০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে। চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী, ধোপাছড়ি, বৈলতলী, বরমা, বরকল ইউনিয়ন ও সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ, নলুয়া, খাগরিয়া, পুরানগড়, ধর্মপুর, বাজালিয়া ইউনিয়নে শঙ্খনদী তীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামে বেগুনের আবাদ করা হয়। 

তবে অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় দোহাজারীতে বেগুনের আবাদ বেশি হয়। বেগুন আবাদের জন্য আশ্বিন-কার্তিক মাস আদর্শ সময় হলেও দোহাজারীতে শঙ্খচরে বছরজুড়েই বেগুন চাষ করেন চাষিরা। শঙ্খ চরে হাইব্রিড জাতের ‘গ্রীনবল’ ও ‘সিমেন্স’ বেগুনের পাশাপাশি দেশীয় জাতের ‘পুঁতা’ বেগুনও আবাদ করেন চাষিরা। দেশীয় জাতের বেগুন আকারে ছোট হলেও ফলন বেশি বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

সরেজমিন পরিদর্শনে শঙ্খ চরের বেগুন চাষি দোহাজারী খানবাড়ি এলাকার সামশুল ইসলাম জানান, শঙ্খ চরের অনেক চাষি বছরজুড়েই বেগুন চাষ করেন। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মাঝে। তাই গত বছরের চেয়ে এ বছর শঙ্খচরে ব্যাপক হারে বেগুন চাষ করছেন কৃষকরা। ৮০ শতক জমিতে বেগুন চাষ করতে সার, বীজ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচসহ তার প্রায় ৪০/৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, প্রতি সপ্তাহে ২ বার বেগুন উত্তোলন করা যায়। প্রতিবার প্রায় ৭ থেকে ৮ মণ বেগুন পাওয়া যায়। প্রতি মণ বেগুন ৮শ’ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। ৮০ শতক জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি। আরও প্রায় ১ লাখ টাকার বেগুন বিক্রির আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, চারা লাগানোর পর ভালোভাবে যত্ন নিলে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে বেগুন আসতে শুরু করে। বেগুন খেতে সাধারণত সাদা মাকড়, ডগা ও ফুল ছিদ্রকারী পোকা আক্রমণ করে থাকে। সঠিক সময়ে এর প্রতিকার করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। 

শঙ্খচরের বেগুন চাষি কালিয়াইশ এলাকার জাফর আহমদ জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে ‘সেক্স ফেরোমন ফাঁদ’ ব্যবহারের মাধ্যমে ডগা ও ফুল ছিদ্রকারী পোকার তীব্রতা চলে যাওয়ায় কীটনাশক ব্যবহার না করে ‘সেক্স ফেরোমন ফাঁদ’ ব্যবহারের মতো জৈবিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে সফলতা অর্জন করেছেন তারা। গত বছরের চেয়ে এ বছর বেগুনের ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে দামও বেশ ভালো। মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি না হলে বেগুন খেত থেকে প্রায় ১ বছর বেগুন পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।

প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে খেত থেকে বেগুন তুলে রিকশা, ভ্যান ও নৌকাযোগে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ পাইকারি সবজি বাজার দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন বাজারে নিয়ে বিক্রির জন্য সারিবদ্ধভাবে বেগুন ঝুড়ি সাজিয়ে রাখেন চাষিরা। এখানে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারি ক্রেতারা বেগুন কিনে ট্রাক বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন।

চট্টগ্রাম মহানগরীর বহদ্দার হাট থেকে আসা সবজি ব্যবসায়ী কামাল ও আগ্রাবাদ থেকে আসা আবদুল্লার কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা প্রতিদিন এই বাজারে আসি। আমরা এখান থেকে সবজি কিনে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন সবজি বাজারসহ টেকনাফ ও কুতুপালংয়ের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করে থাকি। এতে ক্রেতারাও খুব সস্তাতে টাটকা সবজি কিনতে পারে।

ওডি/আরবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড