• মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

৭ বছর ধরে তাঁতেই চলে মোনোয়ারার সংসার

  সোহেল রানা, সিরাজগঞ্জ

০৮ মার্চ ২০২০, ১১:৩৮
সিরাজগঞ্জ
মোনোয়ারা বেগম (ছবি : দৈনিক অধিকার)

জন্ম হয় অভাবী সংসারে। অভাবের কারণে যেখানে দুবেলা দুমুঠো ভাত জোটে না সেখানে আবার পড়াশোনা! পাঁচ বোন, চার ভাইয়ের মধ্যে মোনোয়ারা খাতুন ছিল তৃতীয়। তাই অল্প বয়সেই প্রায় ২০ বছর পূর্বে বাবা বিয়ে দেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার দত্তকুশা গোয়ালপাড়া গ্রামের দিনমজুর শামীম সরকারের সঙ্গে।

বিয়ের পর স্বামীর সংসারেও অভাব ও কষ্ট লেগেই ছিল। দিনমজুর স্বামীর উপার্জনে দুবেলা খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম বেঁচে থাকাটাই বড় কষ্টের ছিল। এরই মধ্যে সংসারে একে একে দুই সন্তান জন্ম নেয়। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামীর পাশাপাশি নিজেও চরকায় সুতা তোলার কাজ শুরু করেন। তাদের স্বপ্ন পূরণ আর হলো না। বিয়ের ১০ বছর পরেই স্বামী শামীম হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।

স্বামী মারা যাওয়ার পর কৃষি জমিতে শ্রমিকের কাজে অত্যন্ত পরিশ্রম তাই কৃষি জমিতে কাজ না করে তাঁত বুনতে শেখেন তিনি। প্রায় ৭ বছর ধরে তিনি তাঁত শ্রমিকের কাজ করছেন।

মোনোয়ারা খাতুন (৩৩) এভাবেই এ দৈনিক অধিকারের প্রতিবেদকের কাছে তুলে ধরেন নিজের সংগ্রামী জীবনের চিত্র। 

তিনি বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে প্রথম তিন বছর অনেক কষ্টে দুই ছেলে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হয়েছে। পরে তাঁত শ্রমিকের কাজ শুরু করি। তাঁত শ্রমিকের কাজ করে প্রতি দিন গড়ে ১শ থেকে ১৫০ টাকা পাই। তা দিয়েই চলছে সংসার।’

মোনোয়ারা খাতুন আরও বলেন, ‘তাঁত শ্রমিকের কাজ করে যে টাকা-পয়সা পাই তা দিয়ে এখন সংসার চলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দুই ছেলে পড়া লেখা করছে। বড় ছেলে মোক্তার হোসেন মুসা ৭ম শ্রেণি ও ছোট ছেলে সাদিক হোসেন ২য় শ্রেণিতে পড়ে। ছেলেদের পড়ালেখার খরচ আর দিন দিন পণ্যের যে দাম বাড়ছে তা দিয়ে এখন সংসার চলাই কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকতার হোসেন বলেন, মোনোয়ারা খাতুন আমার তাঁতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। তার স্বামী শামীম হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর সংসারে কষ্ট লেগেই থাকত। কৃষি শ্রমিকের কাজ অনেক কষ্টের তাই শ্রমিকের কাজ করতে পারত না। অনেকসময় খেয়ে না খেয়ে থাকত। পরে আমার তাঁতে কাজ শুরু করে। এখন প্রায় ৭ বছর হলো তাঁত শ্রমিকের কাজ করে এখান থেকে যে টাকা পায় তা দিয়েই চলে মোনোয়ারার সংসার।

আরও পড়ুন : অন্যের জমিতে নার্সারি করেই সংসার চলে নূরজাহানের 

রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জাব্বার সরকার জানান, মোনোয়ারা খাতুনের খোঁজ-খবর নিয়ে বিধবার ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়াও প্রয়োজনে অন্য যে কোনো সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান।

ওডি/জেএস

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected]gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড