• শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সিরাজগঞ্জে গুচ্ছগ্রামের ঘরের কাজ শেষ না করেই হস্তান্তর

  সোহের রানা, সিরাজগঞ্জ

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:২০
গুচ্ছগ্রামের ঘর
গুচ্ছগ্রামের ঘর ( ছবি : দৈনিক অধিকার )

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় গুচ্ছগ্রাম আর দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। প্রকল্পের সভাপতিরা জানেন না কীভাবে কাজ হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ১৯টি দুর্যোগ সহনীয় ঘর ও দুটি গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প অনুমোদন দেয় কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কাজের তদারকি করা হবে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের বরাদ্দের টাকার চেক স্বাক্ষর করে উপজেলায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অথচ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিজ নিজ প্রকল্পের সভাপতির। সভাপতি হয়েও কাজ করার সুযোগ না থাকায় নতুন কোনো প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে আর রাজি নয় জনপ্রতিনিধিরা। তাই মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন প্রকল্পের ২৯টি ঘরের কাজ এখনো শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরগুলো বালুর ওপর কোনোমতে দাঁড় করিয়ে রাখা। ঘরের ভেতর খাট বা অন্য কোনো আসবাবপত্র রাখার মতো অবস্থা নেই। ঘরগুলো সম্পূর্ণ তৈরি না করেই হস্তাস্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

চৌবাড়ি গুচ্ছগ্রাম-২ প্রকল্পের সভাপতি ও রায় দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান জানান, এই গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের নামমাত্র সভাপতি। কাজের বিষয়ে তার কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। তবে বরাদ্দ টাকার চেক স্বাক্ষর করে উপজেলায় জমা দিয়েছেন তিনি।

গুচ্ছগ্রামে ঘর বরাদ্দ পাওয়া সুলতানের স্ত্রী মঞ্জিলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, গুচ্ছগ্রামের ঘরের কাজ সম্পূর্ণ না করেই আমাদের কাছে ঘর হস্তান্তর করেছে। আমরা গরিব মানুষ প্রায় ২০-৩০ ত্রিশ হাজার টাকা খরচ করে বসবাসের ব্যবস্থা করছি। এছাড়া ১০ পরিবারের জন্য মাত্র দুটি টিউবয়েল দিয়েছে সেটাও খোলা জায়গায়। যেখানে নারীদের গোসল করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই।

ঘর বরাদ্দ পাওয়া লোকমান হোসেন আকন্দ জানান, আমাদের ঘরের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি, সরকার থেকে নগদ দুই হাজার টাকা দিয়েছিল। ঘরে থাকার উপযোগী করতে উঠানের মাটি ভরাট এবং ঘরে থাকার মতো অন্যান্য কাজ করতে বিশ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এছাড়া নির্মিত করা ঘরগুলো বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই ধসে পড়ার সম্ভবনা রয়েছে।

স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইদুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশেই প্রকল্পের বরাদ্দের চেক স্বাক্ষর করে জনপ্রতিনিধিরা জমা দিয়েছেন। পরে নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ মতো তা খরচ করা হয়েছে।

এ দিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সহকারী নাসির শেখ জানান, প্রায় ৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ইউএনওর কাছে আটকা আছে। যার কারণে ইটের দাম, মিস্ত্রি ও রং মিস্ত্রিসহ বিভিন্ন কিছুর দাম এখন পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়নি। 

পণ্য সরবরাহকারী জানায়, ছয় মাস ধরে বকেয়া টাকা পরিশোধ করেনি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি চৌবাড়ি গুচ্ছগ্রাম-২ প্রকল্পের উদ্বোধন ও চাবি হস্তান্তর করলেও তা এখনো বসবাসের উপযোগী নয় বলে জানান স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন: ভান্ডারিয়ায় নৌকার মঞ্চে আ. লীগের সম্মেলন শুরু ১ মার্চ

কামারখন্দ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দীকা জানান, ‘এই প্রকল্পের যাচাই বাছাইয়ের কাজ এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দিয়েছেন ইউএনও। আমি চাকরিতে জয়েন্ট করার পর ইউএনও স্যারকে বলি কাজটি কীভাবে শেষ করব? তখন ইউএনও স্যার বলে এ কাজ নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না, পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাব।’

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, বারবার প্রকল্প কর্মকর্তাকে তালিকা দেওয়ার কথা বলেছি কিন্তু সে দেয়নি। এছাড়া সে নিয়মিত অফিস করে না বলেও জানান তিনি।

ওডি/এসএএফ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড