• সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চার পুলিশ হত্যা : ৭ বছরেও বিচার না পেয়ে হতাশ পরিবার

  গাইবান্ধা প্রতিনিধি

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:০৭
গাইবান্ধা
নিহতের স্বজন (ছবি : সংগৃহীত)

আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। ২০১৩ সালের এই দিনে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর তাণ্ডব চালায় কথিত জামায়াত শিবির কর্মীরা। এরপর ঘটে যায় এক নিষ্ঠুর বর্ণনাতীত ঘটনা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে (ফাঁড়ি থানা) ঢুকে পড়ে রক্তক্ষয়ী কথিত কিছু শিবির ক্যাডাররা। কর্মরত চার পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করে তারা।

নিষ্ঠুর এই হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি বিচার কাজ। দীর্ঘদিনেও বিচার না পেয়ে ক্ষুব্ধ স্বজনরা। তবে সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে দিয়ে এ বছরই বিচার কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

প্রসঙ্গ, ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ দেওয়ার পর জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা ও স্থানীয় অনুসারীরা তাণ্ডব চালায় সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায়। তারা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট শুরু করে। বামনডাঙ্গা রেলস্টেশন, বাজার, ছাইতনতলা বাজার, পুলিশ ফাঁড়িসহ আশেপাশে এলাকার দোকানঘর ও বাড়িঘর হামলার শিকার হয়। হামলার একপর্যায়ে বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির চার পুলিশ নজিম উদ্দিন, তোজাম্মেল হক, হযরত আলী ও বাবলু মিয়াকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে তারা।

নিহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পুটিমারি গ্রামের খাজা নাজিম উদ্দিন, বগুড়া সোনাতলার বাবুল মিয়া, রংপুর পীরগাছার তোজাম্মেল হক, রাজারহাট কুড়িগ্রামের হযরত আলী।

এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই আবু হানিফ বাদী হয়ে ৮৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও আড়াই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করে। তৎকালীন সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর (চার্জশিট) অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে। এ অভিযোগপত্রে ২৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। গাইবান্ধা ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা আবদুল আজিজ ওরফে ঘোড়ামারা আজিজকে এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়াও চার্জশিট ভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলো- ইউসুফ আলী, ডিস লিটন, আশরাফ, ইলিয়াস হোসেন।

এ দিকে দীর্ঘদিনেও বিচার না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে খাজা নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী ফেরোজা বেগম বলেন, ‘৭ বছর হয়ে গেল আমরা বিচার পাইনি। আমার স্বামী দেশের জন্য জীবন দিল, কী পেলাম আমরা। সন্ত্রাসীরা আমার স্বামীকে হত্যা করল অথচ তার বিচার হচ্ছে না। আমার জীবদ্দশায় বিচার দেখতে পারব কি না জানা নেই। আমার স্বামীকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের প্রত্যেকের ফাঁসি চাই।’ 

আরও পড়ুন : নরসিংদীতে ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম (শফিক) বলেন, মামলার বিচার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আদালতে চার্জশিট দাখিলের পর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মামলাটি বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালতে নেওয়া হয়েছে এবং গত ২০১৯ সালের জুন মাসে বিচার কাজ শুরু হয়েছে। এ মামলায় ইতোমধ্যে ৭৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। ২৩৫ জন আসামির মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্রুত এ মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওডি/জেএস

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড