• রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভাইরাল দুই শিক্ষকের বহিষ্কার দাবিতে উত্তাল খোকসা

  মনিরুল ইসলাম মনি

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:১৬
খোকসা
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

যৌন হয়রানিকাণ্ডে ভাইরাল খোকসা-জানিপুর সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিদ্যুত কুমার ও তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা শিক্ষিকার বহিষ্কার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় খোকসা-জানিপুর সরকারি বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধন শেষে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা জানায়, খোকসা-জানিপুর সরকারি বিদ্যালয়ের একটি ঐতিহ্য আছে। তাদের স্কুলের সম্মানহানি করেছে ওই দুই শিক্ষক-শিক্ষিকা। তাদের অনতিবিলম্বে স্কুল থেকে বহিস্কারের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়টির শিক্ষক বিদ্যুত কুমার দাসের সঙ্গে একই স্কুলের জনৈক শিক্ষিকার ফোনালাপ ও অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই নিন্দা ও ক্ষোভ জানায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন সমাজের প্রতিনিধিরা।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপে ওই শিক্ষিকাকে বলতে শোনা যায়- ‘তোর (বিদ্যুত মাস্টার) বিচার হবে পদ্মার চরে। তোর বউ আর মিয়ার (কন্যা) কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসিস। তোর হাত-পা কেটে দিব। তাতে আমার ২-৩ লাখ টাকা যায়, যাক।’

কুষ্টিয়ার খোকসা-জানিপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিদ্যুত কুমারের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছেন এক শিক্ষিকা।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগের তদন্তের দ্বিতীয় দফার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই শিক্ষিকার দাবি, অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্য তাকে চাপ দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল।

এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি খোকসা-জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার শিক্ষক বিদ্যুত কুমার দাসের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়েরের দশ দিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমূল হকের দপ্তরে অভিযোগকারী ওই শিক্ষিকার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ওই দিন তিনি প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে জবানবন্দি দেন। রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় দফায়ও তিনি শুনানিতে অংশ নেন। নিজের দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে তিনি অনড় ছিলেন।

অভিযোগকারী ওই শিক্ষিকা চলে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ৩টায় শুরু হয় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যুত কুমার দাসের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি। দুই দফায় তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন বলে তদন্তের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন।

অভিযোগকারী শিক্ষিকা সাংবাদিকদের জানান, প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষক বিদ্যুত কুমার দাস তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছে। প্রথমদিকে তিনি প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষকের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু অনেক দিনেও প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন।

ওই শিক্ষিকা আরও বলেন, অভিযোগ করার পর থেকে ওই শিক্ষক তার দুই সন্তানকে হুমকি দিয়ে আসছে। অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য দেওয়া হচ্ছে নানামুখী চাপ। তাকে ফেনীর মাদরাসাছাত্রী রাফির পরিণতির শিকার হতে হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে ওই শিক্ষক। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে শিক্ষক বিদ্যুত কুমার দাসের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। ওই শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটিতে তাকে হাজির হওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে। তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে যুক্তি তুলে ধরেন। এ বিষয়ে তিনি এর বেশি আর বলতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, এর আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে আলোচিত হয়েছিলেন এই শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে এর আগেও এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তবে কেউ কেউ ওই শিক্ষিকার চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

ওডি/এমআই/এমবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড