• সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন ভৈরবের কৃতী সন্তান কমান্ডার আব্দুর রউফ

  ভৈরব, কিশোরগঞ্জ

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:২৫
কিশোরগঞ্জ ভৈরব
আব্দুর রউফ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দেশের সর্বোচ্চ সম্মানজনক স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ও মহান মুক্তিযুদ্ধের তুখোড় সংগঠক কমান্ডার আব্দুর রউফ। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। কমান্ডার আব্দুর রউফ ৮২ বছর বয়সে ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন। 

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মরহুম কমান্ডার আব্দুর রউফসহ ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে তথ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কমান্ডার আব্দুর রউফ ১৯৩৩ সালের ১১ নভেম্বর ভৈরবে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আলহাজ্ব আবদুল লতিফ ছিলেন স্থানীয় পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান।

কমান্ডার আব্দুর রউফ ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক (১৯৫১-৫২), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৩-৫৪) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৫-৫৬)।

তিনি ১৯৬২ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় স্বাধীন বাংলা আন্দোলনের সাথে জড়িত হন। ১৯৬৮ সালে এ কারণে গ্রেপ্তার হন তিনি।

পরবর্তীতে তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ১৪ মাস কারাগারে কাটান। ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানের ফলে ওই মামলার অন্য অভিযুক্তদের সাথে মুক্তি পান।

এরপর তিনি নরসিংদী কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তার অবদান ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের নেতৃত্বাধীন ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নের তরুণদের নিয়ে যে বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠিত হয়েছিল সেই বাহিনীর তিন-সদস্যবিশিষ্ট পরিচালকমণ্ডলীর তিনি ছিলেন অন্যতম সদস্য।

স্বাধীনতার পর পুনরায় ১৯৭২ সালের আগস্ট মাসে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং নৌবাহিনী পুনর্গঠনে বিশেষ অবদান রাখেন। ১৯৭৩ সালে তিনি কমান্ডার পদে উন্নীত হন। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর তৎকালীন সামরিক সরকার তাকে কারারুদ্ধ করেন। ১৯৭৬ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান। 

মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবের এই কৃতী সন্তানকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে।

একজন সুলেখক হিসেবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও আমার নাবিক জীবন, আমার ছেলেবেলা ও ছাত্র রাজনীতিসহ ৭টি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন কমান্ডার আব্দুর রউফ।

১৯৯৩ সালে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা ছাড়াও মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ছিলেন।

প্রয়াত কমান্ডার আব্দুর রউফ আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। স্বাধীন সার্বভৌম ও শোষণহীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ছিল তার। যে কারণে শত প্রলোভনেও তিনি মাথা নত করেননি।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারারুদ্ধ অবস্থায় দিনের পর দিন তিনি অভুক্ত থেকেছেন। একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। 

আরও পড়ুন : মাতৃভাষা দিবসে শ্রীমঙ্গলে ফ্রি ব্লাড ক্যাম্পেইন

পঁচাত্তরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পরও গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ এবং অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে। 

ওডি/জেএস

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড