• শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

লামায় ভাষা দিবস পালনে সুযোগ নেই ১১৭ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের

  লামা  প্রতিনিধি, বান্দরবান

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২৩:১২
বান্দরবান
বান্দরবানের লামা উপজেলার শিক্ষার্থীরা (ছবি : সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলে দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষ ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়। কিন্তু বান্দরবানের লামা উপজেলার সব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করতে পারে না। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে নেয়।

অভিযোগ উঠেছে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর এ পর্যন্ত উপজেলার ১২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৭টি প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। এতে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা ভাষা দিবসে মর্যাদা বুঝার সুযোগ পাচ্ছে না।

সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি তুলেছেন শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ৩টি কলেজ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৮৫টি ও ৪টি রেজিস্টার প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৫ কিন্ডার গার্টেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে ১৪টি।

এ ছাড়া বেসরকারি বিদ্যালয় ও মাদরাসা মিলিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে অন্তত ১৯টি। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত ১৩ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে থাকেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি মাতামুহুরী কলেজ, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজ, চাম্বি স্কুল এন্ড কলেজ, ডলুছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লামামুখ উচচ বিদ্যালয়, গজালিয়া উচচ বিদ্যালয়, মেরাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩নং রিপুজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি করে শহীদ মিনার রয়েছে।

উপজেলা বাকি বিদ্যালয়গুলোতে এখনো নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার। ফলে ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর ভাষা দিবসের মত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উপজেলা সদরের বা ইউনিয়ন সদরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা। এতে দুর্ভোগের শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। কোনও কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনারে ফুল না দিয়ে শুধু আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও প্রভাত ফেরী করেই দিবসটি পালন করে।

গত বছর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটি শহীদ মিনার তৈরি করে দেন বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার।

স্থায়ীভাবে কোন শহীদ মিনার না থাকায় প্রতি বছর ভাষা দিবসে অস্থায়ীভাবে বাঁশ কাঠ দিয়ে নিজেরা শহীদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা জানানো হয় বলে জানান রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছাচিংপ্রু মার্মা। তিনি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের জোর দাবি জানান।

অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিয়দর্শী বড়ুয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয় গুলোতে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেয়া হলেও শহীদ মিনার নির্মাণে কোন বরাদ্দ দেয়া হয় না। তাই শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি ভাবে বরাদ্দ প্রদানের জোর দাবি জানান তিনি। 

এ বিষয়ে লামা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ মাহাবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার না থাকার ব্যাপারটি আমাদের বড় দুর্ভাগ্য।

১২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১০টিতে শহীদ মিনার থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কান্তি চৌধুরী বলেন, শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য সরকারিভাবে কোনও বরাদ্দ পাওয়া যায় না। তবে যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সে সব প্রতিষ্ঠানে মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। 

আরও পড়ুন : মেয়ে সন্তান নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

এদিকে, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, প্রজন্মের কাছে মাতৃভাষার অর্জনের ইতিহাস উপস্থাপন করার জন্য অবশ্যই শহীদ মিনার জরুরি। সে ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে সকল বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। 

ওডি/এএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড