• সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অফিসে বসেই সরকারি প্রকৌশলীর ধূমপান, ছবি ভাইরাল

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৫০
ধূমপান
অফিসকক্ষে প্রকাশ্যে ধূমপানকালে উপজেলা সরকারি প্রকৌশলী তারেক বিন ইসলাম (ছবি : দৈনিক অধিকার)

অফিসে বসেই প্রকাশ্যে ধূমপান করছেন উপজেলা সরকারি প্রকৌশলী। 

ঠাকুরগাঁওয়ের একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন ছবি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তির নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি এরই মধ্যে ছবিটি প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও।

২০০৫ সালে সরকার ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০১৩) প্রণয়ন করলেও ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা প্রকৌশলী তারেক বিন ইসলাম প্রকাশ্যেই নিজের অফিসে দাপ্তরিক কাজে আসা লোকদের সামনে ধূমপান করেন। তার এই ধূমপানের কারণে অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা অতিষ্ঠ হলেও প্রধান কর্মকর্তাকে কোনো কথা বলার দুঃসাহস দেখায়না কেউ। আর দাপ্তরিক কাজে বাইরে থেকে আসা লোকরাও বাধা দিতে পারেন না তাকে।

ওই উপজেলা প্রকৌশলী শুধুমাত্র নিজেই ধূমপানে সীমাবদ্ধ নন। অফিসের অন্যান্য কর্মচারীদেরও ধূমপানে বাধ্য করানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে- গত ৬ জানুয়ারি জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরে মাস্টাররোলে কর্মরত অফিস সহায়ক আইনুল হককে জোরপূর্বক ১০টি সিগারেট ধূমপান করান ওই প্রকৌশলী। এ সময় অফিস সহায়ক আইনুল ধূমপান করতে অস্বীকার করলে তাকে এলোপাতাড়িভাবে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন ওই প্রকৌশলী। ওই সময় বিষয়টি অফিসের অন্য কর্মচারীদের মধ্যে জানাজানি হলে মুহূর্তেই অফিস ছেড়ে বাসায় চলে যান প্রকৌশলী তারেক বিন ইসলাম।

এ ব্যাপারে মাস্টাররোলে কর্মরত অফিস সহায়ক আইনুল হক দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার স্যারের মাথা খারাপ ছিল মনে হয়, তিনি জোরপূর্বক আমাকে সিগারেট খাওয়াচ্ছিল, না খেলে লাথি মারছিলেন।’

এ দিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাণীশংকৈল উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করার সুবাদে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী হয়ে বিভিন্নভাবে অনিয়ম করে যাচ্ছেন তিনি। তবে তার এসব অভিযোগ দেখার কেউ নেই। আর কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকৌশলী সংকটের কারণে সবদিকে নজরদারি করতে সমস্যা হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী তারেক বিন ইসলাম ২০১৩ সালে রাণীশংকৈল উপজেলায় যোগদান করেন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। জাইকা প্রকল্পের অধীনে গত বছরের মার্চে তিনি চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইটিসি ভবন নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করেন। ওই সময় ভবন নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগ হলে তিনি ২৮ ফুট দৈর্ঘ্য দেখিয়ে লে-আউট দেন।

ঠিকাদারদের অভিযোগ- প্রকৃতপক্ষে ওই প্রকল্পের দৈর্ঘ্য হবে ২০ ফুট। ফলে নিয়োগকৃত ঠিকাদার আহাম্মেদ হোসেন বিপ্লব ও আবু তাহের লোকসানের মুখে পড়েন। ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের ক্ষতিপূরণ রিভাইস দিয়ে পুষিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনো ফান্ড তৈরি করে বিল দিতে পারেননি তিনি।

এ দিকে, বিভিন্ন নির্মাণকাজে লে-আউট দেওয়া কিংবা ঢালাইয়ের কাজে প্রকৌশলীকে যেতে বললে তিনি ঠিকাদারদের কাছে প্রাইভেট কার খোঁজেন। এ নিয়ে সম্প্রতি নেকমরদ এলাকায় আব্দুল করিম ঠিকাদারকে গালিগালাজ করে লাঞ্ছিত করলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় ঠিকাদার আহাম্মেদ হোসেন বিপ্লবের সহায়তায় বিষয়টির আপস-মীমাংসা হয়। 

অভিযোগ রয়েছে- গত ১৫ জানুয়ারি ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজে বিল দেওয়ার সময় তিনি ঠিকাদারদের কাউকে কম আবার কাউকে বেশি বিল দিতে বলেন। ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন- কাজের পরিমাণ অনুযায়ী বিল না দিয়ে তিনি পিসি (ঘুষ) মোতাবেক বিল দিয়েছেন। এ নিয়েও প্রকৌশলীর অফিসে সম্প্রতি বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ব্যাপারে প্রকৌশলী তারেক বিন ইসলাম দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘নির্মাণাধীন কাজ তদারকির জন্য যেসব ঠিকাদারের ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে, তাদের গাড়িতে যাই। এছাড়া যাদের গাড়ি নেই তাদের বেলায় অফিসিয়াল মোটরসাইকেলে যাই। তবে মাস্টাররোলে থাকা অফিস সহায়ক আইনুলের সঙ্গে মারধর কিংবা লাঞ্ছিত করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এগুলো সব বানোয়াট।’

আরও পড়ুন : স্ত্রীকে হত্যার ৩২ বছর পর ধরা পড়ল স্বামী

এ সময় প্রকাশ্যে ধূমপানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাঝে-মধ্যে অফিসে ধূমপান করি। তবে সবসময় না।’

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কান্তেশ্বর বর্ম্মণের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘আমি শুনেছি তিনি প্রায় এমন ঘটনা ঘটান। তাছাড়া প্রকৌশলী সংকট থাকায় বদলি করা হচ্ছে না, নতুন প্রকৌশলী নিয়োগ হলেই বদলি করা হবে।’

ওডি/আইএইচএন

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড