• রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৫ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

  কুলেন্দু শেখর দাস, সুনামগঞ্জ

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৪৮
সুনামগঞ্জ
ইটভাটায় মাটি বিক্রি (ছবি : দৈনিক অধিকার)

হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় ফসলি জমির মাটি বিক্রির হিড়িক পড়েছে। ফসলি জমির মাটি দিয়ে ইট তৈরি নিষিদ্ধ থাকলেও ভাটার মালিকরা এর কোনো তোয়াক্কাই করছে না। আর এ কারণেই সাবাড় হচ্ছে কৃষি জমির মাটি। এতে উর্বরতা শক্তি কমে গিয়ে ফসল উৎপাদনে ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে ।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে 'মাটি খেকো ' মুনাফা লোভীদের কাজে লাগিয়ে ভাটা মালিকারা ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ভঙ্গ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, মাঠ থেকে আমন ধান ওঠার পরপরই ফসলি জমির মাটি বিক্রি শুরু হয়। আর এসব মাটি ট্রাকে ও ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়।

মাটি বিক্রি করেছেন এমন চার থেকে পাঁচজন কৃষক জানান, ইট ভাটায় মাটি সরবরাহের জন্য এক শ্রেণির দালাল চক্র গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের মাটি বিক্রি করতে উৎসাহ জোগায়। স্বল্পমূল্যে উপরিভাগের এসব মাটি কিনে নেয়। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কথা না জেনেই সহজ-সরল কৃষকরা নগদ লাভের আশায় জমির মাটি বিক্রি করেন।

মামুন মিয়া বলেন, আমি এক বিঘা জমির মাটি বিক্রি করে দিয়েছি। ভাটার লোকজন এসে এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে আমার জমির উপরিভাগ থেকে তিন ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ইট ভাটার ম্যনাজার বলেন, ইট ভাটায় প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রলি মাটির প্রয়োজন হয়। ঠিকাদারদের কাছে কৃষকরা স্বেচ্ছায় মাটি বিক্রি করে। আমরা ওদের কাছ থেকে মাটি কিনে ব্যবসা করি। কৃষকরা না বিক্রি করলে আমরা নিতে পারতাম না।

মেসার্স বিএমএস ইট ভাটার মালিক মাহবুব ফারুকী বলেন, সব মাটি দিয়ে ইট প্রস্তুত করা যায় না। ফসলি জমির মাটি ইট তৈরির জন্য উপযোগী। তাই এই মাটির চাহিদা বেশি। চাহিদা অনুযায়ী মাটি না পাওয়ায় কৃষি জমির ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়।

পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান বলেন, ফসলি জমির মাটি বিক্রির বিষয়টি এখন চরম উদ্বেগের পর্যায়ে চলে গেছে। এটা রোধ করা দরকার। না হলে এই উপজেলায় ফসল উৎপাদনে মারাত্মক ধস নামবে।

এ জন্য কৃষক পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নিয়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে পারেন। এ জন্য যদি তারা (কৃষি বিভাগ) আমাদের কাছে সহযোগিতা চায়, তবে আমরা সেটা দেব। এ ব্যাপারে ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম দৈনিক অধিকারকে বলেন, জমির উর্বরতা শক্তি উপরিভাগ থেকে ১৫ থেকে ২০ ইঞ্চির মধ্যে থাকে। তাই ওপর থেকে মাটি সরিয়ে ফেলায় উর্বরতা শক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় সেই জমির ওপর বিভিন্ন পদার্থ জমে উর্বরতা শক্তি ফিরে আসতে শুরু করে। এভাবে আগের মতো উর্বরতা শক্তি ফিরে আসতে ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লাগে। মাটি বিক্রি করে সাময়িক অভাব দূর হলেও ক্ষতি হয় অনেক বেশি। এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব দৈনিক অধিকারকে বলেন, কৃষি জমির মাটি ইট ভাটায় ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন : রাঙ্গামাটিতে পিকনিকের বাস উল্টে নিহত ১, আহত ২৭

এ ব্যাপরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ দৈনিক অধিকারকে বলেন, নিয়মনীতি না মেনে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি এবং জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা অপরাধ। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ইউএনওকে বলা হবে।

ওডি/জেএস

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড