• সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কেপিএমের যন্ত্রাংশ পাচারকালে জব্দ ৩টি ট্রাক 

  কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটি

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০
কেপিএম
কেপিএমের পাচার করা ব্লেড (ছবি : দৈনিক অধিকার)

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পেপার মিলস লি. (কেপিএম) থেকে রাতের আঁধারে কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে কয়েক লাখ টাকার যন্ত্রাংশ পাচারের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনা টের পেয়ে স্থানীয় জনতা, প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় তিনটি ট্রাক আটক করা হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের ওপর ক্ষিপ্ত হলে জনতার হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। 

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সড়কে এ ঘটনা ঘটে। 

চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চট্টগ্রামের সাগরিকাস্থ মেসার্স ইকবাল অ্যান্ড ব্রাদার্স স্ক্র্যাপ যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডের (কেপিএম) সঙ্গে চুক্তি করে। এছাড়া চুক্তির নাম করে প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ পাচারের খবর পেয়ে আমরা চট্টগ্রামমুখী ওই ট্রাকগুলো সন্ধ্যার পর কেপিএমের মূল ফটকে গতিরোধ করি। ট্রাকগুলো তল্লাশি করে দেখতে পাই, স্ক্র্যাপ যন্ত্রাংশের পাশাপাশি নতুন যন্ত্রাংশও পাচার করা হচ্ছে।  

কাপ্তাই থানা পুলিশের এসআই মো. খলিল এই দৈনিক অধিকারকে জানান, মালামাল গ্রহীতা গেট পাস ছাড়া গাড়ি ভর্তি মালামালের বৈধ কোনো কাগজপত্র তাৎক্ষণিক দেখাতে পারেনি। এ সময় স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ঠিকাদারের ওপর চড়াও হলে ঘটনাস্থল থেকে তাদের দ্রুত ট্রাক ভর্তি মালামালসহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসি। 

ঘটনার পর ওইদিন চন্দ্রঘোনা ইউপি কার্যালয়ে রাত সাড়ে ৮টায় স্থানীয় প্রশাসন ও কেপিএম ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্তক্রমে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা সদরে উপস্থিত হয়। তবে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত স্ক্র্যাপ যন্ত্রাংশের কোনো বৈধ কাগজপত্রই দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছে চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবি। 
 
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, কেপিএমের যোগসাজশে এসব যন্ত্রাংশ পাচারের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে রাতভর গোপন বৈঠক করে বিভিন্ন কাগজ হাতে ঘষামাজার মাধ্যমে তৈরি করে কেপিএম কর্তৃপক্ষ। যার ফলশ্রুতি হিসেবে সকালে কেপিএমের প্যাডে বিসিআইসির ভুয়া সভার কথা উল্লেখ করে সচিবের স্বাক্ষর জাল করে এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে সকলের সামনে কাগজ উপস্থাপন করে। 

এ দিকে কর্ণফুলী পেপার মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম এম এ কাদেরের পক্ষে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহাব্যবস্থাপক (এমটিএস) স্বপন কুমার সরকার, কেপিএমের ব্যবস্থাপক আহসান আলী ভূইয়াসহ আরও অনেকে। 

এই ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে কেপিএমের ব্যবস্থাপক আহসান আলী ভূইয়া জানান, ট্রাকভর্তি জব্দ করা মালামালের বিসিআইসি কর্তৃক বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও বৈধ উপায় অবলম্বন করে করা হয়েছে। 

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেল বলেন, কর্ণফুলী পেপার মিলস থেকে মালবাহী তিনটি ট্রাক আটক করে স্থানীয় জনতা। যেখানে চকচকে নতুন প্যাকেটকৃত লোহার ব্লেড ও মালামাল রয়েছে। এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে নেন। এ সময় পুলিশের কাছে উপস্থাপনকৃত কাগজপত্রে বিসিআইসির অনুমোদিত কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি কেপিএম কর্তৃপক্ষ। 

কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মফিজুল হক বলেন, বিসিআইসির বোর্ড সভার অনুমোদন ছাড়া এমন কাজ (স্ক্র্যাপ বিক্রয়) যদি কেপিএম কর্তৃপক্ষ করে থাকে, তাহলে আমি এটাকে চুরি বলব। আমার মনে হয় উচ্চ পর্যায়ের একটি মহল কেপিএমের এমডিকে এ ঘটনা থেকে বাঁচাতে চেষ্টা চালাচ্ছে। 

আরও পড়ুন : অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী শরিফুলকে বরণ

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চন্দ্রঘোনার কেপিএম এলাকায় জনসাধারণে ক্ষিপ্ত থাকার খবর পাওয়া গিয়েছে। এ বিষয়ে কাপ্তাই থানার ওসি মো. নাছির উদ্দিন জানান, বর্তমানে কেপিএমে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশের টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিসিআইসির বোর্ড সভার অনুমোদিত বৈধ কাগজ উপস্থাপন করা হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হবে। 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড