• বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মালয়েশিয়াগামী ট্রলার যাত্রীদের অধিকাংশই যুবতী

  কক্সবাজার প্রতিনিধি

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৫৩
মালয়েশিয়াগামী যাত্রী
মালয়েশিয়াগামী নারী যাত্রী (ছবি : দৈনিক অধিকার)

অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়াগামীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল সুন্দরী রোহিঙ্গা যুবতী। বিয়ে করে সংসারী হতে দল বেঁধে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন তারা। এদের কারও সদ্য বিয়ে হয়েছে, কারও বিয়ে হয়েছে বছর দুয়েক আগে। আবার অনেকে বিয়ে চূড়ান্ত করে যাচ্ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের স্বামী মালয়েশিয়াতে অবস্থান করছে। তাই জীবনবাজি রেখে সাগর পাড়ি দিয়ে প্রিয়জনদের কাছে যাচ্ছিলেন এসব রোহিঙ্গা যুবতী। পাসপোর্ট জটিলতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথ বেছে নেন বলে জানান উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা যুবতীরা। 

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারটি ডুবে নিহত ১৫ জনের মধ্যে ১১ জনই নারী। আবার উদ্ধার হওয়া ৭২ জনের মধ্যেও ৪৬ জন নারী। যাদের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। তারা কেউ স্বামীর কাছে যাচ্ছিলেন, আবার কেউ যাচ্ছিলেন রোহিঙ্গা যুবকদের সঙ্গে বিয়ের উদ্দেশে। 

টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খতিজা বেগম, মধুরছরা ক্যাম্পের রোকসানা বেগম, জাদিমুরার হোসনে আরা, লম্বাশিয়ার ইয়াসমিন, কুতুপালংক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রাজুমা আকতারসহ উদ্ধার হওয়া যুবতীরা জানান, তাদের স্বামী মালয়েশিয়ায় থাকেন। স্বামীরাই দালালদের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। পাসপোর্ট করার কোনো সুযোগ না থাকায় এ পথ বেছে নেন তারা।

কুতুপালংক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রাজুমা আকতার জানান, মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত এক রোহিঙ্গা যুবকের সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। বিয়ে করে সংসারী হওয়ার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলাম। কিন্তু পথিমধ্যে এমন দুর্ঘটনায় পতিত হব কখনো ভাবিনি। মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য দালালদের ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও জানান ওই যুবতী। 

এসব সুন্দরী যুবতীদের সঙ্গে কিছু বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাও রয়েছেন। এদের মধ্যে নুরবানু ও ছলেমা খাতুন বলেন, স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় ট্রলারে মালয়েশিয়া পৌঁছাতে চেষ্টা করেছিলাম। এভাবে মাঝ সাগরে ট্রলার ডুবে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে কল্পনাও করিনি। 

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা যুবক, এদেশে অবস্থানরত তাদের বৌ ও প্রেমিকা এবং দালালচক্র এই তিনের সমন্বয়ে অবৈধপথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিচ্ছিলেন শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু। নিরাপদে মালয়েশিয়া পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রথম দফায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেয় দালাল চক্র। 

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধারে বিমান বাহিনীর দুইটি হেলিকপ্টার, নৌ বাহিনীর ডুবুরি ও কোস্টগার্ডের প্রশিক্ষিত সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। 

নৌ বাহিনীর সেন্ট মার্টিনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট জায়েদ জানান, ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে আমরা ৭২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। তবে মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী, যাদের বয়স ২০ থেকে ২২ এর মধ্যে। তাদের অনেকে মালয়েশিয়াতে তাদের স্বামীর কাছে যাচ্ছেন এবং কেউ মালয়েশিয়াতে থাকা রোহিঙ্গা যুবকদের সঙ্গে বিয়ের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বলে জানান তিনি। 

আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক চুক্তি বাতিল ফিলিপাইনের

টেকনাফ নৌ পুলিশের ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছাকাছি রোহিঙ্গাদের বহনকারী ট্রলার ডুবির ঘটনায় ১৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৫ জনের মধ্যে ১১ জন নারী ও চারজন শিশুও রয়েছে। নৌ বাহিনীর ডুবুরি দল, কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী টিম, বিজিবি ও পুলিশসহ উদ্ধারকর্মীরা জীবিত উদ্ধার করেছে ৭৩ জনকে। এর মধ্যে ৪৬ জন নারী, ২২ পুরুষ ও চারজন শিশু রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০ শিশু নিখোঁজ রয়েছে।  

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড