• শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এবার রাকিবুলকে নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ময়মনসিংহবাসীর

  মো. আজিজুর রহমান ভূঞা বাবুল, ময়মনসিংহ

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:০৩
রাকিবুল হাসান
রাকিবুল হাসানের গ্রামের বাড়িতে রয়েছে পুরনো টিনের ঘর। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে ম্যাচের উইনিং রানের সংগ্রাহক বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার নগরবেরা উত্তর বাঁশাটী গ্রামের ছেলে। রাকিবুল পরিবারের সঙ্গে ঢাকা থাকলেও গ্রামের মানুষ তাকে নিয়ে গর্ব করে। এবার তারা আরও আনন্দিত রাকিবুলের বিশ্ব জয়ের কারণে। এই আনন্দ রাকিবুলের পরিবারেও। তার বাবা শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ মিয়া এই আনন্দ গ্রামের মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে চান। নিজ গ্রামসহ এলাকার মানুষের বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাসের খবর শুনে তিনি বলেন, ছেলে (রাকিবুল হাসান) দেশে আসলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আনুষ্ঠানিকতা শেষে গ্রামে আসব। গ্রামের মানুষদের সঙ্গে এ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিব।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাকিবুল হাসানের গর্বিত বাবা শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ মিয়া মুঠোফোনে দৈনিক অধিকারকে বলেন, বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমরা (পরিবার) খুবই খুশি। আশা করি রাকিবুল দ্রুতই জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়ে দেশের সুনাম ও মর্যাদা বাড়াতে মাঠে ভূমিকা রাখতে পারবে।

ক্রিকেটে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ নিজেদের করে নিতে জয় সূচক রান করে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন রাকিবুল হাসান। ২৫ বলে ৯ রান যদিও তেমন কিছু নয় কিন্তু দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে অধিনায়ক আকবর আলীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন রাকিবুল হাসান। রাকিবুল পুরো টুর্নামেন্টই বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করার পাশাপাশি তার করা উইনিং রান সংগ্রহের মাধ্যমে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ-উল্লাস শুরু হয়ে যায়। ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় জয়ের এ আনন্দ-উল্লাস পৃথিবীর বুকে থাকা বাংলাদেশিদের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়। এ সময় বাদ যায়নি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রকিবুল হাসানের নিজ গ্রামও। 

যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম নায়ক অলরাউন্ডার রাকিবুল হাসান খুবই সাধারণ পরিবারে জন্ম। তার গর্বিত বাবা শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ মিয়া একজন গাড়িচালক। গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে ড্রাইভিং শিখেন তিনি। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে রাকিবুল হাসান দ্বিতীয়। বড় মেয়ে নীপা বর্তমানে ইডেন কলেজ থেকে অনার্স শেষ করেছেন। রাকিবুল হাসান দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আর তার ছোট ভাই নবম শ্রেণির ছাত্র।

চূড়ান্ত খেলায় উইনিং রান সংগ্রহের মাধ্যমে বিশ্বকাপ জয়ের খবর টেলিভিশনের মাধ্যমে ফুলপুরে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। উপজেলা সদরসহ গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় চলে মিষ্টিমুখ ও আনন্দ উল্লাস। এছাড়াও ফুলপুর উপজেলা চত্বরে মিষ্টিমুখ করিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অনেকেই তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে অভিনন্দন জানান। ফুলপুর উপজেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে বের হয় আনন্দ মিছিল। মিছিলে-মিছিলে স্লোগানে-স্লোগানে ফুলপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে রাকিবুলের জন্য ভালোবাসার উচ্ছ্বাস।

রাকিবুল হাসানের গ্রামের বাড়িতে রয়েছে মাত্র একটি পুরনো টিনের ছোট্ট ঘর। এখনো বিদ্যুতের আলো পৌঁছায়নি তাদের বাড়িতে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, রাকিবুল এ গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও স্থায়ীভাবে তার পরিবার ঢাকায় থাকেন। তবে বছরে কয়েকবার গ্রামে বেড়াতে আসেন তারা। গ্রামে এলে স্থানীয় কিশোরদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি এলাকার রূপসী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ক্রিকেটও খেলেন তিনি।

রাকিবুলদের ফুফু থাকেন এখন সেই ছোট্ট পুরনো ঘরে। মঙ্গলবার বিকালে রাকিবুলের ফুফু রোখসানা খাতুনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, রাকিবুলের পড়া থেকে মাঠেই পড়ে থাকত মন। সুযোগ পেলেই ক্রিকেটে মেতে থাকত। এজন্য আমরা বিরক্ত হলেও এখন সে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার পরিচয়ে এখন আমারা নতুন করে পরিচিতি পাচ্ছি। সবাই আমাদের বাড়িতে খোঁজ নিতে আসছে, এতে আমরা খুবই আনন্দিত। 

প্রতিবেশীরা বলেন, শহীদ মিয়ার ছেলে রাকিবুল যে যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলছেন, এ খবর প্রথম থেকেই এলাকাবাসী জানত। তবে গ্রামের কিশোররা এ খবর বেশি রাখে। এলাকার কিশোররা বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই রূপসী বাজারে গিয়ে রাকিবুলের খেলা দেখে উল্লাস করেছে।

আরও পড়ুন : ঝালকাঠির দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুজন হতে চান শিক্ষক

তবে আনন্দ বেশি করে ফাইনাল খেলায়। টান টান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বজয়ের শেষ রানটা আসে রাকিবুলের ব্যাট থেকে। এতে উল্লাসে ফেটে পড়ে কিশোর-যুব-বৃদ্ধরা। এর থেকে বেশি আনন্দ আর কী হতে পারে! এখনো আনন্দের ঘোর কাটছেই না গ্রামবাসীর। রাতে অন্ধকারের মধ্যেই গ্রামের মানুষ নেচে-গেয়ে উল্লাস করে। তারা আগামী দিনে রাকিবুলের হাত ধরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখে।

ওডি/এএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড