• শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নন্দীগ্রামে আতঙ্কিত রাস্তাপাড়ের মানুষ

  মনির জামান, নন্দীগ্রাম (বগুড়া)

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৪৮
নন্দীগ্রাম
বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের পাশে ভূমিহীন মানুষের বসতঘর (ছবি : দৈনিক অধিকার)

‘আমরা জীবনের অনেক ঝুঁকি নিয়ে এখানে বসবাস করছি। সারাদিন কাজকর্ম শেষে রাতে যখন পরিবার নিয়ে ঘুমাতে যাই তখন বুকের ভেতর ধুক ধুক করে, আর বার বার মনে হয় সকালে সুস্থ অবস্থায় জাগা পামু তো?’ কথাগুলো বললেন, বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের পাশের বসতির নুরুল ইসলাম। 

বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক। মহাসড়কের দুই পাশে ভূমিহীনরা বসতবাড়ি স্থাপন করে বসবাস করে আসছে। কিন্তু তাদের জীবনের নেই কোনো নিরাপত্তা। 

মহাসড়কের দুই পাশেই বন বিভাগের গাছ লাগানো রয়েছে। এর মধ্যে আবার ভূমিহীন মানুষের বসতবাড়ি। যেখানে অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করতে হয় তাদের। মহাসড়কের পাশে বসতি গড়ে ওঠায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। এই অবস্থা দীর্ঘদিনের যা দেখার মতো কেউ নেই। 

মহাসড়ক দিয়ে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। অনেক সময় বাস-ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে উল্টে যায়। আবার কোনো সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে বসতঘরে ঢুকে পড়ে। এভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেই চলছে। 

ভূমিহীন মানুষদের খাস জায়গা অথবা খাস পুকুরপাড়ে বসতবাড়ি স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটত না। ওমরপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে ভূমিহীন মানুষদের বেশি বসতি রয়েছে। যার কারণে সেখানেই বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার ওমরপুর সড়ক পাড়ায় গিয়ে বসতিবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার পরপরই তারা সড়কের পাশে বেড়ার ঘর করে বসবাস শুরু করে। তাদের এ বেড়ার ঘর তৈরি করতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। এই বসতিতে প্রায় একশ পরিবার রয়েছে। বর্তমানে তারা নন্দীগ্রাম পৌরসভার ভোটার। 

আরও পড়ুন : সেন্ট মার্টিনে ট্রলার ডুবির ঘটনায় আরও এক রোহিঙ্গা উদ্ধার

সেখানে বসবাসকারী রাজু আহম্মেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, রাশেদ খন্দকার ও রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, নিজেদের কোনো জায়গা না থাকায় আমার এখানে ঘর তৈরি করে বসবাস করছি। প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে বসবাস করতে হয়। সরকার আমাদের জন্য গুচ্ছ গ্রামের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে জীবনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতাম। 

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দীকি জুয়েল জানান, সরকারিভাবে তাদের বাসস্থানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পৌরসভা থেকে তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। 

মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এসব বসতিবাসীর প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।  

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড