• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

২৫ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি নেয়াজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়

  এস এম ইউসুফ আলী, ফেনী

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:৩০
ফেনী
নেয়াজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ফেনীতে প্রায় আড়াই দশক ধরে বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষক। শুধু তাই নয় বিদ্যালয়ের টিনশেডের ঘরটিও তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর সহযোগিতায়। স্কুল প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত জাতীয়করণ হয়নি। এতে করে শিক্ষকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে জেলার সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নেয়াজপুরে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে লেমুয়া ইউনিয়নের নেয়াজপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় নেয়াজপুর গ্রামে জুলফিকার হায়দারের বাড়ির সামনে মক্তবের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১৯৯৬ সালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ৩৩ শতক জায়গার ওপর স্কুলটি স্থানান্তরিত হয়। স্কুলটি শুরু থেকে প্রধান শিক্ষক রীতা রানী মৈত্রী, সহকারী শিক্ষক বীনা রানী দাস, ২০১৩ সাল থেকে দিলরুবা বেগম ও সাইদুল হক দায়িত্ব নিয়ে বিনাবেতনে পাঠদান করাচ্ছেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করায় স্কুলের মায়াও ছাড়তে পারছেন না তারা। স্কুল পরিচালনা করার জন্য ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ১ লাখ ও ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ওই টাকা দিয়ে স্কুলের মেঝে ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। সরকারি ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় বিদ্যালয়টির অবস্থা জরাজীর্ণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জীর্ণ টিনের ঘর, ভাঙা দরজা-জানালা, চেয়ার-টেবিল বেঞ্চের সংকটাপন্ন পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গ্রামবাসী ও শিক্ষকদের অর্থায়নে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হলেও টিনশেডের ঘরটি অর্থাভাবে সংস্কার সম্ভব হয়নি। যার ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলছে পাঠদান। আসবাবপত্র, সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনেরও রয়েছে সমস্যা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বৃষ্টি হলে পানি পড়ে বইপত্র ভিজে যায়। জোরে বাতাস শুরু হলে ভয়ে সবাই বাড়িতে চলে যায়। প্রতি ঈদে এলাকার মানুষ থেকে টাকা নিয়ে শিক্ষকদের সম্মানী দেওয়া হয়।

ওই স্কুলের খণ্ডকালীন শিক্ষক সাইদুল হক জানান, এ বিদ্যালয় থেকে তিনি ২০০০ সালে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেন। সরকারি কোনো অনুদান না পাওয়ায় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়। যার কারণে বিনাবেতনে তারা পাঠদান করাচ্ছেন। এলাকার কোমলমতি শিশুদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে এ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

ঠিকাদার আবদুল হক জানান, ১৯৯৫ সালে এ বিদ্যালয় থেকে তিনি পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেন। বর্তমানে স্কুলটির খুবই জরাজীর্ণ অবস্থা। তিনি নিজেই স্কুলের জন্য বিভিন্ন আসবাবপত্র কিনে দিয়েছেন বলে জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য অজিউল্যাহ জানান, স্কুল পরিচালনা কমিটি সক্রিয় না হওয়ার কারণে বিদ্যালয়টির বেহাল দশা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেতনের জন্য অনেক সময় তার কাছে আসেন। অনুদান না থাকায় বিদ্যালয়টির সহযোগিতা করা সম্ভব হয় না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রীতা রানী মৈত্রী জানান, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ না হওয়ায় আমরা শিক্ষকরা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। ফেনী থেকে নিয়মিত যাতায়াত করে স্কুলে যেতে হয়। দ্রুত বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাতীয়করণের সময় রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেনি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আরও পড়ুন : কিশোরগঞ্জের প্রাচীন কুড়িখাই মেলা শুরু

জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরীন সুলতানা বলেন, সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের সময় উদ্যোক্তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে কাগজপত্র জমা দেননি। এখন প্রশাসনের কিছু করার নেই। পরবর্তী সময়ে জাতীয়করণের জন্য সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ওডি/জেএস

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড