• বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ঘুষের দাবিতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, ৭০ হেক্টর বোরো চাষে অনিশ্চয়তা

  এম.কামাল উদ্দিন, রাঙ্গামাটি

৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:২০
বোরো ধান রোপনের নির্ধারিত সময় অতিবাহিত
বোরো ধান রোপণের সময় অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পানির অভাবে পড়ে রয়েছে আবাদি জমি (ছবি : দৈনিক অধিকার)

রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নে বিল পরিশোধ করার পরও ঘুষের দাবিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে সেচের অভাবে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মাঠেই। ইতোমধ্যে ধান রোপণের নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার উপক্রম হলেও বিষয়টি সমাধান হচ্ছে না। ফলে ৭০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, উপজেলার পোয়াপাড়া (বি)-৩৯, লোয়ার পোয়াপাড়া (বি)-৩৮, ছোটডলু (বি)-৪৩ ও ছোট ডলু (বি)-১২৬ এ চারটি ব্লকে মোট চারটি সেচ পাম্প ব্যবহার করে তারা প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে শতাধিক কৃষক শুকনো মৌসুমে বোরো চাষ করে আসছেন। তারা মৌসুমি সবজি, ভুট্টা ও ধনিয়া উৎপাদন করে থাকেন। এজন্য দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সংযোগ নিয়ে নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাউখালীর বেতবুনিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহের নতুন আবাসিক প্রকৌশলী অশোক কুমার ঘোষ আগাম ঘোষণা ছাড়াই মাস খানেক আগে চারটি সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন।
 
পোয়াপাড়া (বি)-৩৯ স্কিম ম্যানেজার কৃষক মো. সুলতান বলেন, ‘বিদ্যুৎ অফিসে অনেক ঘোরাঘুরি করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। সময় চলে যাচ্ছে। বিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের পুনঃসংযোগের জন্য আবাসিক প্রকৌশলী অশোক কুমার ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করছেন। বিষয়টি স্থানীয় কৃষি বিভাগকে জানিয়েছি।’

কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে তিন কানি (১২০ শতক) জমিতে বোরো চাষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পানির অভাবে তা আর করতে পারছি না। কিছু জমি চাষাবাদ করলেও পানির অভাবে তা মরে যাচ্ছে।’
 
লক্ষ্মীধন চাকমা বলেন, ‘দুই কানি জমিতে ভুট্টা ও ধনিয়া পাতা চাষ করেছিলাম। পানির অভাবে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ 

কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চার কানি জমিতে বোরো চাষ করতে বীজতলা করেছি। পানি না থাকায় এসব বীজতলা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। পানির অভাবে জমি সেচ দিতে না পারায় জমি খালি পড়ে আছে।’ 

আবাসিক প্রকৌশলীর এমন হটকারী সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তৈয়ন নূর। বলেন, ‘অফিসে গিয়ে আবাসিক প্রকৌশলীকে অনুরোধ করেছি। কাজ হয়নি। বিদ্যুৎ বন্ধ করে চাষাবাদ আটকে দেওয়াটা অমানবিক, আইন বিরুদ্ধ।’ 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ক্যজাই মারমা জানান, ‘নির্ধারিত সময়ে চাষাবাদ করতে না পারলে ৭০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা কৃষকরা সর্বশান্ত হয়ে যাবে। এ আবাসিক প্রকৌশলীর আরও নমনীয় হওয়া প্রয়োজন। না হলে ক্ষতির সম্মুখীন হবে রাষ্ট্র ও কৃষকরা।’

আরও পড়ুন : নন্দীগ্রামে নিউমোনিয়ায় শিশুর মৃত্যু

আবাসিক প্রকৌশলী অশোক কুমার ঘোষ জানান, ‘প্রতি পাম্প এক কিলোভোল্ট বলে ১০-১৫ কিলো পর্যন্ত নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করে আসছেন কৃষকরা। তাই তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আর ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি অবান্তর।’


ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড