• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা উধাও

  এস এম ইউসুফ আলী

  ফেনী

২১ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৪৫
ফেনী
সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা উধাও (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ফেনীর পরশুরামে গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গিয়েছে সমবায় সমিতির কথিত কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ গত ২ থেকে ৩ মাস আগে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সুবার বাজারে রজনীগন্ধা সার্বিক উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা গ্রাহকের প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে রাতের আঁধারে উধাও হয়ে গেছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

গত কয়েক বছর আগে আত্মকল্যাণ সমবায় সমিতি ও প্রতীতি বহুমুখী সমবায় সমিতির কর্মকর্তারাও গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে অফিসে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দেন। এই বিষয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মো নুরুল করিম রজনীগন্ধা সার্বিক উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমবায় সমিতি গঠন করেন এবং পাস বইয়ের মাধ্যমে বাজারের ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ থেকে সঞ্চয়, এফডিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকার আমানত সংগ্রহ করেন।

এছাড়াও অগ্রণী ব্যাংক সুবার বাজার শাখা থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেন। কিন্তু ২ থেকে ৩ মাস আগে নুর করিম গ্রাহকদের টাকা নিয়ে গা ঢাকা দেয়।

বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীরা তাদের জমাকৃত টাকা ফেরত পেতে সহায়তা কামনা করে বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তা, উপজেলা সমবায় অফিসসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করেন।

পরবর্তীতে বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তারা রজনীগন্ধা সমবায় সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে বন্ধ দেখতে পায় এবং চেয়ারম্যান নুরুল করিমের ব্যবহৃত নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়। বর্তমানে গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত মূলধন হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

সুবারবাজারের চা দোকানদার বাবুল জানান, তার কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকা সঞ্চয় আদায় করে বর্তমানে করিম অফিস বন্ধ করে পালিয়েছে।

গ্রাহক মাওলানা ইউসুফের প্রায় দেড় লাখ টাকা, হাসান কসমেটিক্সেরর ১ লাখ টাকা, রাখাল নামের আরেক ব্যবসায়ীর ৫০ হাজার টাকা, উত্তম ২৯ হাজার টাকা, মমিনের ২০ হাজার টাকাসহ অর্ধশত ব্যবসায়ীর প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে উধাও হয়ে গেছে রজনীগন্ধা সার্বিক উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান।

এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক সুবার বাজার শাখার কাছ থেকে সমিতির নামে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়ায় বর্তমানে সমিতির ঘরে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে ব্যাংক কর্মকর্তারা। অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম জানান, তার শাখা থেকে মো. নুরুল করিম ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছে। কিন্তু গত একমাস ধরে তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের অফিস সহকারী মনছুর জানান, রজনীগন্ধা সার্বিক উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড উপজেলা সমবায় অফিসের নিবন্ধকৃত একটি সমবায় সমিতি।

সুবার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনজুরুল আলম জানান, ওই সমিতির প্রায় ৩৯ জন সদস্য বাজারের ছোট-বড় ব্যবসায়ী। তাদের টাকা নিয়ে রজনীগন্ধার চেয়ারম্যান নুরুল করিম পালিয়ে গেছে বলে ব্যবসায়ী সমিতির নিকট অভিযোগ করেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জমান ভুট্টুকে রজনীগন্ধা সমবায় সমিতির কর্মকর্তা গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবহিত করা হয়েছেন।

একইভাবে পরশুরাম বাজারের আত্মকল্যাণ সমবায় সমিতি গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে গত কয়েকবছর ধরে অফিস বন্ধ করে পালিয়ে গেছে। এছাড়াও প্রতীতি বহুমুখী সমবায় সমিতির গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে সমিতির কার্যক্রম বন্ধ করে জুনিয়র স্কলার স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু গ্রাহকদের টাকা এখনো পরিশোধ করেনি।

জেলা সমবায় অফিস থেকে পরশুরাম উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানকে রিকুইজিশন করতে লিখিত চিঠি দেওয়া হয়।

একাধিক সমবায় সমিতি এভাবে গ্রাহকদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করলেও উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে কোনো ধরনের উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

উপজেলার পৌর এলাকার মো. মোস্তফা নামের এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী, বোনসহ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রতীতি বহুমুখী সমবায় সমিতি স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান প্রায় ৩০ হাজার টাকা সঞ্চয় নিয়ে আত্মসাৎ করে। পরে সভাপতির বিরুদ্ধে সমবায় কর্মকর্তা মিলন দাসের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু সমবায় কর্মকর্তা গ্রাহকদের টাকা উদ্ধারে কোনো সহযোগিতা না করে বরং বিভিন্ন অজুহাতে অভিযোগকারীকে হয়রানি করে যাচ্ছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তা মো. মোস্তফা অভিযোগ করেন।

পরশুরাম উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মিলন কান্তি দাস জানান, রজনীগন্ধা সার্বিক উন্নয়ন সমবায় সমিতি নামের কোনো প্রতিষ্ঠান আছে কিনা তার জানা নেই। গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ বিষয়টি লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন : দুদকের মামলায় পৌর মেয়রসহ ৫ জন কারাগারে

বাউরপাথর গ্রামের পুলিশ কর্মকর্তা মো. মোস্তফা তার পরিবারের সদস্যদের টাকা আদায়ের বিষয় লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয় মিলন কান্তি দাস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ওডি/জেএস

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড